নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইউনেস্কো দুর্গাপুজোকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরই পরিকল্পনা করে খোলা হয়েছিল মাস আর্ট সংস্থা। এই কোম্পানির মাধ্যমে পুজোর প্রিভিউ পাস বিক্রি করে আর্থিক দিক থেকে লাভবান হওয়াই ছিল উদ্দেশ্য। লালবাজারে সিটের জেরায় প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন এমনটাই জানিয়েছেন বলে খবর। পাস বিক্রির টাকা যে তাঁর অ্যাকাউন্টে এসেছিল তাও কার্যত মেনে নিয়েছেন তিনি। তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিস পাঠিয়ে ডাকা হচ্ছে বলে খবর।
পুজোর পাস বিক্রির তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা ইতিমধ্যেই জেনেছেন, তিনবছরে প্রায় এক লক্ষ পাস বিক্রি করা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ৫০-৬০ কোটি দুর্নীতির তথ্য সামনে এলেও, এর পরিমাণ আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। তাঁরা মমতা ঘনিষ্ঠ এই প্রাক্তন বিধায়কের কাছে জানতে চাইছেন, কোম্পানি খুলে পাস বিক্রির বিষয়টি পূর্ব পরিকল্পিত কি না। এই বিষয়ে বৃহস্পতি ও শুক্র দু’দিন ধরে ইন্দ্রনীলকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁর সামনে ২০২৫ সালে ইউনেস্কোর সঙ্গে মাস আর্টের চুক্তির বিষয়টি তুলে ধরে তদন্তকারীরা জানতে চান, কেন তার তিনবছর আগে থেকে তাদের লোগো ব্যবহার করে পাস বিক্রি করা হল কেন? সূত্রের খবর, ইন্দ্রনীলবাবু তদন্তকারীদের জানিয়েছেন,আসলে দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে যে ব্যবসা করা যায় সে কথা মাথায় আসে ইউনেস্কো স্বীকৃতি দেওয়ার পরই। তাদের লোগো ব্যবহার করলে সহজেই বিশ্বাসযোগ্য হওয়া যাবে সাধারণ মানুষের কাছ তা তাঁরা জানতেন। সেই কারণেই কোম্পানি খোলার পর ইউনেস্কোর লোগো-ব্র্যান্ড সামনে রাখতে চেয়েছিলেন। এই ব্র্যান্ড ভাঙিয়েই ব্যবসা করে গিয়েছেন। তদন্তকারীদের দাবি, এই ব্যবসার বিষয়টি ইউনেস্কো জানতই না। কেউ ইউনেস্কোর সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে বলতেন, এই সংক্রান্ত সমস্ত কাগজপত্র তাঁদের কাছে রয়েছে। তদন্তকারীদের কাছে প্রাক্তন বিধায়ক জানিয়েছেন, মাস আর্ট যে খোলা হবে, তা ঠিক হয়ে যায় ২০২১ সালের পুজোর পরই। সেইমতো তাঁর স্ত্রী অফিস খোলেন। সেটি তিনি জানতেন বলে জেরায় জানিয়েছেন ইন্দ্রনীলবাবু। বিদেশি সহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষকে টানতে রীতিমতো কর্পোরেট স্টাইলে অফিস চালানো হত। কোম্পানির অ্যাকাউন্টেই টাকা জমা পড়ত। এই টাকার একটা অংশ চলে আসত তাঁর কাছে। সিটের জেরায় প্রাক্তন মন্ত্রী টাকা আসার বিষয়টি কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন বলে খবর। তবে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের বিভিন্ন টেন্ডার নিয়ে মন্ত্রী দাবি করেছেন, এক্ষেত্রে নিয়ম মেনেই সবটা হয়েছে। কোনও সংস্থাকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয়নি। যদিও তাঁর অ্যাকাউন্টে মাস আর্টের টাকা বাদ দিয়ে আর কোথা থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঢুকল, তাই নিয়ে করা প্রশ্নের উত্তর ইন্দ্রনীল এড়িয়েছেন বলে খবর। মাস আর্টের টাকার প্রসঙ্গ সহ অন্য বিষয় জানতে তাঁর স্ত্রী সহ কোম্পানির পদাধিকারীদের জেরা করতে চান তদন্তকারীরা। তাঁদের ডাকার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।- ফাইল চিত্র



