রবিন সিং: রলি-টলি জুটিকে ভোলেননি নিশ্চয়ই। লাল-হলুদ জার্সিতে টোলগে ও রবিন সিং বহু ইতিহাসের সাক্ষী। অন্যতম সেরা ম্যাচ? ২০১০ সালের ঘরোয়া লিগের ডার্বি ভুলব না কখনো। প্রিয় পাঠক, সেদিন আমার জোড়া গোলেই ডার্বি জেতে ইস্ট বেঙ্গল। তারপর সমর্থকদের কাঁধে চেপে ড্রেসিং-রুমে পৌঁছাই। আমার ধারণা, রবিবার বড় ম্যাচে মিগুয়েলরা জিতলে শহর ঢাকবে লাল-হলুদে। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সোনার সুযোগ ইস্ট বেঙ্গলের সামনে। মনেপ্রাণে চাই, মরণবাঁচন ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে টেক্কা দিক ব্রুজোঁর ইস্ট বেঙ্গল।
ডার্বির আগে সেবার টানটান উত্তেজনা। ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে বিদেশি রেফারি। মাঠের অর্ধেক লাল-হলুদ পতাকায় ছয়লাপ। মনে হয়েছিল, সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতে না পারলে জীবন বৃথা। প্রথম গোলের সময় টোলগের ভাসানো বল গ্রিপ করতে গিয়ে ফসকায় শিলটন। পড়ে পাওয়া সুযোগ থেকে জাল কাঁপাই। গোটা দল চার্জড। দ্বিতীয়ার্ধে সেই টোলগের সেন্টারেই মাথায় ছুঁইয়ে ২-০ করি। বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন কোচ মরগ্যান। আহা, গ্যালারির গর্জন কত মধুর। শেষ বাঁশি বাজতেই ফেনসিং টপকে মাঠে নেমে এসেছিলেন সমর্থকরা। সেদিনের জার্সি যত্ন করে তুলে রেখেছি আলমারিতে। ডার্বি এলে এখনও মন ছটফট করে। তাই মিগুয়েলদের অনুরোধ, নিজেদের ২০০ শতাংশ উজাড় করে দিক সবাই। এই ম্যাচ নিজেদের ছাপিয়ে যাওয়ার ম্যাচ। ইতিহাস গড়ার ম্যাচ। ভাগ্যদেবীও ইস্ট বেঙ্গলের উপর কিছুটা সুপ্রসন্ন। বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তে সোয়বার্গের গোল তারই প্রমাণ। আমার বিশ্বাস, মানসিকভাবেও কিছুটা এগিয়ে থেকে নামবে ইস্ট বেঙ্গল। কেন বলছি একথা? ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে মোহন বাগান ফুটবলপারদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বড়ই ম্রিয়মান। কয়েকজন ফুটবলার শেষ মরশুমেও আনফিট। মাঝমাঠে ফিডারের অভাব প্রবল। তার উপর শুনলাম আপুইয়া অনিশ্চিত। মিজো ফুটবলার কি মাঠে নামতে পারবে? তার উপর মাঝমাঠের ব্যালান্স নির্ভর করবে। আপুইয়া না থাকলে সমস্যা বাড়বেই মোহন বাগানের।
অস্কার ব্রুজোঁ কতটা তৈরি? সাউল ক্রেসপোর চোট। স্প্যানিশ কোচ রশিদ, জিকসন, মিগুয়েলকে দিয়ে ত্রিভুজ গড়তে চাইবেন। ব্রাজিলিয়ান মিগুয়েল ছন্দে থাকলে অনেককিছুই সম্ভব। তবে মাঝমাঠে জোনাল মার্কিংয়ের ফাঁদ কেটে বেরতে হবে ব্রাজিলিয়ানকে। পাশাপাশি এডমুন্ডকে প্রথম একাদশে রাখা উচিত। ছেলেটা বেশ ছটফটে। দলকে তাতাতে পারে। খাঁচাটা বড়ো। ডার্বিতে এমন ফুটবলার প্রয়োজন।