নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এক বছরের মধ্যে ধাপা থেকে জঞ্জালের পাহাড় সরাতে হবে। কলকাতা পুরসভাকে এই কঠিন টার্গেট বেধে দিয়েছে কেন্দ্র। সম্প্রতি নিউটাউনের একটি হোটেলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং আধিকারিকদের সঙ্গে রাজ্য সরকারের একটি বৈঠক হয়। সেখানে রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, কলকাতা পুরসভার কমিশনার এবং প্রশাসক স্মিতা পান্ডে ও অন্যান্য আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। সেই বৈঠকে ধাপায় জঞ্জালের পাহাড় নিয়ে আশঙ্কাপ্রকাশ করা হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। পাশাপাশি জঞ্জাল পুনর্নবীকরণের সময়সীমাও বেধে দেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, ধাপায় জমে রয়েছে প্রায় ৯০ লক্ষ মেট্রিক টন বর্জ্য। যা কার্যত পাহাড়ের মতো আকার নিয়েছে। এর আগে একটি সংস্থা নিয়োগ করে একাধিক দফায় ১২ লক্ষ মেট্রিক টন বর্জ্য পুনর্নবীকরণ হয়েছিল। কিন্তু তারপরও রোজ জঞ্জাল জমেছে। তা জমতে জমতে এখন প্রায় ৯০ লক্ষ মেট্রিক টন ছুঁয়েছে। নতুন করে আর সেখানে জঞ্জাল জমানো যাবে না। বিপুল পরিমাণ বর্জ্য এক বছরের মধ্যেই ব্যবস্থাপনা করে ফেলতে হবে বলে পুরসভাকে টার্গেট দিয়েছে কেন্দ্র। প্রয়োজনে একটির জায়গায় একাধিক সংস্থাকে দায়িত্ব দিয়ে এই প্রক্রিয়া সারতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিভাবে কী কাজ হবে, মাসিক কিস্তিতে দফায় দফায় কত পরিমাণ বর্জ্য পুনর্নবীকরণ করা হবে তা জানিয়ে ১৫ জুনের মধ্যে কেন্দ্রকে রিপোর্ট পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বৈঠকে। এই কম সময়ের মধ্যে কিভাবে এই বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্ভব তা নিয়ে মাথায় হাত পুরকর্তাদের। প্রশাসন সূত্রে খবর, পুরসভার শীর্ষ কর্তৃপক্ষ এখনও পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কাজে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
এদিকে ধাপায় নতুন পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র তৈরি করতে ৭৩ হেক্টর জমি কিনেছিল পুরসভা। কিন্তু অভিযোগ, জমিদাতাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়া হয়ে গেলেও প্রশাসনিক উদাসীনতায় সেই জমি এখনও পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। ফলে নতুন জমিতে পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইউনিট গড়ার প্রক্রিয়া এখন অথই জলে। এই অবস্থায় নতুন করে ধাপায় বর্জ্য ফেলায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নিয়মিত যে বর্জ্য শহরে উৎপন্ন হচ্ছে, সেগুলি বর্তমানে চালু থাকা বিভিন্ন ইউনিটে পুনর্নবীকরণ করা হচ্ছে। কিন্তু এত বছরের জমে থাকা ৯০ লক্ষ মেট্রিক টন বর্জ্যের ভবিষ্যৎ কি, কিভাবে ব্যবস্থাপনা হবে, সেই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট দিশা নেই পুরসভার কাছে। সম্প্রতি দক্ষিণ কলকাতার বর্ষা প্রস্তুতি বৈঠকে এই বিষয়টি উঠে আসে। শহরে ভূগর্ভস্থ নিকাশি নালা থেকে নিয়মিত ডিসল্টিং করা হয় বা পলি তোলা হয়। যা নিয়মিত ভিত্তিতে ধাপায় ফেলা হয়। কিন্তু কেন্দ্রের নির্দেশের পর এখন সেই পলি ধাপায় ফেলার মত পরিস্থিতি নেই। তা কোথায় ফেলা হবে কিংবা নতুন জমি কোথায়, সেই প্রসঙ্গ উঠে আসে এ দিনের বৈঠকে। যদিও এই বিষয়ে আপাতত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে পুরসভা সূত্রে খবর।