Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গঙ্গা-পদ্মা ভাঙন রোধের রিপোর্ট হস্তান্তর করেই দায় সারল কেন্দ্রের মোদি সরকার, নেই অর্থ জোগানের দিশা

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গঙ্গা-পদ্মার ভাঙন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই বছরের নভেম্বর মাসে ফের চিঠি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিস্তারিত সমীক্ষা চালিয়ে ভাঙন রোধের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরির জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গড়ার কথা বলেন।

গঙ্গা-পদ্মা ভাঙন রোধের রিপোর্ট হস্তান্তর করেই দায় সারল কেন্দ্রের মোদি সরকার, নেই অর্থ জোগানের দিশা
  • ১০ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রীতেশ বসু, কলকাতা: ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গঙ্গা-পদ্মার ভাঙন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই বছরের নভেম্বর মাসে ফের চিঠি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিস্তারিত সমীক্ষা চালিয়ে ভাঙন রোধের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরির জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গড়ার কথা বলেন। সেই সঙ্গে কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ভাঙন রোধের কাজের জন্য ফ্লাড ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বর্ডার এরিয়া প্রোগ্রামের (এফএমবিএপি) অধীনে কেন্দ্রকে অর্থ বরাদ্দের কথাও বলেছিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বারংবার চিঠির চাপে সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের (সিডব্লুসি) চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি কমিটি গড়ে দেয় দিল্লি। সম্প্রতি সেই কমিটি তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট দিয়েছে। গঙ্গার দু’ধারে পশ্চিমবঙ্গে ১৬৩ কিলোমিটার এবং বিহারে ১৫ কিলোমিটার অংশে কোথায় কী কাজ করতে হবে, তার বিস্তারিত রূপরেখা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে সেই রিপোর্টে।

Advertisement

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কাজের জন্য বাংলায় অন্তত ১৫৫০ কোটি এবং বিহারে ৫৮১ কোটি টাকা প্রয়োজন। রূপরেখা নির্দিষ্ট করে দিলেও এই বিপুল পরিমাণ অর্থের জোগানের ব্যবস্থা রাজ্যগুলি কীভাবে করবে, তার কোনও দিশা নেই কমিটির চূড়ান্ত রিপোর্টে। ফলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের মতো এক্ষেত্রেও কি অর্থ বরাদ্দের ব্যাপারে উদাসীন থেকে সম্পূর্ণ খরচের দায় রাজ্য সরকারের ঘাড়ে ঠেলে দিতে চাইছে কেন্দ্র?
ফরাক্কা ব্যারেজ প্রজেক্ট অথরিটি (এফবিপিএ), সিডব্লুসি,  কলকাতা পোর্ট ছাড়াও বাংলা, বিহার, ঝাড়খণ্ডের প্রতিনিধিদের কমিটিতে রাখা হয়েছিল। ঝাড়খণ্ডের রাজমহল হয়ে মালদহের রতুয়ার যে এলাকায় গঙ্গা পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করছে, সেই এলাকার বেশ কিছু অংশ সহ এ রাজ্যের ৫০-এর বেশি জায়গায় পাড় বাঁধানো, গাছ বসানোর মতো বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে রিপোর্টে। কিন্তু কমিটির যৌথ পরিদর্শনের সময় এবং পরবর্তী বৈঠকে বাংলা-বিহারের তরফে একাধিকবার অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি তোলা হলেও চূড়ান্ত রিপোর্টে তার কোনও দিশা না থাকায় হতাশ রাজ্যগুলি। জলশক্তি মন্ত্রকও গত বছর ৬ ডিসেম্বর এই প্রকল্পকে এফএমবিএপি-তে যুক্ত করতে রাজি হয়। তা সত্ত্বেও চূড়ান্ত রিপোর্টে তার কোনও উল্লেখ করা হয়নি বলেই অভিযোগ। এভাবে মোদি সরকার দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর রীতি লঙ্ঘন করছে বলেও অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে। সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়ার বক্তব্য, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাঙন পরিস্থিতি পরিদর্শন করে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিলেন। ক্ষতিগ্রস্তদের নানা সুযোগ-সুবিধা সুনিশ্চিত করেছে। সেই টাকা কাজে লাগিয়ে অনেকটা কাজ হয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে কেন্দ্রের ভূমিকা অত্যন্ত নিন্দনীয়।’ 
নদী বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কাজে কেন্দ্রেরই অধিকাংশ অর্থ বরাদ্দ করার কথা। কারণ, ২০০৫ সালের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফরাক্কা ব্যারেজের ঊর্ধ্ব অববাহিকায় ৪০ কিলোমিটার এবং নিম্ন অববাহিকায় ৮০ কিলোমিটার (মোট ১২০ কিলোমিটার) অংশে গঙ্গার ভাঙন রোধের যাবতীয় দায়িত্ব ছিল এফবিপিএ’র। যদিও ২০১৭ সালে কেন্দ্র এই দূরত্ব কমিয়ে ১৭ কিলোমিটার (ঊর্ধ্ব অববাহিকায় ১১.৫ কিলোমিটার, নিম্ন অববাহিকায় ৫.৯ কিলোমিটার) করে দিয়েছে। অথচ ভাঙনের ফলে মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদীয়ার ১৫টির বেশি ব্লকের বাসিন্দাদের ১৫০০ কোটির বেশি টাকার সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে। তিন হাজার হেক্টরের বেশি জমি চলে গিয়েছে নদীগর্ভে!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ