শ্যামলেন্দু গোস্বামী , বারাসত: শাসনের শিশুকন্যাকে বিক্রি কাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ভিন রাজ্যের আরও দু’জনকে। জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম পি ইয়েল্লাহ ও শিবা নায়েক। ইয়েল্লাহর বাড়ি তেলেঙ্গানায়। আর শিবা থাকে অন্ধ্রপ্রদেশে। তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, এই শিশু বিক্রি চক্রের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হল শিবা নামের ওই মহিলা। নিঃসন্তান পি ইয়েল্লাহর কাছ থেকে শিবা মোট তিন লক্ষ টাকা নিয়েছিল। ওই টাকা থেকেই সে মাত্র ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিল শাসনের দম্পতিকে। দালালির সিংহভাগ টাকা নিয়েছিল শিবা ও দত্তপুকুরের সোনালি।
মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশনের ভিত্তিতে অন্ধ্রপ্রদেশে গিয়ে মূল দালাল শিবাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও সে অপরাধের কথা প্রথমে স্বীকার করেনি। উলটে বিভিন্ন সময় পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে। তবে পরের দিকে অবশ্য স্বীকার করে। শিবা জেরায় পুলিশকে জানায়, তেলেঙ্গানায় সে শিশুকন্যাকে বিক্রি করেছে। ফের পুলিশ অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে রওনা দেয় তেলেঙ্গানায়। সেখানে পি ইয়েল্লাহর বাড়ি থেকে শিশুকন্যাকে পুলিশ উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি শিশুর স্বাস্থ্যপরীক্ষাও করানো হয়েছে। আজ, সোমবার ট্রানজিট রিমান্ডে ধৃত দু’জনকে নিয়ে আসবে পুলিশ। সব মিলিয়ে শাসনে শিশু চুরি কাণ্ডে গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল পাঁচ।
জানা গিয়েছে, শাসনের বহিরা-কালীবাড়ির বাসিন্দা রবীন পাসোয়ান ও তার স্ত্রী টোটোন সরকারের দ্বিতীয় সন্তান এই মেয়ে। তাদের এক ছেলে রয়েছে। অভাবের তাড়নায় এই মেয়েকে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দম্পতি। এরপর পূর্ব পরিচিত দত্তপুকুর থানার বামনগাছির বাসিন্দা সোনালি সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করে মেয়েকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে তারা। ধৃতদের প্রাথমিক জেরায় পুলিশ জানতে পেরেছে, শিশুকে অন্ধ্রপ্রদেশে পাচার করা হয়েছে। এনিয়ে বারাসত ২ নম্বর ব্লকের সিডিপিও রাজশংকর পান্ডে শাসন থানায় লিখিত অভিযোগে দায়ের করেন। তদন্তে নেমে গত মঙ্গলবার শিশুর বাবা রবীন, মা টোটোন ও দালাল সোনালি সাহাকে গ্রেপ্তার করে শাসন থানার পুলিশ। বারাসত পুলিশ জেলার সুপারের নির্দেশে পুলিশের একটি টিম অন্ধ্রপ্রদেশে শিশু উদ্ধারের জন্য দ্রুত রওনা দেয়। কিন্তু সেখানে গিয়ে কার্যত হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। চক্রের দালাল শিবা অন্ধ্রপ্রদেশে থাকলেও শিশুটি সে বিক্রি করেছে তেলেঙ্গানার পি ইয়েল্লাহকে। শিবাকে সঙ্গে নিয়ে শনিবার গভীর রাতে শিশুকন্যা সহ আরও একজনকে পুলিশ পাকড়াও করেছে। এনিয়ে বারাসত পুলিশ জেলার সুপার প্রতীক্ষা ঝাড়খাড়িয়া বলেন, অপরাধের একাধিক তথ্য আমাদের কাছে এসেছে। অনেকে জড়িত আছে বলে জেনেছি। ওখানে কম পুলিশকর্মী যাওয়ায় বাকিদের ধরা যায়নি। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে তিন লক্ষ টাকায় শিশুটিকে কিনেছিল পি ইয়েল্লাহ। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। শিশুকন্যাটি বর্তমানে সুস্থ আছে।