


বিচ্ছেদ সবসময় রিক্ততার নয়, কখনো কখনো তা সম্পর্কের পূর্ণতা জোগায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’র এই চিরন্তন দর্শনকেই একবিংশ শতাব্দীতে নতুন করে চিনিয়ে দিল ‘টু ডটস এন্টারটেইনমেন্ট’ ও ‘এসপিসি ক্রাফট’-এর নিবেদন ‘দ্য ফেয়ারওয়েল লেটার’। কলকাতার জ্ঞান মঞ্চে নাটকীয় ইংরেজি পাঠের মাধ্যমে মঞ্চস্থ হল এই আখ্যান। সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের পরিকল্পনা ও সোহাগ সেনের নির্দেশনায় উপস্থাপনাটি প্রথাগত পাঠের গণ্ডি পেরিয়ে এক মননশীল অভিনয়ের রূপ নেয়। রাধা চক্রবর্তীর অনুবাদকে ভিত্তি করে তৈরি এই নাট্যরূপ অমিত ও লাবণ্যর জটিল মনস্তত্ত্বকে অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলে। শুভায়ন সেনগুপ্তের কণ্ঠে অমিতের বৌদ্ধিক চপলতা এবং লাবণ্য চরিত্রে শোলাঙ্কি রায়ের গভীর ও শান্ত ব্যক্তিত্ব দর্শকদের মুগ্ধ করে। অমিত-লাবণ্যর প্রেম এখানে কেবল আবেগ নয়, বরং ব্যক্তিস্বাতন্ত্র ও সামাজিক প্রথার ঊর্ধ্বে এক সচেতন সাহচর্য হিসেবে ধরা দিয়েছে। নাটকটিতে একটি চরিত্রে অনুষা বিশ্বনাথন এবং যোগমায়ার ভূমিকায় সোহাগ সেনের অভিনয় ছিল অনবদ্য। পাশাপাশি শোভনলাল ও জ্যোতিশংকর—এই দুটি ভিন্নধর্মী চরিত্রে দেবপ্রিয় মুখোপাধ্যায়ের সাবলীল উপস্থিতি কাহিনিতে বাড়তি মাত্রা যোগ করে। দুই কথক পৌলমী বসু ও সুজয় প্রসাদের ভাষ্য এবং সন্দীপন গঙ্গোপাধ্যায়ের বেহালার করুণ সুর মঞ্চে এক মায়াবী আবহের সৃষ্টি করে। ইংরেজি ভাষায় এই পরিবেশনাটি রবিঠাকুরের কালজয়ী সৃষ্টিকে সমসাময়িক ও বিশ্বজনীন দর্শকদের কাছে আরও প্রাসঙ্গিক করে তোলে। সব মিলিয়ে ‘দ্য ফেয়ারওয়েল লেটার’ বিচ্ছেদের সুপ্ত শক্তিকে চিনে নেওয়ার এক সার্থক শৈল্পিক প্রতিফলন।
সঞ্জয় চক্রবর্তী