ডোভার লেন মানেই ঐতিহ্য আর পরম্পরার মেলবন্ধন। নজরুল মঞ্চে অনুষ্ঠানের আগে একান্ত আলাপচারিতায় সরোদ শিল্পী সিরাজ আলি খান।
ডোভার লেন মানেই ঐতিহ্য আর পরম্পরার মেলবন্ধন। নজরুল মঞ্চে অনুষ্ঠানের আগে একান্ত আলাপচারিতায় সরোদ শিল্পী সিরাজ আলি খান।
• স্বর সম্রাট উস্তাদ আলি আকবর খানের নাতি। মাইহার ঘরানার উত্তরসূরি। একে আশীর্বাদ না বাড়তি চাপ হিসেবে দেখেন সরোদ শিল্পী সিরাজ আলি খান? ‘এর থেকে বড়ো আশীর্বাদ আর কিছু হতে পারে না। সংগীতের শিক্ষার্থী হিসেবে মাইহার ঘরানার পরম্পরাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি’, বললেন শিল্পী। ডোভার লেনের মঞ্চে অনেকবার তাঁর পারফরম্যান্স শুনেছেন শ্রোতারা। প্রথম অনুষ্ঠানের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? বললেন, ‘২০১০ সালে প্রথমবার এই ঐতিহাসিক মঞ্চে একক সরোদ বাদনের সুযোগ পেয়েছিলাম। তবলায় ছিলেন উজ্জ্বল ভারতী। পরে সেদিনই আমার কাকা ও গুরু উস্তাদ আশিস খানের সঙ্গে অনুষ্ঠান করেছিলাম। সে অভিজ্ঞতা ভুলতে পারব না।’ এখানেই না থেমে শিল্পী জানান, ‘ডোভার লেন মানেই ঐতিহ্য। এখান থেকেই প্রকৃত শিল্পী হওয়ার অনুপ্রেরণা পেয়েছি। একবার আমার দাদু উস্তাদ আলি আকবর খানের সঙ্গে মঞ্চে বসার সুযোগ হয়েছিল। আমি তানপুরায় সংগত করেছিলাম।’ সরোদের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হল কীভাবে? শিল্পী বলেন, ‘সরোদ আমাকে আগে থেকেই বেছে নিয়েছিল। ছোটবেলা থেকে এমন এক পরিবেশে বড়ো হয়েছি যেখানে সংগীত ছিল জীবনের অংশ। সেখান থেকে এই যন্ত্রের প্রতি গভীর ভালোবাসা জন্মায়।’ আজকের দিনে সোশ্যাল মিডিয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ? সিরাজের কথায়, ‘সোশ্যাল মিডিয়া অত্যন্ত শক্তিশালী মাধ্যম। এর সাহায্যে এক লহমায় গোটা বিশ্বের শ্রোতার কাছে পৌঁছানো যায় ঠিকই। তবে মঞ্চে বসে বাজানোর অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ আলাদা। সোশ্যাল মিডিয়া সেই আনন্দ দিতে পারে না।’ নবীনদের উদ্দেশে শিল্পী বলেন, ‘মন দিয়ে রেওয়াজ করতে হবে। গুরুকে শ্রদ্ধা করতে হবে। সাফল্য আসতে সময় লাগতে পারে। তবে হাল ছাড়লে চলবে না।’
সায়নদীপ ঘোষ