সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: চা বাগানে প্রয়োগ করা হচ্ছিল নিষিদ্ধ কীটনাশক। শাস্তি স্বরূপ অভিযুক্ত চা চাষির কয়েক বিঘা বাগান থেকে আগামী তিন মাস চা-পাতা বিক্রিই বন্ধ করল স্থানীয় চা ব্যবসায়ী সমিতি। রবিবার ঘটনাটি ঘটেছে ময়নাগুড়ির দোমহনি ২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ উঠেছে, চা চাষী সুশীল বিশ্বাসের চা বাগানে রবিবার সরকার থেকে নিষিদ্ধ কীটনাশক দেওয়া হচ্ছিল। এমনই অভিযোগ পেয়ে স্থানীয় লোকজন তার বাগানের সামনে জড়ো হয়। পরবর্তীতে চা ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে তার বাড়ী সংলগ্ন চা বাগান এবং বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে আরও একটি চা বাগানের থেকে তিন মাস পাতা তোলা বা পাতা বিক্রয় বন্ধ করে দেয় বলে খবর।
অভিযুক্ত সুশীল বিশ্বাস বলেন, ‘এই কীটনাশক অনেক আগে কেনা হয়েছিল। তবে এটা আমি ক্রয় করিনি। রবিবার আমি বাড়িতে ছিলাম না। জমিতে কীটনাশক দেওয়ার জন্য লোক রাখা ছিল। তিনি দিয়েছিলেন। আমার বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে যে বাগান রয়েছে সেখানে চা পাতা তোলা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমার বাড়ির সঙ্গে লাগানো যে চা বাগান রয়েছে সেটাতেও চা পাতা তোলা বন্ধ করে দেওয়া হল। এটা কি কারণে তা আমি বুঝে উঠতে পারলাম না’।
চা ব্যবসায়ী সমিতির ক্যাশিয়ারের দায়িত্বে থাকা বাপি রায় বলেন, ‘তিনি দুটি বাগানেই নিষিদ্ধ কীটনাশক ব্যবহার করেছেন। এই কীটনাশক ব্যবহার করলে সেই চা পাতা থেকে বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা দিতে পারে মানুষের শরীরে। সে কারণে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত পাতা তোলা আমরা বন্ধ করে দিলাম সেই বাগান থেকে’।
জলপাইগুড়ি জেলার কৃষি আধিকারিক বাবলু সাতরা বলেন, ‘উচিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে চা ব্যবসায়ী সমিতি। ওই চাষী কোথা থেকে নিষিদ্ধ কীটনাশক ক্রয় করলেন সেটা নিয়ে আমরা তদন্ত করব। আমরা কিন্তু নিষিদ্ধ কীটনাশক ব্যবহার বন্ধের প্রতিনিয়ত প্রচার চালিয়ে যাচ্ছি’।