Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মেরুকরণের হাওয়ায় জেলার বহু আসনে ভোট কমে গেল বামেদের

বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যজুড়ে ধরাশায়ী তৃণমূল কংগ্রেস। তবে শুধু তৃণমূলই নয়, ভোট প্রাপ্তির নিরিখে শোচনীয় অবস্থা বাম এবং কংগ্রেসেরও

মেরুকরণের হাওয়ায় জেলার বহু আসনে ভোট কমে গেল বামেদের
  • ৮ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যজুড়ে ধরাশায়ী তৃণমূল কংগ্রেস। তবে শুধু তৃণমূলই নয়, ভোট প্রাপ্তির নিরিখে শোচনীয় অবস্থা বাম এবং কংগ্রেসেরও। সংখ্যালঘু আসনগুলিতে বাম সমর্থিত আইএসএফ কিছুটা দাঁত ফোটালেও তা যথেষ্ট ছিল না। অথচ গত লোকসভা নির্বাচনেই নদীয়া জেলায় বামেদের ভোট ব্যাঙ্কের শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছিল। সে তুলনায় এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বামেদের ভোট অনেক কমেছে। কংগ্রেসের হালও তথৈবচ। নদীয়া জেলার বিধানসভাগুলোতে তারা কুপোকাত হয়েছে।‌ রাজনৈতিক মহল বাম ও কংগ্রেসের এই শোচনীয় পরিণতির জন্য রাজনৈতিক মেরুকরণকেই দায়ী করছে। আবার অনেক মনে করছেন, এসআইআরের কারণে নাম বাদ যাওয়াও এর পিছনে অন্যতম কারণ।

Advertisement

করিমপুর বিধানসভায় সিপিএম ১৯ হাজার ৩৩৪ ভোট এবং কংগ্রেস ১০ হাজার ৮৫৪ ভোট পেয়েছে। অথচ গত লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে বাম ও কংগ্রেসের যৌথ ভোট ছিল প্রায় ৪০ হাজার। আবার তেহট্ট বিধানসভায় সিপিএম ২৫ হাজার ৬২৯ ভোট এবং কংগ্রেস মাত্র ২ হাজার ৩৮৩টি ভোট পেয়েছে। পলাশীপাড়া বিধানসভায় বাম সমর্থিত আইএসএফ ৩৪ হাজার ৫৮৪ ভোট এবং কংগ্রেস মাত্র ৩ হাজার ২১টি ভোট পেয়েছে। লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে বামেদের প্রাপ্ত ভোট ছিল ২৯ হাজার ৩৬৪। কালীগঞ্জ বিধানসভায় সিপিএম ২২ হাজার ৮০৬ এবং কংগ্রেস ৪ হাজার ২৬৭ ভোট পেয়েছে। অথচ লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে বাম-কংগ্রেস জোটের প্রাপ্ত ভোট ছিল প্রায় ৩৭ হাজার। কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে বামেদের প্রাপ্ত ভোট মাত্র ৮ হাজার ৩৩৬ এবং কংগ্রেসের ১ হাজার ৫১৬। একই ছবি দেখা গেছে কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভাতেও। সেখানে বামেরা পেয়েছে মাত্র ৯ হাজার ৪৬৮ ভোট। 
বামেদের সবচেয়ে সবচেয়ে করুণ অবস্থা দেখা যাচ্ছে রানাঘাট এবং কল্যাণী মহকুমার অন্তর্গত বিধানসভাগুলিতে। রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম বিধানসভায় ১০ হাজার ২৮২, কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভায় ৬ হাজার ৮৩৩, রানাঘাট উত্তর পূর্ব বিধানসভায় ৪ হাজার ৭১৩, রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভায় ১০ হাজার ৭১৪, চাকদহ বিধানসভায় ১১ হাজার ৮৬টি ভোট পেয়েছে বামেরা। তবে বামেদের থেকেও শোচনীয় অবস্থা কংগ্রেসের। সিংহভাগ বিধানসভায় ২ হাজার ভোটের গন্ডিও পার করতে পারেনি কংগ্রেস। যেমন শান্তিপুর বিধানসভায় ১ হাজার ৩৬৫, রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম বিধানসভায় ১ হাজার ৬১০, কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভায় ১ হাজার ৮৫, রানাঘাট উত্তর-পূর্ব বিধানসভায় ৯৬২, চাকদহ বিধানসভায় ১ হাজার ৫০৪, কল্যাণী বিধানসভায় ১ হাজার ৪৫৩ এবং হরিণঘাটা বিধানসভায় ১ হাজার ২৫৯ ভোট পেয়েছে কংগ্রেস। অথচ এই কেন্দ্রগুলোতেই গত লোকসভা নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস জোটের ভোটের হার বেশি খানিকটা বাড়তে দেখা গিয়েছিল।‌
সিপিএমের জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য সুমিত বিশ্বাস বলেন, ‘তৃণমূল ও বিজেপি এই নির্বাচনকে খেলায় পরিণত করেছিল। যার ফলে মানুষের রুটিরুজির সমস্যা সামনে আসতে দেয়নি। বিজেপি হিন্দুত্বের তাস খেলতে চেয়েছিল। তার তৃণমূল দুই সম্প্রদায়কে নিয়েই মেরুকরণ করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চেয়েছিল। যার ফলে আমাদের ভোট কমেছে।’ কংগ্রেস নেতা আব্দুর রহিম শেখ বলেন, ‘দু’টি দলই সাম্প্রদায়িক তাস খেলতে গিয়েছিল। যার ফলে একটা দল সুবিধা পেয়েছে। যার জন্যই কংগ্রেসের ফল খারাপ হয়েছে।’

সম্পর্কিত সংবাদ