সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: হলেনই বা মন্ত্রী! চাষ তাঁর মজ্জায় মিশে আছে। মাটির সোঁদা গন্ধ তাঁকে টানে। লাঙল চষা থেকে আরম্ভ করে ফসলের পরিচর্যা সবটাই তিনি করেন। আগে ছিলেন বিরোধী দলের বিধায়ক। এখন তিনি মন্ত্রী। ইনি হলেন সোনামুখীর বিধায়ক তথা রাজ্যের বন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী দিবাকর ঘরামি। বর্ষা নেমেছে। চাষিরা মাঠে নেমে পড়েছেন। তাই দেখে মন্ত্রী মশাইয়ের মন ঘরে টেকেনি। নিরাপত্তা রক্ষীদের জমির আলে দাঁড় করিয়ে নিজে বলদ দিয়ে মাঠে লাঙল চষতে নেমে পড়েছেন। আর সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই তাঁর সহজ সরল জীবন ফের একবার চর্চায়।
দিবাকরবাবু বলেন, ছোটবেলা থেকেই চাষবাসই আমাদের জীবিকা। লাঙল চষার অভ্যাসও সেই ছোটবেলা থেকেই। চাষের মধ্যে আলাদা আনন্দ আছে। প্রতিটি মরশুমে মাটির আলাদা আলাদা গন্ধ থাকে। মাটির টান কখনও ভুলতে পারব না। এখন বর্ষা এসে গিয়েছে। ভরপুর চাষের মরশুম চলছে। মন্ত্রিত্বের চাপ সত্ত্বেও বাড়ি ফিরেই মাঠে চাষ করতে নেমেছি।
দামোদরের কোল ঘেঁষা সোনামুখীর কুডুমপুর গ্রামের বাসিন্দা দিবাকর ঘরামি। ছোট থেকেই বাবার হাত ধরে চাষের খেতে যাওয়া। পাশাপাশি পড়াশোনা। কম বয়েস থেকেই তিনি বিজেপির অনুরাগী। বাম এবং তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে ধীরে ধীরে তিনি এলাকায় সংগঠন গড়ে তোলেন। সরকারের ভুলত্রুটির প্রকাশ্যে সমালোচনা করতেন তিনি। তার জন্য শাসকদলের চোখ রাঙানিও সহ্য করতে হয়েছে। তবুও তিনি পিছিয়ে যাননি। সেজন্য এলাকায় দাপুটে নেতা হিসাবে পরিচিতি পেয়েছেন। তারই সুবাদে ২০২১ সালে বিজেপি তাঁকে তৎকালীন মন্ত্রী তৃণমূল কংগ্রেসের শ্যামল সাঁতরার বিরুদ্ধে সোনামুখী কেন্দ্রে প্রার্থী করে। দিবাকরবাবু জয়ী হন। এবারের বিধানসভা ভোটে বিজেপি ক্ষমতায় এসে তাঁকে বন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী করে। কিন্তু মন্ত্রিত্ব পেলেও মাটির টান ভোলেননি। কাজের ফাঁকেই চাষ করতে মাঠে নামেন। বর্তমানে আমন চাষের মরশুম চলছে। চাষিদের ব্যস্ততাও তুঙ্গে উঠেছে। আর চাষি দিবাকরবাবুরও মন ঝুঁকেছে মাঠের দিকে। তাঁকে বলদ দিয়ে লাঙল চষতে দেখা গিয়েছে। সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়।
যদিও স্থানীয় বাসিন্দারা দিবাকরবাবুর লাঙল চষার মধ্যে কোনো নতুনত্ব দেখছেন না। তাঁরা বলেন, গত পাঁচবছর বিধায়ক থাকার সময়েও তিনি নিয়মিত মাঠে চাষ করেছেন। পাল্টানোর হলে তিনি পাঁচ বছর আগেই পাল্টাতে পারতেন। এখন মন্ত্রী হয়েও হাল বলদ ভুলতে পারেননি। -নিজস্ব চিত্র