নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উত্তর আন্দামান সাগরে তৈরি হওয়া একটি নিম্নচাপ বঙ্গোপসাগরে শক্তি বৃদ্ধি করে ১৯ সেপ্টেম্বর নাগাদ উত্তর অন্ধ্র-দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে অগ্রসর হবে। বুধবার এমনটাই জানিয়েছে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর। উত্তর থাইল্যান্ডের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। সেটি নিম্নচাপে পরিণত হবে। নিম্নচাপটি শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কি না, সে ব্যাপারে এখনও কিছু বলা হয়নি। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ অনেক সময় শক্তি বাড়িয়ে গভীর বা অতি গভীর নিম্নচাপ হয়ে থাকে। গত বছর ও তার আগে একাধিকবার এই সময়ে এরকম পরিস্থিতি হয়েছে। কখনও কখনও এই সময় ঘূর্ণিঝড়ও হয়েছে। তবে এবার কী হবে, তা নিম্নচাপের গতিপ্রকৃতি দেখে পরবর্তী সময়ে জানানো হবে। আপাতত জানানো হয়েছে, নিম্নচাপটি ১৯ তারিখের পর ৩-৪ দিন ধরে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম অভিমুখে ওড়িশা-অন্ধ্র উপকূলের দিকে যাবে। গতিপথের কোনো পরিবর্তন হলে নিম্নচাপটির প্রভাব দক্ষিণবঙ্গে সরাসরি পড়তে পারে। তবে সেটা এখনও অনিশ্চিত বলে জানাচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা। পাশাপাশি, তাঁরা এটাও বলছেন, ‘এল নিনো’ বছরে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় হওয়ার প্রবণতা তুলনামূলক কম থাকে। সেই তুলনায় আরব সাগরে এর সম্ভাবনা বেশি থাকে।
গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে পুজো শুরুর সময় বঙ্গোপসাগরে একটি অতি গভীর নিম্নচাপ তৈরি হয়েছিল। ২৭ সেপ্টেম্বর মহাষষ্ঠীর দিন সেটি দক্ষিণ ওড়িশার গোপালপুর দিয়ে স্থলভূমিতে প্রবেশ করে। পশ্চিমবঙ্গ উপকূল থেকে অবস্থান অনেকটা দূরে হওয়ায় গত বছর পুজোর সময় রাজ্যে দুর্যোগ হয়নি। ২০২১ সালে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’ সৃষ্টি হয়েছিল। অন্ধ্রের কলিঙ্গপট্টনম দিয়ে এটি স্থলভূমিতে ঢোকে। এটি তারপর দুর্বল হলেও শেষ পর্যন্ত আরব সাগরে পৌঁছে ঘূর্ণিঝড় ‘শাহিনে’ পরিণত হয়েছিল।
উত্তর ভারত মহাসাগর এলাকা (যার মধ্যে আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগর পড়ে) এপ্রিল -মে এবং অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের শুরুর দিক পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়প্রবণ হ. থাকে। এই সময় দু’টি সমুদ্রে প্রায় প্রতি বছর এক বা একাধিক ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়। অনেক ঘূর্ণিঝড়ই বেশ শক্তিশালী হওয়ার জন্য প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি করে। অধিকাংশ ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয় বর্ষা বিদায়ের মুখে বা পরে। সম্প্রতি সমাজ মাধ্যমে বলা হচ্ছে, ‘ইসরো’র একটি গবেষণামূলক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, এবার এই সময়ে উত্তর ভারত মহাসাগর এলাকায় তিনটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হবে। যদিও আবহাওয়া অধিকর্তা বলেছেন, তাঁরা এরকম কোনো পূর্বাভাস দেননি। যদিও অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর সময়ে ২-৩টি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ার মধ্যে কোনো অস্বাভাবিকতাও নেই। গত বছরও অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরে তিনটি ঘূর্ণিঝড় হয়েছিল এই এলাকায়।