শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন-কর্মকাণ্ডই এবারের সুরুচির দুর্গাপুজোর ‘উৎস’
  • ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অর্ক দে, কলকাতা: পালাবদলের সুরুচিতে এবার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়! তাঁর জীবন এবং কর্মকাণ্ডই এবারের সুরুচির দুর্গাপুজোর ‘উৎস’। উদ্যোক্তাদের দাবি, গত দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তাঁকে ধামাচাপা দিয়ে রাখার চেষ্টা হয়েছে। তাই এবার সুরুচির ৭৩ তম বর্ষে, সেই ভুলিয়ে দেওয়া ইতিহাসকেই

Advertisement

জনতার দরবারে হাজির করছেন তাঁরা। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন কাহিনিকে তুলে ধরেই এবার সেজে উঠেছে দক্ষিণ কলকাতার এই নামজাদা পুজো মণ্ডপ। সৃজনে শিল্পী অনির্বাণ প্যান্ডেলওয়ালা(দাস)।
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, জাতীয় ও প্রাদেশিক সরকারের মন্ত্রী। ছিলেন হিন্দুত্ববাদী। আরএসএসএর সহায়তায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ভারতীয় জন সংঘ। অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভার সভাপতিও ছিলেন। ছিলেন ভারতের গণ পরিষদের সদস্য। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ১৯৪৬ সালে পূর্ব পাকিস্তান থেকে হিন্দু এলাকাগুলো আলাদা রাখার দাবি জানান। তিনিই শুরু করেছিলেন, ‘বাঙালি হিন্দু স্বদেশ আন্দোলন’। এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল মুসলিম লিগের সমগ্র বাংলাকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব ও প্রচারণার প্রেক্ষাপটে ১৯৪৭ সালে বাংলা বিভাজনের মাধ্যমে ভারতীয় ইউনিয়নের আওতাধীন একটি পৃথক হিন্দু-অধ্যুষিত প্রদেশ প্রতিষ্ঠা। তাই রাজনৈতিক দল বিজেপি তাকে পশ্চিমবঙ্গের রূপকার বলে অভিহিত করে থাকে। যদিও, এই শ্যামাপ্রসাদ আবার মুসলিম লিগের মন্ত্রিসভার সদস্যও ছিলেন।
এবার তাঁর ছোটো থেকে বড়ো হওয়া, শিক্ষা জীবন, রাজনৈতিক জীবন, কর্মকাণ্ড। হিন্দুত্ব রক্ষায় আন্দোলন সবটাই নিউ আলিপুর সুরুচি সংঘের মণ্ডপ জুড়ে ফুটিয়ে তুলছেন শিল্পী অনির্বাণ দাস। অনির্বাণ বলেন, বাংলার ঘর, বাঁশ, মাটিতে মণ্ডপের কাঠামো। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো মানুষের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই মণ্ডপের চিন্তাভাবনা বাস্তবায়ন করা। তাঁর একটি সম্পূর্ণ ফাইবার মূর্তি থাকছে মণ্ডপে। শ্যামাপ্রসাদ এবং তাঁর জীবনের বিভিন্ন সময়ের ছবি, কাট আউট রয়েছে প্যান্ডেলজুড়ে। তাঁর বিভিন্ন উক্তি লেখা রয়েছে সেখানে। 
নিউ আলিপুর সুরুচি সংঘের সম্পাদক বিজেপি বিধায়ক সৌরভ সিকদার বলেন, সুরুচিতে এসে এবার ভুলিয়ে দেওয়া ইতিহাস মানুষ জানতে পারবেন। তিনি না থাকলে এই পশ্চিমবঙ্গই ভারতবর্ষে থাকত না পূর্ব পাকিস্তানের চলে যেত, সেই মহানায়ককে প্রথমে কংগ্রেস সরকার, তারপর বাম ও পরে তৃণমূল ভুলিয়ে দিতে চেয়েছে। তাঁর ইতিহাস জানতে দেওয়া হয়নি। সেটাই আমাদের থিম উৎস। সৌরভবাবুর সংযোজন, আজকের পশ্চিমবঙ্গে দাঁড়িয়ে আমরা দুর্গা পুজো করছি, আদৌ করতে পারতাম কি না, যদি বাংলাদেশের অঙ্গ হত। আপনারা জানেন, ওখানে কী পরিস্থিতি! এই ইতিহাসকে মানুষের সামনে তুলে ধরছি। আমাদের গোটা মণ্ডপ তাই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু থাকবে দর্শকদের কাছে। মায়ের মূর্তিতেও থাকছে সাবেকি ছোঁয়া। খড় বেঁধে নানা নকশা ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে মণ্ডপের নানা অংশে। থাকছে লোহার শুরু রড ঝালাই করে নানা কারুকার্য। শুধু তাই নয় লেজার কাটিং করে ইলিউশনের শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মুখ ফুটে উঠেছে মণ্ডপে।