Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হানাহানির ইতিহাস অতীত, কেশপুরের সাড়ে ৫০০ গ্রাম এখন ‘মডেল ভিলেজ’

হানাহানির ইতিহাস অতীত, কেশপুরের সাড়ে ৫০০ গ্রাম এখন ‘মডেল ভিলেজ’
  • ২৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাজদীপ গোস্বামী, কেশপুর: কেশপুর ছিল বামেদের শক্ত ঘাঁটি। রাজনৈতিক হানাহানির জন্য কেশপুরের কুখ্যাতি ছিল। বর্তমানে সেই কেশপুরেরই প্রায় সমস্ত গ্রাম ‘মডেল ভিলেজ’ তকমা পাচ্ছে। খুশি কেশপুর ব্লকের মানুষ। প্রশাসনের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, জেলার অন্যান্য ব্লককে পথ দেখাচ্ছেকেশপুর। এই ব্লকের প্রায় সাড়ে পাঁচশো গ্রাম মডেল ভিলেজ। প্রতিটি গ্রামের স্যানিটেশন ব্যবস্থা ঢেলে সাজা হয়েছে। আগামী অর্থবর্ষেও গ্রাম ধরে ধরে নানা প্রকল্পের কাজ হবে। একইসঙ্গে আবর্জনা পরিষ্কারে এই ব্লক বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। অপরদিকে, গ্রামে যাওয়ার রাস্তা, নর্দমা, বিভিন্ন এলাকায় পানীয় জলের ব্যবস্থা করে দিতেও বিশেষ ভূমিকা নিচ্ছে ব্লক প্রশাসন। জেলা পরিষদের দলনেতা মহম্মদ রফিক বলেন, আগে কেশপুরে কিছুই ছিল না। বোমা-গুলির শব্দে ঘুম ভাঙত মানুষের। বর্তমানে কেশপুরের মানুষ বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। কেশপুরের গ্রামে গ্রামে রাজনৈতিক হানাহানির বদলে বিভিন্ন প্রকল্পের রূপায়ণ হচ্ছে। জেলা প্রশাসন ও ব্লক প্রশাসন ভালো কাজ করছে। এতে উপকৃত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। প্রসঙ্গত, বাম আমলে কেশপুর ব্লকের বিভিন্ন এলাকা ছিল অবহেলিত। সময়মতো বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা না পাওয়ায় সমস্যায় পড়ত সাধারণ মানুষ। রাস্তা বেহাল থাকায় এক এলাকা থেকে অপর এলাকায় যেতে নাভিশ্বাস উঠত মানুষের। তবে ২০১৬ সালের পর থেকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। ব্লকের ১৫টি পঞ্চায়েত এলাকায় কাজশুরু হয়। বর্তমানে কাজের ভিত্তিতে সেরাদের তালিকায় কেশপুর ব্লক রয়েছে। প্রশাসনের আধিকারিক ও স্থানীয় জন প্রতিনিধিরা বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। 

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কেশপুর ব্লকজুড়ে গ্রে ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের কাজ হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৪৩৪টি গ্রামে সোকপিট বা লিচ পিটের কাজ হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য খরচ হয়েছে ২ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা। এছাড়া কেশপুর ব্লকে সলিড-লিকুইড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের কাজ হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য ভাবে এই ব্লকে প্লাস্টিক ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের কাজ শুরুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩৬৫টি বাড়িতে শৌচালয়ের ব্যবস্থা করেছে ব্লক প্রশাসন। এর মাধ্যমে খরচ হয়েছে ৪৩ লক্ষ টাকা। প্রথম ধাপে দেড়শোটি গ্রামকে মডেল ভিলেজ হিসেবে গড়ে তোলা হয়। পরে চারশোটি গ্রামে কাজ শুরু করে প্রশাসন। প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, আগামী অর্থবর্ষে একাধিক গ্রামে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের পরিকল্পনা হয়েছে। আগামী অর্থ বছরে প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতকে দ্রুত প্রকল্প রূপায়ণের বার্তা দেওয়া হয়েছে। প্লাস্টিক ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে অন্যান্য ব্লকও উপকৃত হবে। প্রতিটি কাজে স্বচ্ছতা বজায় না রাখলে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হচ্ছে। কেশপুরের বাসিন্দা স্বপনকুমার দাস বলেন, গত কয়েক বছরে কেশপুর ব্লকে সবচেয়ে বেশি কাজ হয়েছে। ছোট কিছু রাস্তার কাজ বাকি। কিন্তু ব্লক প্রশাসন বহু এলাকার সমস্যার সমাধান করেছে। আর আগের চেয়ে রাজনৈতিক হানাহানি অনেকটাই কম।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ