


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ঐক্যমঞ্চের নবান্ন অভিযান ঘিরে সোমবার কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে হাওড়া শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা জি টি রোড। এদিন দুপুরে হাওড়া স্টেশন থেকে মিছিল করে বঙ্কিম সেতু হয়ে জি টি রোডের মল্লিক ফটকের কাছে পৌঁছন আন্দোলনকারীরা। সেখানে ব্যারিকেড বেঁধে তাঁদের আটকে দেয় পুলিস। দীর্ঘক্ষণ সেখানেই বসে বিক্ষোভ দেখান চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকারা। এরপর তাঁদের এক প্রতিনিধিদল শিবপুর পুলিস লাইনে গিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠক করে। উচ্চপদস্থ পুলিস কর্তাদের সঙ্গেও দীর্ঘক্ষণ আলোচনা চলে। যদিও এদিন কোনও রফাসূত্র বের হয়নি বলে দাবি করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষিকারা। যোগ্য-অযোগ্যদের সম্পূর্ণ তালিকা এসএসসি’র ওয়েবসাইটে পাবলিশ না হওয়া পর্যন্ত রাতভর জি টি রোডে অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেয় যৌথ মঞ্চ। যদিও পরে ওই অবস্থান প্রত্যাহার করে নেন তাঁরা।
এদিন দুপুর ১২টা নাগাদ হাওড়া ময়দান থেকে মিছিল শুরু হওয়ার কথা থাকলেও প্রায় এক ঘণ্টা পর হাওড়া স্টেশন থেকে আন্দোলনকারীদের নবান্ন অভিযান শুরু হয়। দুপুর আড়াইটে নাগাদ বঙ্কিম সেতু পেরিয়ে মল্লিক ফটকের কাছে আসতেই আটকে দেওয়া হয় প্রায় তিন হাজার আন্দোলনকারীকে। সেখানে লোহার ভারী ব্যারিকেড বসানো হয়েছিল। মোতায়েন করা হয়েছিল হাওড়া সিটি পুলিস সহ একাধিক পুলিস কমিশনারেট থেকে আনা বিশাল বাহিনী। প্রস্তুত ছিল জল কামানও। যদিও মিছিল ঘিরে এদিন কোনও উত্তেজনা ছড়ায়নি। ব্যারিকেডে বাধা পেয়ে রাস্তায় বসে পড়েন যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ঐক্যমঞ্চের সদস্যরা। স্লোগান দিতে শুরু করেন তাঁরা। ব্যারিকেড পার করে নবান্নের দিকে অগ্রসর হওয়ার জন্য পুলিসের উচ্চপদস্থ কর্তাদের বারবার অনুরোধ জানাতে থাকেন তাঁরা। এরপর যৌথ মঞ্চের তরফে ২০ জনের এক প্রতিনিধিদলকে মুখ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠকে বসার অনুমতি দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী যৌথ মঞ্চের ১৮ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ২ জন শিক্ষাকর্মী শিবপুর পুলিস লাইনে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের সঙ্গে আলোচনার জন্য যান। প্রায় দশ মিনিট বৈঠক হয় তাঁদের। এরপর পুলিসের উচ্চপদস্থ কর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক হয় যৌথ মঞ্চের প্রতিনিধিদের।
সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ শিবপুর পুলিস লাইন থেকে জি টি রোডের অবস্থান-বিক্ষোভস্থলে ফিরে আসে প্রতিনিধি দলটি। মুখ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠকে কোনও সমাধান সূত্র বের হয়নি বলে দাবি করেন তাঁরা। যৌথ মঞ্চের তরফে চিন্ময় মণ্ডল, সুমন বিশ্বাস, মৃন্ময় মণ্ডল, রবিউল ইসলামরা বলেন, ‘মূলত তিনটি দাবি নিয়ে আমরা মুখ্যসচিবের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলাম। সোমবার রাতের মধ্যেই এসএসসি’র অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে যোগ্য ও অযোগ্যদের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করতে হবে বলে দাবি রেখেছি আমরা। কিন্তু সরকারের তরফে এখনও আলোচনা করে দেখা হবে বলা হচ্ছে।’ প্রথমে রাতভর জি টি রোডেই অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন আন্দোলনকারীরা। রাজ্যকে দ্রুত তালিকা প্রকাশ করতে হবে বলে অবশেষে রাত ৮টা নাগাদ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন তাঁরা। তালিকা প্রকাশ না হলে শীঘ্রই বড় আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।