নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: পুলিস ও ইন্ডিয়ান অয়েলের সঙ্গে পেট্রল পাম্প মালিকদের সংগঠনের দীর্ঘ বৈঠকেও বের হয়নি সমাধান সূত্র। তাই হাওড়া সিটি পুলিসের ‘নো এন্ট্রি’র নির্দেশিকায় সোমবারও আন্দুল- মৌরিগ্রাম ডিপো থেকে তেলের ট্যাঙ্কার বের করা নিয়ে শঙ্কায় ভুগেছেন ড্রাইভার খালাসিরা। কলকাতাগামী ট্যাঙ্কারগুলোকে পুলিস ছাড়পত্র দিলেও, অন্যান্য জেলার ক্ষেত্রে কী হবে, এখনও কাটেনি সেই জট। এতে সুষ্ঠু জ্বালানি পরিবহণে সঙ্কট জিইয়ে রইল বলেই মনে করা হচ্ছে।
কোনা এক্সপ্রেসওয়ে ও বিদ্যাসাগর সেতুতে লাগাতার মেরামতির কাজ চলছে। এই পরিস্থিতিতে শহরজুড়ে পণ্যবাহী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে ‘নো এন্ট্রি’র নির্দেশিকায় বদল এনেছে হাওড়া সিটি পুলিস। আগে সকাল ন’টা থেকে এগারোটা ও সন্ধে ছ’টা থেকে সাতটা বাদে দিনের বাদবাকি সময়ে জাতীয় সড়ক, কোনা এক্সপ্রেসওয়ে,আন্দুল রোড সহ বিভিন্ন রুট দিয়ে তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল করার সুযোগ ছিল। কিন্তু পুলিসের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, বর্তমানে শুধুমাত্র দুপুর বারোটা থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলের ছাড়পত্র মিলেছে। মাত্র চার ঘন্টায় ডিপো থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচশো ট্যাঙ্কার পাম্পগুলোতে পৌঁছানো সম্ভব নয়, এমনই দাবি তুলে শনিবার প্রায় অর্ধেক বেলা কাজ বন্ধ রাখেন মৌরিগ্রাম ডিপোর ট্যাঙ্কার চালক ও খালাসিরা। তাঁদের অভিযোগ, রাস্তায় ট্যাঙ্কার দেখলেই যেখানে সেখানে পুলিস কেস দিয়ে দিচ্ছে। ফলে প্রচুর টাকা লোকসান হচ্ছে ট্যাঙ্কার মালিকদের। এমন পরিস্থিতিতে রবিবার হাওড়া সিটি পুলিসের ডিসি ট্রাফিক ও সমস্ত ট্রাফিক গার্ডের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ইন্ডিয়ান অয়েল এবং পেট্রল ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্তারা। হাওড়া সিটি পুলিসের তরফে প্রথমে তাদের প্রস্তাব দেওয়া হয়, মৌরিগ্রাম ডিপো থেকে বিদ্যাসাগর সেতুর বদলে আন্দুল রোড, নিবেদিতা সেতু দিয়ে যেন ট্যাঙ্কারগুলোকে কলকাতার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু এতে গাড়িগুলোর ভাড়া বাবদ অতিরিক্ত খরচ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মৌরিগ্রাম ডিপো থেকে বিদ্যাসাগর সেতু হয়ে কলকাতায় প্রতি ঘণ্টায় কতগুলো ট্যাঙ্কার যাতায়াত করে, তার সুনির্দিষ্ট তালিকা পেট্রল ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের কাছ থেকে চাওয়া হয়েছে। সেই ট্যাঙ্কারগুলোকে ছাড় দেওয়ার কথা ভাবছে পুলিস। পাশাপাশি হাওড়া শহরের পাম্পগুলোতে তেল সরবরাহকারী ট্যাঙ্কারগুলিকেও ছাড় দেওয়া হতে পারে। পেট্রল ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, কলকাতার পাম্পগুলোতে ২৫০ থেকে ৩০০টি ট্যাঙ্কার তেল সরবরাহ করে। বাদবাকি ট্যাঙ্কার হাওড়া, হুগলি, দুই চব্বিশ পরগনা ও নদীয়ার পাম্পগুলোতে তেল নিয়ে যায়। ওয়েস্ট বেঙ্গল পেট্রল ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট প্রসেনজিৎ সেন বলেন, মৌরিগ্রাম ডিপো থেকে সব মিলিয়ে প্রায় ৫৫০টি পাম্পে তেল সরবরাহ হয়। নো এন্ট্রির সময় না কমলে, এতগুলো জেলায় তেল নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। পুলিস নির্দেশিকা অনুযায়ী, সোমবার ১২টা থেকে চারটে পর্যন্তই ট্যাঙ্কার যাতায়াত করেছে। সোমবার মাসের প্রথম দিন থাকায় ট্যাঙ্কারের চাপ কম ছিল। তাই তেমন সমস্যা হয়নি। কিন্তু ট্যাঙ্কারের সংখ্যা বাড়লে সঙ্কট বাড়বে। আমরা চাই এর স্থায়ী সমাধান হোক।