


সুকান্ত বেরা, কলকাতা: প্রিয় দল হারছে, ম্যাচের পর ম্যাচ। রক্তাক্ত হচ্ছে হৃদয়। চোখ ফেটে জল বেরিয়ে আসার উপক্রম। তবুও কাঁদতে মানা। অভিব্যক্তি প্রকাশের অধিকার যেন বন্ধক রাখতে হয়েছে। ওঁরা যে সুপার ফ্যান! আর পাঁচটা সমর্থকের থেকে একেবারেই আলাদা। একরাশ হতাশা নিয়েও সোনালি-বেগুনি রং মেখে হাজির হবেন ইডেনের গ্যালারিতে। পতাকা নাড়তে নাড়তে চিৎকার করবেন। তৈরি হবে শব্দব্রহ্ম। কেউ কেউ আবার শাঁখ বাজিয়ে উজ্জীবিত করবেন ক্রিকেটারদেরও। এই আশায়, প্রিয় দল ঘুরে দাঁড়াবেই।
এ এক অমোঘ টান। যতক্ষণ শ্বাস, ততক্ষণ আশ। ৬টি ম্যাচের মধ্যে ৫টি’তে হার। এক পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকায় লাস্ট বয় নাইটরা। তার পরেও রবিবার ইডেনের গ্যালারি গমগম করবে কেকেআর...কেকেআর... শব্দে। হাজার পঞ্চাশেক দর্শক মাঠে আসবে বলেই ইঙ্গিত মিলল সিএবি’তে। তবে তা যতটা না নাইটদের জন্য, তার চেয়ে অনেক বেশি বিস্ময় বালক বৈভব সূর্যবংশীর টানে। ১৫ বছরের তরুণ তুর্কি প্রচারের পুরো আলো শুষে নিচ্ছে। তিনিই যেন নাইটদের পথের কাঁটা।
মরণ-বাঁচন ম্যাচ খেলতে নামার আগে কালীঘাটে পুজো দিলেন রিঙ্কু সিং। বিকেলে আমেদাবাদ থেকে ফিরেই মন্দিরে যান তিনি। অনেকে মজা করে বলছেন, রান নেই, তাই ঈশ্বরই ভরসা। সত্যিই প্রবল চাপে সহ-অধিনায়ক। জিততে না পারলে কার্যত বিদায় ঘণ্টা বেজে যাবে বেগুনি-সোনালি জার্সিধারীদের। তবে খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে শাহরুখের দলের বাজিগর হয়ে ওঠার রূপকথা ভুললে চলবে না। সালটা ২০১৪। গম্ভীরের নেতৃত্বে পর পর ৭টি ম্যাচ জিতে প্লে-অফ এবং চ্যাম্পিয়ন হয়ে চমকে দিয়েছিল কেকেআর। সেই সাফল্যের ভিডিও অবশ্যই ছেলেদের দেখানো উচিত কোচ অভিষেক নায়ারের। কারণ, অসম্ভব কিছুই নয়।
অঙ্কের বিচারে কেকেআর ছাব্বিশের আইপিএল থেকে ছিটকে যায়নি। ক্ষীণ আশা এখনও বেঁচে। বাকি ৮টি’র মধ্যে ৭টি ম্যাচ জিতলে পয়েন্ট হবে ১৫। মনে রাখা দরকার, ২০২৪ সালে বিরাট কোহলিরা ১৪ পয়েন্ট নিয়েও শেষ চারে জায়গা করেছিল। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বেড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে? সবারই তো এক খুরে মাথা কামানো। ক্রমশ অন্ধগলিতে পথ হারাচ্ছেন রাহানেরা। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং — তিন বিভাগই ছন্নছাড়া। গুজরাত ম্যাচে ক্যামেরন গ্রিনের রানে ফেরাটাই একমাত্র ইতিবাচক। সেটাকে আঁকড়ে ধরে বাকিরা যদি ছন্দে ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা করেন, তাহলে রাজস্থানকে হারানো অসম্ভব নয়। তবে একটা ঝাঁকুনি অবশ্যই দরকার। বিশেষ করে রিঙ্কু সিং কিংবা রামনদীপ সিংকে অনেকগুলো ম্যাচে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাঁরা প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। তাঁদের জায়গায় নতুনদের সুযোগ দিলে কিন্তু মন্দ হবে না। প্রয়োজনে রাহানেকেও বাদ দেওয়ার সাহস দেখানো উচিত টিম ম্যানেজমেন্টের। কোচ অভিষেক নায়ারের চাকরিও টলমল। রাজস্থানের কাছে হারলে মাঝ পথে কোচ বদলের দাবি আরও জোরালো হবে। এদিকে, দলে যোগ দিচ্ছেন পাথিরানা। তবে এই ম্যাচে তাঁর খেলার সম্ভাবনা কার্যত নেই।
ছাব্বিশের আইপিএলে রাজস্থান দুরন্ত ফর্মে। ৫টির মধ্যে জিতেছে ৪টিতে। সঞ্জু স্যামসনের দল ছাড়ার প্রভাব বোঝাই যাচ্ছে না। মূলত ঝাঁঝালো টপ অর্ডার ব্যাটিংই কোচ সাঙ্গাকারার বড় ভরসা। তাই শুরুতে বিস্ময় বালক বৈভব সূর্যবংশী ও যশস্বী জয়সওয়ালকে ফেরাতে হবে। তাঁরা দ্রুত আউট হলে ধ্রুব জুরেল, রিয়ান পরাগরা চাপে পড়ে যাবেন। সেক্ষেত্রে জাদেজা ও ফেরেরার মতো মিডল অর্ডারের ব্যাটারের পক্ষে ঝড় তোলা অসম্ভব হবে দাঁড়াবে।