Bartaman Logo
৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

ফকল্যান্ড যুদ্ধের উত্তাপ ফিরছে সেমি-ফাইনালে, আলভারেজের দুরন্ত গোলে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি মেসি

খেতাব রক্ষার লড়াইয়ে আরও একধাপ এগল আর্জেন্তিনা। রবিবার কোয়ার্টার-ফাইনালে সুইৎজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে লায়োনেল স্কালোনি ব্রিগেডের জয় ৩-১ গোলে।

ফকল্যান্ড যুদ্ধের উত্তাপ ফিরছে সেমি-ফাইনালে, আলভারেজের দুরন্ত গোলে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি মেসি
  • ১৩ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শিশির ঘোষ: খেতাব রক্ষার লড়াইয়ে আরও একধাপ এগল আর্জেন্তিনা। রবিবার কোয়ার্টার-ফাইনালে সুইৎজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে লায়োনেল স্কালোনি ব্রিগেডের জয় ৩-১ গোলে। স্কোরলাইন দেখে অবশ্য ১২০ মিনিটের লড়াইয়ের বিশ্লেষণ করাটা এক প্রকার মূর্খামি। ব্যবধানটা যত বড়োই দেখাক, ম্যাচে কিন্তু আর্জেন্তিনাকে যথেষ্ট বেগ দিয়েছে সুইসরা। বিশেষত নির্ধারিত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে মেসিদের নাভিশ্বাস তুলে দিয়েছিল মুরাত ইয়াকিনের ছেলেরা। তা সত্ত্বেও বলব, ‘জো জিতা ওহি সিকান্দার’! কার্যকরী ফুটবলের মধ্যে দিয়েই শেষ চারের টিকিট পাকা করল গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে আলভারেজের গোলটা সোনার ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখার মতো। এই জয়ের মাধ্যমেই মার্কিন মুলুকে বাজল ফকল্যান্ড যুদ্ধের দামামা। সেমি-ফাইনালে মুখোমুখি দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড ও আর্জেন্তিনা। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে আলাদা মাত্রা পেয়েছে এদের দ্বৈরথ। ১৫ জুলাই আটালান্টা স্টেডিয়ামে সেই আঁচ আবারও দেখা গেলে অবাক হব না।

Advertisement

রবিবার সুইসদের বিরুদ্ধে কঠিন লড়াইয়ে যেন তারই মহড়া সেরে রাখল আলবিসেলেস্তে ব্রিগেড। কানসাস সিটিতে ১০ মিনিটেই মেসির কর্নার থেকে ম্যাক অ্যালিস্টারের দুরন্ত হেডে লক্ষ্যভেদ (১-০)। অনেকেই ভেবেছিলেন, শেষ আটের লড়াইয়ে দাপটেই শেষ হাসি হাসবে স্কালোনির ছেলেরা। তবে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে এই গোলটি ছাড়া তাদের পক্ষে বলার মতো কিছুই খুঁজে পেলাম না। দুরন্ত ফর্মে থাকা মেসিও ফিকে। বরং পিছিয়ে পড়ে গ্রানিত জাকাদের মধ্যে অনেক বেশি তাগিদ লক্ষ্য করলাম। দীর্ঘদিন পর সুইস বোল্ট সিস্টেমের ছোঁয়া দেখা গেল তাদের খেলায়। ৬৭ মিনিটে দান এনদোয়েরের গোল তারই ফসল (১-১)। তবে তার পাঁচ মিনিট পর অহেতুক প্লে-অ্যাক্টিং করতে গিয়ে ম্যাচের দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখল সুইৎজারল্যান্ডের এমবোলো। আনুপাতিক সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ পেলেও নির্ধারিত সময়ের বাকিটা ঝিমিয়েই ছিল মেসিরা। তবে অতিরিক্ত সময়ে যেন কোনো জাদুর ছোঁয়ায় বদলে গেল সেই দলটাই। ১১২ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে আলভারেজের দুরন্ত লক্ষ্যভেদ (২-১)। আর সংযোজিত সময়ে বিপক্ষ কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেয় লাওতারো মার্তিনেজ (৩-১)।
এবার তাদের সামনে প্রকৃত অ্যাসিড টেস্ট। প্রতিপক্ষ যখন ইংল্যান্ড, তখন ফকল্যান্ড যুদ্ধের প্রসঙ্গ তো ফিরবেই! ১৯৮২ সালে ব্রিটিশ অধিকৃত দ্বীপপুঞ্জের উপর আর্জেন্তিনার আক্রমণ ঘিরে দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের তিক্ততা চরমে পৌঁছায়। সেই যুদ্ধে বশ মানে আর্জেন্তিনা। ১৯৮৬-র বিশ্বকাপ ছিল তারই প্রতিশোধের মঞ্চ। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মারাদোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল সেই আগুনে ঘি ঢালে। পরবর্তী সময়ে বিশ্বকাপের আসরে আরও দু’বার মুখোমুখি হয় ইংল্যান্ড-আর্জেন্তিনা। ১৯৯৮ সালে আওয়েনের সেই অবিশ্বাস্য গোল। তা সত্ত্বেও সেদিন টাই-ব্রেকারে শেষ হাসি হাসে আর্জেন্তিনা। চার বছর পর অবশ্য বেকহ্যামের গোলে বাজিমাত করেছিল ইংল্যান্ড। ২৪ বছর পর ফের বিশ্বকাপে মুখোমুখি দুই দেশ। শেষ চারের লড়াইয়ে মাঠ এবং মাঠের বাইরে উত্তেজনার পারদ যে চড়বে, সন্দেহ নেই। দু’দলের সমর্থকরা যথেষ্ট উগ্র। ফলে ম্যাচটা শুধু মেসি বনাম হ্যারি কেন কিংবা আলভারেজ বনাম বেলিংহ্যামে সীমাবদ্ধ থাকবে না। উত্তাল হবে গ্যালরিও।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ