Bartaman Logo
২১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ডিভিসির জলের ভাগ বৃদ্ধির দাবিতে রাজ্যকে চিঠি দিল ঝাড়খণ্ড সরকার

দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনের (ডিভিসি) জলাধারগুলির উপর নিজেদের অধিকার বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে নবান্নকে চিঠি দিল ঝাড়খণ্ড সরকার।

ডিভিসির জলের ভাগ বৃদ্ধির দাবিতে রাজ্যকে চিঠি দিল ঝাড়খণ্ড সরকার
  • ৩০ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনের (ডিভিসি) জলাধারগুলির উপর নিজেদের অধিকার বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে নবান্নকে চিঠি দিল ঝাড়খণ্ড সরকার। অর্থাৎ, চুক্তি অনুযায়ী দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা জলের ভাগ আগামী দিনে আর মানতে নারাজ হেমন্ত সোরেনের সরকার। তাঁদের দাবি, ঝাড়খণ্ডের জলের ভাগ বৃদ্ধি হওয়া উচিত। তবে এ বিষয়ে রাজ্যের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলেই সূত্রের খবর। 

Advertisement

প্রশাসনিক মহল সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়খণ্ড সরকারের যুক্তি হল মাইথন, পাঞ্চেত, কোনার ও তিলাইয়াসহ ডিভিসির অধিকাংশ জলাধার তাদের রাজ্যের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে অবস্থিত। তা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় তাদের জলের ভাগ কম। ফলে কৃষি, শিল্প এবং পানীয় জলের বাড়তি চাহিদা মেটাতে তাদের অধিক জল প্রয়োজন। তবে পশ্চিমবঙ্গের দাবি, ডিভিসির মূল উদ্দেশ্যই ছিল নিম্নবঙ্গে বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত সেচের জন্য জল সরবরাহ। বিশেষ করে বর্ধমান, বাঁকুড়া, হুগলি এবং হাওড়া জেলার কৃষিকাজের জন্য ডিভিসির জল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিভিসির অধীনে নির্মিত দুর্গাপুর ব্যারাজের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে এই জল সরবরাহ হয়ে আসছে। ফলে ঝাড়খণ্ডের দাবি কতটা বাস্তব সম্মত, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে প্রশাসনের অন্দরে। 
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই রাজ্যের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে নতুন করে জল বণ্টনের রূপরেখা নির্ধারণ না হলে ভবিষ্যতে এই দুই রাজ্যের দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হতে পারে। কারণ শিল্পায়ন এবং খনন প্রকল্পের বিস্তার হওয়ায় দ্রুত জলের চাহিদা বাড়ছে ঝাড়খণ্ডে। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের কৃষিনির্ভর অর্থনীতির জন্য স্থিতিশীল জলপ্রবাহ বজায় রাখা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই সমস্যার সমাধান হওয়া সম্ভব একমাত্র কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে। দুই রাজ্যের প্রতিনিধির পাশাপাশি সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন এবং ডিভিসির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে কবে এই বৈঠক হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের। কারণ, আন্তঃরাজ্য সমন্বয় ছাড়া দামোদর অববাহিকার যথাযথ জল ব্যবস্থাপনা সম্ভব নয় বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ