নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: ২০১৪সালে হরিণঘাটায় ‘পথের সাথী’ মোটেল উদ্বোধন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন সেই মোটেল কার্যত ভূতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। সেটি সরকারি গাফিলতি আর দায়িত্বহীনতার জ্বলন্ত নিদর্শনে পরিণত হওয়ায় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ। এবিষয়ে হরিণঘাটার বিডিও মহাশ্বেতা বিশ্বাস বলেন, ভবনটি এখন জেলা পর্যটন দপ্তরের অধীনে রয়েছে। সংস্কার বা ফের চালু করার বিষয়ে তাদের কাছে কোনও নির্দেশ আসেনি।
বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের ঢিলছোড়া দূরত্বে মোটেলটি তৈরি হয়েছিল। ভিনরাজ্য থেকে আসা ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবক ও অন্য যাত্রীরা যাতে সুলভে, নিরাপদে রাত্রিবাস ও গাড়ি পার্কিং করতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই এটি চালু করা হয়। কিন্তু উদ্বোধনের কয়েকবছর কাটতে না কাটতেই প্রশাসনিক টানাপোড়েনে সমস্যা দেখা দেয়। পরিষেবা বন্ধ, দেখভালের দায় নেই। ফলে ধীরে ধীরে সরকারি মোটেলটি পরিত্যক্ত বাড়ির রূপ নিয়েছে।
এখন সন্ধ্যা নামলেই ওই চত্বর জনশূন্য হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎহীন অন্ধকারে আগাছা ও ঝোপঝাড়ে ঢাকা মোটেল দাঁড়িয়ে থাকে। যেখানে একসময় সার দিয়ে গাড়ি দাঁড়াত, এখন বুনো গাছগাছড়া সেই জায়গার দখল নিয়েছে। দোতলা ভবনের দরজা-জানালা নেই। লোহার গ্রিল খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ছাদ থেকে খোলা বিদ্যুতের তার ঝুলতে থাকায় যে কোনও মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। ঘরের ভিতরে উঁকি দিতেই দেখা গেল, ভিতরে মদের ভাঙা বোতল ও আবর্জনা পড়ে আছে। ঘরের ভিতরেও ভাঙচুরের চিহ্ন রয়েছে। কোথাও দরজার পাল্লা নেই, কোথাও গ্রিল উধাও। স্থানীয়রা জানান, রাত বাড়লেই মোটেলে সমাজবিরোধীদের আনাগোনা বাড়ে। নিরাপত্তার অভাবে সন্ধের পর স্থানীয়দের অনেকেই ওই রাস্তা এড়িয়ে চলেন। ২০১৪সালে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ‘পথের সাথী’ প্রকল্প চালু হয়। সেসময় মুখ্যমন্ত্রী এই মোটেলটি উদ্বোধন করেছিলেন। সেই উদ্বোধনী ফলক এখনও দেওয়ালে ঝুলছে। প্রথমদিকে একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর হাতে পরিচালনার দায়িত্ব ছিল। পরে তা পঞ্চায়েত সমিতি, অবশেষে জেলা পর্যটন দপ্তরের হাতে যায়। দায়িত্ব বদলালেও রক্ষণাবেক্ষণে কোনও স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে ধীরে ধীরে পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির মরশুমে রাজ্যের বাইরে থেকেও বহু পড়ুয়া মোহনপুরে আসেন। মোটেলটির বেহাল দশার কারণে তাঁদের অভিভাবকরা সেখানে থাকতে পারেন না। বাধ্য হয়ে তাঁদের বেসরকারি লজে বা দূরের শহরে আশ্রয় নিতে হয়। জনস্বার্থে তৈরি প্রকল্প প্রশাসনিক উদাসীনতায় সমাজবিরোধীদের আখড়ায় পরিণত হওয়ায় এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তৈরি সরকারি সম্পত্তি নষ্ট হতে বসেছে। এর দায়িত্ব নেবে কে-সেই প্রশ্নই তুলেছেন মানুষ।