Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

হুতোম প্যাঁচার শেষ প্রহর

বাবু! পুলিশ এসেছে। হাতে ওয়ারেন্ট। আপনাকে বাইরে ডাকছে।’ কয়েক মুহূর্ত নবীনকৃষ্ণের শুকনো মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে ফিকে হাসলেন কালীপ্রসন্ন।

হুতোম প্যাঁচার শেষ প্রহর
  • ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাজা ভট্টাচার্য: বাবু! পুলিশ এসেছে। হাতে ওয়ারেন্ট। আপনাকে বাইরে ডাকছে।’

Advertisement

কয়েক মুহূর্ত নবীনকৃষ্ণের শুকনো মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে ফিকে হাসলেন কালীপ্রসন্ন। এই মুহূর্তে তাঁকে দেখলে একজন রুগ্ন প্রৌঢ় মানুষ বলেই মনে হবে। অস্বাভাবিক রোগা হয়ে গিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যেই রগের পাশের চুলে পাক ধরেছে। উজ্জ্বল চোখ দু’টি বসে গিয়েছে, কালসিটে ঘেরা চোখে অদ্ভুত সজল তীব্র দৃষ্টি। 
‘সারস্বতাশ্রম’ নামের এই বাড়িটি গঙ্গার একেবারে পাড়ে। এখন বেলা প্রায় এগারোটা। একটু আগেই ঘুম ভেঙে হাতমুখ ধুয়ে নদীর দিকের বারান্দায় এসে বসেছেন কালীপ্রসন্ন সিংহ। এই সময় কেউ পুলিশের আগমন আশা করে না। 
কিন্তু এসব কালীপ্রসন্নের অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। দুর্বল গলায় তিনি বললেন, ‘আমার হাতটা একবার ধরবে, নবীন?’ 
হাত বাড়িয়ে কালীপ্রসন্নের কোমল হাতটা নিজের হাতে তুলে নিলেন নবীনকৃষ্ণ। বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না, সেই হাত অল্প অল্প কাঁপছে। 
আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়ালেন কালীপ্রসন্ন। 
তারপর নবীনের হাত ধরে হাঁটতে লাগলেন বাইরের ঘরের দিকে। 
বরানগর পুলিশ চৌকির প্রধান ভবনাথ হালদার একটি চেয়ারে বসেছিলেন। এখন কালীপ্রসন্নকে ঘরে ঢুকতে দেখে তিনি উঠে দাঁড়িয়ে তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে রইলেন মানুষটির দিকে, যেন তাঁর চিনতে অসুবিধা হচ্ছে কালীপ্রসন্নকে। 
‘আপনার এ কী চেহারা হয়েছে, সিঙ্গী মশাই?’ বললেন তিনি, ‘এই ক’ বছর আগেও আপনাকে দেখেছি। এর মধ্যেই এই চেহারা হল কী করে?’ 
তাঁর গলা শুনলেই বোঝা যায়, বিস্ময়ের প্রাবল্যে তিনি ভুলে গিয়েছেন, তিনি আসলে এসেছেন এই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যেতে। 
কালীপ্রসন্ন বললেন, ‘আপনাকে ঠিক চিনতে পারলাম না...।’
‘আমি বরানগর থানার ইন্সপেক্টর ভবনাথ হালদার। আমার কাছে ওয়ারেন্ট আছে আপনাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার। কলকাতার 
তিনজন পাওনাদার আপনার বিরুদ্ধে কোর্টে 
মামলা করেছেন।’ 
‘এখনও এঁরা মামলা করে চলেছেন? কেন বলুন দেখি? আমার যা কিছু ছিল, যথাসর্বস্ব তো ইতিমধ্যেই ক্রোক করেছেন কলকাতার শেরিফ। সম্পত্তি বলতে আমার আর কিছুই বাকি নেই। মাংস ফুরিয়ে গিয়েছে কবেই। এখন এঁরা শুকনো হাড় ক’খানা চুষে কতটুকুই বা রস পাবেন?’ কথা 
বলতে গিয়ে কালীপ্রসন্নর গলা কাঁপতে লাগল অসম্ভব দুর্বলতায়। 
অবাক চোখে এই আশ্চর্য মানুষটির দিকে তাকিয়ে রইলেন ভবনাথ। মাত্র চার বছর আগে তিনি এই মানুষটিকে দেখেছিলেন একেবারে অন্য চেহারায়। বরানগরের এই বাড়িটি তখন সত্যিই সরস্বতীর আশ্রম ছিল। বঙ্গদেশের শ্রেষ্ঠ পণ্ডিতেরা নিয়মিত আসতেন এই বাড়িতে। মহাভারতের শেষ খণ্ডের অনুবাদের কাজ চলছিল তখন। এককালে এই বাড়িতে এসেছেন স্বয়ং বিদ্যাসাগর মশাই। এই থানায় প্রথম পোস্টিং হয়ে আসার পরপরই পুলিশের গাড়িতে চড়ে এই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি একবার দেখেছিলেন কালীপ্রসন্নকে। উজ্জ্বল ধীমান চেহারার যুবক, পরনের অসম্ভব মূল্যবান শালটা সকালের রোদ্দুরে যেন ঝলমল করছিল। গাড়ি থেকে নেমে তিনি ঢুকে পড়ছিলেন এই বাগানবাড়িটিতে, সঙ্গে চারজন পণ্ডিত, তাঁদের প্রত্যেকের হাতে কয়েকটি করে পুরানো পুঁথি। ভবনাথের সঙ্গে থাকা হাবিলদারটি বলেছিল, সামনে সামনে হেঁটে চলা ওই ভদ্রলোকের নামই কালীপ্রসন্ন সিংহ। এই পণ্ডিতদের সহায়তা নিয়ে তিনি অনুবাদ করে চলেছেন সমস্ত মহাভারত। সেই অনুবাদিত বইগুলি বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। কলকাতায় বড়োমানুষের সংখ্যা তো কম নয়! কিন্তু এমন হৃদয়, এমন পাণ্ডিত্য বোধহয় আর কারো নেই। ‌
ভবনাথ জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘আর ওই যিনি পাশে পাশে কথা বলতে বলতে হাঁটছেন?’ 
হাবিলদারটি সব খবরই রাখে দেখা গিয়েছিল। বিলাসবহুল বাগানবাড়িটির গেটের একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা কেরাঞ্চি গাড়ির জানলা দিয়ে তাকিয়ে সে উত্তর দিয়েছিল,‘উনি হলেন নবীনকৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায়, স্যার। বহুকাল ধরেই ইনি সিঙ্গী মশাইয়ের সঙ্গে আছেন।’ 
তা বড়োলোকদের সঙ্গে তাঁদের মোসাহেবরা থাকবেন, এতে অবশ্য আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। ভবনাথকে অবাক করেছিল অন্য একটা ব্যাপার। ‘মহাভারতের অনুবাদ’— কথাটা শুনলেই একজন প্রবীণ মানুষের প্রাজ্ঞ চেহারা কল্পনায় ভেসে ওঠে। তার বদলে তিনি দেখতে পেয়েছিলেন একজন ঝলমলে চেহারার তরুণকে, যাঁর বয়স বোধহয় পঁচিশের আশপাশে হবে। 
‘ইনিই লং সাহেবের জরিমানার হাজার টাকা দিয়ে দিয়েছিলেন না?’ 
‘আজ্ঞে হ্যাঁ হুজুর! লং সাহেব নীলদর্পণের ইংরেজি অনুবাদের প্রকাশক ছিলেন কি না। তাছাড়াও প্রত্যেক বিধবাবিবাহের জন্য এক হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ইনি।’
‘শুনেছি হুতোম প্যাঁচার নকশা বইটি নাকি বেনামে ইনিই লিখেছেন?’
‘তাই তো শুনেছি স্যার।’ নরম গলায় বলেছিল হাবিলদারটি।
এত অল্প বয়সে একজন মানুষ এত কিছু করে ফেলতে পারেন, শুনলে অবিশ্বাস্য বলেই মনে হওয়ার কথা। কিন্তু ভবনাথের চোখের সামনেই অসম্ভব আত্মবিশ্বাসী পায়ে গটগট করে হেঁটে গঙ্গার পাড়ে অবস্থিত সারস্বতাশ্রমে ঢুকে গিয়েছিলেন কালীপ্রসন্ন। এসব বড়োজোর চার বছর আগের কথা। ‌আর আজ সেই মানুষটি দাঁড়িয়ে রয়েছেন ভবনাথের সামনে। শীর্ণ জীর্ণ দেহটি অল্প অল্প কাঁপছে। সাধারণ একটা ধুতি কোনোমতে জড়ানো রয়েছে কোমরে। গায়ে একটা সাধারণ চাদর। 
কী বলতে এসেছিলেন, তা যেন ভুলে গিয়ে ভবনাথ জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আপনার বয়স কত হল, সিঙ্গী মশাই?’ 
এইবার সামান্য হাসলেন কালীপ্রসন্ন। তাতেই তাঁর নীচের ঠোঁট ফেটে গিয়ে এক ফোঁটা রক্ত ফুটে উঠল। বললেন, ‘এই মাস তিনেক আগেই ত্রিশ পূর্ণ হয়েছে। কেন বলুন তো?’ 
‘আপনার চেহারার এই অবস্থা হল কেন? আর এত বড়ো একজন মানুষের ছেলে আপনি... কুবেরের সম্পত্তি ছিল আপনার! আর আজ...।’
‘আজ কলকাতার বাড়ি ছেড়ে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এড়াতে, প্রকৃতপক্ষে লুকিয়ে রয়েছি এই বরানগরের বাগানবাড়িতে।’ আবার মৃদু হাসলেন কালীপ্রসন্ন, ‘তাও তো রেহাই দিলেন না আপনারা। সম্পত্তি তো আগেই গিয়েছে। এইবার বোধহয় কপালে জেলখাটাটাই বাকি রয়ে গেছে। চলুন, আপনার দৌলতে সেই স্বর্গবাসটাও হয়ে যাক! আচ্ছা, আপনারা একটু অপেক্ষা করুন। আমি তৈরি হয়ে আসি। নবীন, কাউকে ডেকে ওঁদের একটু জল 
দিতে বল।’ 
কাঁপা পায়ে অন্দরমহলের দিকে হাঁটতে 
লাগলেন কালীপ্রসন্ন। 
নিস্তব্ধ বাড়িতে তাঁর পায়ের শব্দ মিলিয়ে যাওয়ার পর ভবনাথের কৌতূহলী চোখ ঘুরে গেল নবীনকৃষ্ণের দিকে। তাঁর চোখের দিকে তাকিয়েই নবীন সেই অনুচ্চারিত প্রশ্ন বুঝতে পারলেন। 
‘নেশা আর নেশা।’ মৃদু ক্লান্ত গলায় বললেন নবীনকৃষ্ণ, ‘আমি তো আজ থেকে দেখছি না সাহেব! দশ বছর হয়ে গেল এই মানুষটির সঙ্গে সঙ্গে রয়েছি। সব কথাই জানি। এক-একটা নাটকের পিছনেই যে কত টাকা নষ্ট করেছেন, তার হিসেব নেই। যখন বাপের সম্পত্তি হাতে পাননি, তখন মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নেশা করতেন। আর হাতে টাকা আসার পর তো এমন কোনও পাপকর্ম নেই, যা করেননি। যথাসর্বস্ব উড়িয়ে দিয়েছেন শুধু নেশা আর কুসঙ্গে।’ 
‘শুনেছি ওঁর নামে নাকি একসময় খুনের মামলাও হয়েছিল?’ প্রায় ফিসফিস করে জিজ্ঞাসা 
করলেন ভবনাথ।
‘মদের সঙ্গে মরফিয়া মিশিয়ে খাইয়ে দিয়েছিলেন একজনকে। মরে গিয়েছিল লোকটা।’ 
‘কী সর্বনাশ! কেন এমন করেছিলেন?’ আঁতকে উঠলেন ভবনাথ।
‘সে হতভাগা ছিল পেশাদার নেশাখোর। কেবলই গর্ব করত, তার কিছুতেই নেশা হয় না। তাতেই বাবুর জেদ চেপে গিয়েছিল। দেখতে চেয়েছিলেন, এতে তার নেশা হয় কি না। তাতেই...।’ 
একটা নিঃশ্বাস ফেললেন ভবনাথ। এত প্রতিভা আর এমন উচ্ছৃঙ্খলতা একই দেহে কেমন করে পাশাপাশি বাস করে, তা তিনি ধারণাও করতে পারছেন না। 
‘এত টাকা শুধু নেশা করে উড়িয়ে দিলেন সিঙ্গী মশাই?’ সবিস্ময়ে প্রশ্ন করলেন তিনি। 
‘আজ্ঞে না!’ ঘনঘন মাথা নাড়লেন নবীনকৃষ্ণ, ‘তার পাশাপাশি দানধ্যানও করেছে অজস্র! নাটকের কথা তো বললাম। মাইকেলকে সংবর্ধনা দিয়েছেন ঘটা করে। মহাভারতের সমস্ত খণ্ড তো বিনামূল্যেই বিতরণ করেছেন। তাতেও তো কম খরচ হয়নি! শহর কলকাতায় বোধহয় এমন কোনও বড়ো কাজ হয়নি, যাতে সিঙ্গী মশাইয়ের দান ছিল না। কিন্তু আসল কাল হল ওই নেশা। 
তার উপর...।’ 
এমন সময় ভিতর থেকে বেরিয়ে এলেন কালীপ্রসন্ন। বেশবাসের সামান্যই পরিবর্তন ঘটেছে, হাতে এখন একটা লাঠি। অবসন্ন বৃদ্ধের মতো সেই লাঠিতে ভর দিয়ে তিনি এসে দাঁড়ালেন ঘরের মাঝখানে। বললেন, ‘চলুন, কোথায় যেতে হবে।’ 
....
পরদিন যখন কালীপ্রসন্ন কাঠগড়ায় উঠে দাঁড়ালেন, তখন জজকোর্টে লোকে লোকারণ্য। এককালের ধনকুবের আজ দেনার দায়ে জেল খাটতে চলেছেন, এই খবর রাষ্ট্র হয়ে গিয়েছে সর্বত্র। মোকাম কলকাতায় আর যাই হোক নিষ্কর্মা মানুষের অভাব নেই, তারা তাই মজা দেখতে এসেছে আদালতে। নিষ্প্রভ চোখে একবার সেই জনারণ্যের দিকে তাকালেন কালীপ্রসন্ন। না, একমাত্র নবীনকৃষ্ণ ছাড়া একটিও চেনা মুখ চোখে পড়ছে না তাঁর। কয়েক বছর আগেও বন্ধু আর মোসাহেবরা যাঁকে ঘিরে থাকত, আজ তিনি সত্যিই একজন পরিত্যক্ত নির্বান্ধব মানুষ। 
‘সোজা হয়ে দাঁড়ান!’ কড়া গলায় বললেন বাঙালি ম্যাজিস্ট্রেট, ‘মনে রাখবেন, আপনি আদালতে রয়েছেন।’ 
অসহায় ভঙ্গিতে একবার সোজা হয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেন কালীপ্রসন্ন। সেই সামান্য চেষ্টাতেই তাঁর সর্বাঙ্গ থরথর করে কাঁপতে লাগল, কপালে ফুটে উঠল বিন্দু বিন্দু ঘাম। 
‘আপনি জানেন, পাওনাদারেরা আপনার বিরুদ্ধে নালিশ করেছে?’ আগের মতোই শক্ত গলায় জিজ্ঞাস করলেন বিচারক। 
‘জানি ধর্মাবতার,’ কালীপ্রসন্নর দুর্বল কাঁপা গলা যেন কষ্ট করে শুনতে হয়, ‘কিন্তু বিশ্বাস করুন, আমার কাছে এমন কিছুই আর অবশিষ্ট নেই, যা দিয়ে আমি তাঁদের ঋণ শোধ করতে পারি।’ 
‘সেক্ষেত্রে আপনার দীর্ঘকালের কারাদণ্ড হতে পারে, সে কথাও আপনার জানা আছে নিশ্চয়ই?’ 
এইবার কালীপ্রসন্নের মুখে ফুটে উঠল বিচিত্র হাসির রেখা। ঝাপসা চোখে কিছুক্ষণ বিচারকের কঠোর মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে তিনি বললেন, ‘এই জীবনটাই যখন কারাগারের শামিল হয়ে ওঠে, তখন তার থেকে পলায়নের একটিই পথ আছে। জগদীশ্বর খুব সম্ভবত সেই পথ অচিরেই উন্মুক্ত করে দেবেন আমার জন্য। আপনি বরং তার পূর্বে কারাবাসের অভিজ্ঞতাটাও আমাকে দিয়েই দিন।’
স্তম্ভিত চোখে তাঁর দিকে তাকিয়ে রইলেন বিচারক। তিনি নিজেও বুঝতে পারছেন, এককালের দোর্দণ্ডপ্রতাপ, অবিশ্বাস্য প্রতিভাবান মানুষটির জীবনে আর খুব বেশি দিন অবশিষ্ট নেই। সাংঘাতিক উচ্ছৃঙ্খল জীবন আর অমিতাচার অকালেই তাঁর আয়ু সমাপ্ত করে এনেছে। 
কয়েক মুহূর্তের জন্য স্থির চোখে অপরাধীর দিকে তাকিয়ে থেকে তিনি বললেন, ‘এই মুহূর্তে আপনাকে শাস্তি দেওয়া বৃথা। বোধ করি অন্য কোনো আদালতে, অন্য কোনো বিচারক আপনার জন্য শাস্তি বরাদ্দ করে রেখেছেন। আমি আপনাকে মুক্তি দিলাম।’ 
বিহ্বল চোখে তাকিয়ে রইলেন কালীপ্রসন্ন, যেন তিনি এই কথার অর্থই বুঝতে পারছেন না। ততক্ষণে অবশ্য তাঁর দিকে এগিয়ে এসেছেন চিরবিশ্বস্ত নবীনকৃষ্ণ। বললেন, ‘চলুন বাবু, আপনাকে বাড়ি নিয়ে যাই...।’
....
এই চূড়ান্ত লাঞ্ছনার পর আর মাত্র তিন মাস জীবিত ছিলেন কালীপ্রসন্ন সিংহ। এককালে যিনি সংবর্ধনার উপহার হিসেবে মাইকেল মধুসূদন দত্তের হাতে তুলে দিয়েছিলেন রুপোর পানপাত্র, সম্পূর্ণ কপর্দকহীন অবস্থায়, মাত্র তিরিশ বছর বয়সে মৃত্যু হয় তাঁর। 
লঙ্কার পঙ্কজ রবি গেলা অস্তাচলে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ