Bartaman Logo
২৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাড়ি যেন রাজপ্রাসাদ বিদেশি কুকুর থাকে এসি রুমে! সৌমেন ঘনিষ্ঠ নেতার বাড়িতে বিজেপির বিক্ষোভ

বিজেপির নেতা-কর্মীরা সৌমেনের ঘনিষ্ঠ অমিত রাউতের রাজপ্রাসাদী বাড়ির সামনে বিক্ষোভ করেছেন। জনগণের সম্পদে এই বৈভবের উৎস খুঁজতে তদন্তের দাবি।

বাড়ি যেন রাজপ্রাসাদ  বিদেশি কুকুর থাকে এসি রুমে! সৌমেন ঘনিষ্ঠ নেতার বাড়িতে বিজেপির বিক্ষোভ
  • ৩ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: বাড়ি তো নয়, যেন রাজপ্রসাদ! সামনে চমকে দেওয়া স্থাপত্যে মোড়া রাধাকৃষ্ণের মন্দির। পাশে বিশাল গ্যারাজ। সেখানে ঠাসা একাধিক বিদেশি গাড়ি। রাস্তা দিয়ে গেলে দু’দণ্ড দাঁড়িয়ে দেখেন পথচলতি মানুষ। আর ‘রাজপ্রাসাদ’-এর অন্দরমহলে একবার প্রবেশ করলে দেখা মিলবে দামি আসবাবপত্রে গোছানো ডজন খানেক রুম। প্রতিটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। এসবের চেয়েও অবাক করা ঘটনা হল, ওইসব এসি রুমের একটি বরাদ্দ বিদেশি কুকুরের জন্য। সঙ্গে তার বিলাসিতার নানা বন্দোবস্ত।   বাড়িটি তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্রের ঘনিষ্ঠ অমিত রাউত ওরফে ভানুর। তিনিও স্থানীয় নেতা। পাঁশকুড়ার মেচগ্রামে গেলেই নজর পড়বে অমিতের এহেন বৈভব সমৃদ্ধ ‘রাজপ্রাসাদ। কিন্তু, কোন যাদুবলে ভানুর জাঁকজমক জীবন-যাপন? আয়ের উৎসই বা কি? এই প্রশ্ন নিয়েই মঙ্গলবার বিজেপির নেতা-কর্মীরা তাঁর বাড়ির সামনে হাজির হয়েছিলেন। নেতৃত্বে ছিলেন পাঁশকুড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা গোবিন্দ পাত্র, পঞ্চায়েত সদস্য শ্রীমন্ত দোলই, প্রসেনজিৎ পাল, মনোজ রায়, পিণ্টু ভৌমিকরা। তাঁদের অভিযোগ, জনগণের সম্পত্তি শাসকের ক্ষমতার বলে কব্জা করেই বৈভবের শিখরে বসেছেন ভানু। সাধারণ মানুষকে হিসাব দিতে হবে। যদিও বিজেপির লোকজন বাড়িতে যাওয়ার পর সস্ত্রীক মোবাইল বন্ধ রেখেছেন ভানু। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

Advertisement

অমিতের স্ত্রী পম্পা সাঁতরা রাউত পাঁশকুড়া পঞ্চায়েত সমিতির সভানেত্রী। একসময় মেচগ্রামে বিস্তীর্ণ এলাকার অপেক্ষাকৃত নীচু জমি জলের দরে কিনে নিয়েছিলেন অমিত। সৌমেনবাবু সেচদপ্তরের মন্ত্রী থাকাকালীন ওইসব জমিতে যাওয়ার জন্য‌ সরকারি অর্থে তৈরি করেন ঢালাই রাস্তা। নিকাশি নালার উপর তৈরি হয় ব্রিজ। তা঩তেই রাতারাতি অগ্নিমূল্য হয়ে যায় জমির দাম। ডেসিবল পিছু ৭০-৮০ হাজার টাকায় কেনা জমি সাত-আট লক্ষ টাকা দরে বিক্রি হতে থাকে। গড়ে ওঠে শিব-দুর্গা কলোনী। সেখানে প্রমোটিং করে কয়েক কোটির মালিক হন অমিত। মেচগ্রামে চোখ ধাঁধানো সম্পদ অমিতের। প্রায় চার বিঘা জমিজুড়ে উঁচু পাঁচিল। ভিতরে সুবিশাল অট্টালিকা। নিজে ঘন ঘন বাইক বদলান। সম্প্রতি সাড়ে তিন লক্ষ টাকা দিয়ে একটি বাইক কিনেছেন। পাঁশকুড়া পশ্চিম বিধানসভার বিজেপির কনভেনার অঞ্জন মাইতি বলেন, অমিত চাকরি করেন না। বিরাট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এমনটাও নয়। অথচ, সম্পদের প্রাচুর্য দেখলে চমকে যেতে হয়। এই সম্পদের উৎস কী? এই প্রশ্ন নিয়েই আমাদের নেতা-কর্মীরা সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন। জনগণের টাকায় প্রাসাদ বানিয়েছেন। আয়ের উৎস নিয়ে তদন্ত হওয়া উচিত। আমরা চাই, ইডি, ইনকাম ট্যাক্স তদন্ত করুক। আমরা সংশ্লিষ্ট সবাইকে চিঠি পাঠাচ্ছি। 
এনিয়ে সৌমেনবাবু বলেন, ‘ওই এলাকায় সেচ দপ্তরের টাকায় একটি ঢালাই রাস্তা হয়েছে একথা ঠিক। ওখানে বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার একটি সাবস্টেশন রয়েছে। যাওয়ার জন্য রাস্তা তৈরি করতে আমার সময়কালে ডিপিআর হয়। পরে রাস্তা তৈরি হয়। তাতে প্রমোটিং ব্যবসায় অমিত লাভবান হয়েছে কি হয়নি, সেটা আমার আলোচনার বিষয় নয়।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ