Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভিন রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে হুগলির পদ্ম

দুর্গাপুজো মানে আরও অনেক কিছুর সঙ্গে জুড়ে থাকে পদ্মও। সেই কোন এক নিখোঁজের কালে রাজা রামচন্দ্র দেবীকে ১০৮ পদ্মে পুজো দিয়েছিলেন।

ভিন রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে হুগলির পদ্ম
  • ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: দুর্গাপুজো মানে আরও অনেক কিছুর সঙ্গে জুড়ে থাকে পদ্মও। সেই কোন এক নিখোঁজের কালে রাজা রামচন্দ্র দেবীকে ১০৮ পদ্মে পুজো দিয়েছিলেন। সেই ইস্তক পদ্মও দশভুজার পুজোর অপরিহার্য অঙ্গ। হুগলির বাজারে সেই পদ্ম এবার সুলভ। আকারে বড়, সুগঠিত ফুলটির দাম গতবারের তুলনায় প্রায় অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। মূলত, ব্যাপক পরিমাণে চাষের কারণেই পদ্মের আগুনে দর এবার নেই। ফলে আম বাঙালির মুখে হাসি ফুটেছে। পদ্ম চাষিদের কাছ থেকে জানা গিয়েছে, গতবারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ জলাভূমিতে চাষ হয়েছে। জেলা সদর চুঁচুড়া লাগোয়া মগরার খন্নান, প্রত্যন্ত বলাগড়ের অধিকাংশ জলাজমির রং বদলে গিয়েছে প্রস্ফুটিত পদ্মের রঙে। 

Advertisement

যদিও পুজোকালীন বাজারে পদ্মের দাম পড়লেও চাষিদের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে এমনটা নয়। তবে লাভের কড়ি কিছুটা হলেও কমবে। পাশাপাশি, ব্যাপক বিক্রির সম্ভবনাও চাষিদের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে। হুগলি থেকে দেদার পদ্ম পাড়ি দিচ্ছে হাওড়ার খোলাবাজারে। সেখান থেকে ভিনরাজ্যেও যাচ্ছে। পদ্ম চাষিদের কাছ থেকে জানা গিয়েছে, এবার পাইকারি বাজারে প্রতিটি পদ্ম তিন থেকে পাঁচ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খোলাবাজারে সেই পদ্মের দাম উঠছে আট টাকা পর্যন্ত। কোথাও কোথাও সে দাম দশ টাকা। যদিও গতবার একটি পদ্ম কম করে ২০টাকা দরে বিকিয়েছিল। আকারে ছোট কুঁড়ি পদ্মেরও দাম ছিল আকাশছোঁয়া। মগরার খন্নানের পদ্ম চাষি চণ্ডী মণ্ডল বলেন, ‘গতবারে চড়া দর ছিল। জোগান কম ছিল। সে কারণে এবার বাড়তি জমিতে পদ্ম চাষ হয়েছে। তাতে জোগান বেড়েছে। দাম পড়েছে।’ পদ্মচাষিদের একাংশের দাবি, শুধু চড়া দরের জন্যই বেশি চাষ হয়েছিল তা নয়। আসলে পদ্ম চাষের কোনও প্রথাগত ব্যবস্থা নেই। ফলে চাষ করলেই যে বেশি সংখ্যায় ফুল ফুটবে এমন নিশ্চয়তা থাকে না। সে কারণেও বাড়তি চাষ করা হয়েছে। কিন্তু কার্যকারণ যাই হোক, হুগলির বাজারে পদ্ম হয়ে উঠেছে সুলভ। এই ঘটনায় উৎসাহিত হুগলির বিগ বাজেটের পুজোগুলির উদ্যোক্তারা। চুঁচুড়ার পুজো উদ্যোক্তা জয়দেব অধিকারী বলেন, ‘দুর্গাপুজোয় পদ্ম রাখতেই হয়। থিম পুজোর আয়োজনে বিপুল খরচ। সেই তুলনায় পদ্মের দাম বাড়লেও খরচ নিয়ে বেশি ভাবনা খুব স্বাভাবিক নয়। কিন্তু একটি প্রমাণ আকারের পদ্ম গতবার ২৫টাকা দরেও কিনতে হয়েছিল। তা অবশ্যই বাড়তি খরচ।’
হাওড়া থেকে ব্যান্ডেলে আসার পথে রেল লাইনের ধার ধরে এবার পদ্মের চাষ হয়েছে। মগরা ও বলাগড়ে রীতিমতো পরিকল্পনা করে পদ্ম চাষ করা হয়েছে। অসম লিঙ্ক রোডের একটি অংশ রীতিমতো পদ্মবন হয়ে উঠেছে এখন। ফলনের বাড়বাড়ন্তেই পদ্মের আকাশছোঁয়া দাম নেমেছে প্রায় মাটির কাছাকাছি। ফলে পদ্মসনাদেবীর আবাহনে এবার কোকনদের ছড়াছড়ি হওয়াটাই ভবিতব্য। - নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ