নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একজন মানুষের কত টাকার জীবন বিমা পলিসি কেনা দরকার? বিমা বিশেষজ্ঞদের হিসেব, কোনও ব্যক্তির বার্ষিক রোজগার যতটা, তার অন্তত ১০ গুণ ‘কভারেজ’ থাকা দরকার জীবন বিমার। বিশ্বজুড়ে এই ফর্মুলাকেই ব্যবহার করা হয় বিমা পলিসি কেনার ক্ষেত্রে। ভারতীয়রা যে অঙ্কের জীবন বিমা কেনেন, তাতে ‘সাম অ্যাশিওর্ড’ বা বিমা কভারেজ সেই অঙ্কে পৌঁছয় কি? সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা বলছে, না পৌঁছয় না। ১০ গুণ নয়, ভারতীয় জীবন বিমা গ্রাহকদের গড়পড়তা বিমাকৃত অঙ্ক তাঁদের বার্ষিক রোজগারের তিনগুণ। যেখানে রোজগারের অঙ্ক তুলনামূলক কম, সেখানে বিমাকৃত অঙ্কের পরিমাণ রোজগারের প্রায় ২.৯ গুণ।
ভারতীয়দের জীবন বিমা কেনার প্রবণতা কেমন, তার উপর একটি সমীক্ষা রিপোর্ট সামনে এনেছে একটি বেসরকারি জীবন বিমা সংস্থা। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বিমার অঙ্ক যাই-ই হোক না কেন, তা তাঁদের পরিবারকে সুরক্ষিত রাখবে বলেই বিশ্বাস করেন ভারতীয় গ্রাহকদের একটা বড় অংশ। প্রতি ১০ জনের মধ্যে আটজনের ভাবনা, তাঁদের রোজগারের দশগুণ অঙ্কের বিমা করার কোনও প্রয়োজন নেই। বরং যেটুকু আছে, সেটাই যথেষ্ট। এমনকী, বিয়ে, সন্তানের জন্ম দেওয়ার মতো ঘটনা, যেখানে আর্থিক দায়িত্ব অনেকটা বেড়ে যায়, সেখানেও বিমার অঙ্ক বাড়ানোর কথা চিন্তাভাবনাতেই আনেন না অনেকে। প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন এই বিষয়ে কখনও ভেবেই দেখেননি বলে জানিয়েছেন সমীক্ষায়। অর্থাৎ দায়িত্ব বাড়লে, তার সঙ্গে সঙ্গেই আরও বেশি অঙ্কের বিমার প্রয়োজনীয়তাও যে বৃদ্ধি পায়, সেই বিষয়ে সচেতন নন তাঁরা। এমনকী বেতন বাড়লে, তার সঙ্গে জীবনযাত্রার মানও বাড়ে। তার জেরে খরচও বাড়ে। সেই জীবনযাপনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে বেশি অঙ্কের বিমা করা যে জরুরি, সে-কথা মাথায় আনতে চান না তাঁরা।
তাহলে কি জীবন বিমা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হচ্ছে? বেসরকারি সংস্থাটির সমীক্ষা বলছে, বছরকয়েক আগেও গড়ে ৩৩ বছর বয়সে প্রথমবার জীবন বিমা পলিসি কিনতেন সাধারণ মানুষ। তা এখন কমে ২৮ বছর হয়েছে। ৪৬ শতাংশ মানুষ সমীক্ষায় জানিয়েছেন, তাঁরা বিমা পলিসি কেনার সময় নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেন। অর্থাৎ কোন সংস্থা থেকে বিমা কিনবেন, কত টাকার বিমা কিনবেন, এসব নিয়ে কোনও পরামর্শদাতার সঙ্গে আলোচনা করেন না তাঁরা। বরং নিজেরাই পলিসি কেনার আগে একটু ‘গবেষণা’ করে নেন।