Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

নিষ্কাম প্রেমের মহিমা

শ্রীশ্রীবাবামণি বলিলেন,—এমন নিষ্কাম প্রেম যার আসে, জগতে সে মহাভাগ্যবান্। তাঁর দেহ কাম-বিকারের ঊর্দ্ধে উঠে যায়, তার মন রিপুকুলকে অনায়াসে দাসানুদাস ক’রে ফেলে, তাঁর প্রাণ থাকে অবারিত উন্মুক্ত উদার, তাঁর আত্মা হয় বিশ্বাত্মার সঙ্গে মিলিত, তাঁর অস্তিত্বের মাঝে ভূত-ভবিষ্যৎ-বর্ত্তমান এই ত্রিকালের হয় সমন্বয়, তাঁর শরীরের প্রতিটি রোমকূপে বৃন্দাবনের মোহন বাঁশরী নিরন্তর বাজতে থাকে, তাঁর দেহের প্রতিটি অণুপরমাণুতে লক্ষ কোটি দেবতার জন্য তীর্থস্থান নির্ম্মিত হয়।

নিষ্কাম প্রেমের মহিমা
  • ১৬ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিষ্কাম প্রেমের মহিমা
শ্রীশ্রীবাবামণি বলিলেন,—এমন নিষ্কাম প্রেম যার আসে, জগতে সে মহাভাগ্যবান্। তাঁর দেহ কাম-বিকারের ঊর্দ্ধে উঠে যায়, তার মন রিপুকুলকে অনায়াসে দাসানুদাস ক’রে ফেলে, তাঁর প্রাণ থাকে অবারিত উন্মুক্ত উদার, তাঁর আত্মা হয় বিশ্বাত্মার সঙ্গে মিলিত, তাঁর অস্তিত্বের মাঝে ভূত-ভবিষ্যৎ-বর্ত্তমান এই ত্রিকালের হয় সমন্বয়, তাঁর শরীরের প্রতিটি রোমকূপে বৃন্দাবনের মোহন বাঁশরী নিরন্তর বাজতে থাকে, তাঁর দেহের প্রতিটি অণুপরমাণুতে লক্ষ কোটি দেবতার জন্য তীর্থস্থান নির্ম্মিত হয়।

Advertisement

পূর্ব্বদীক্ষিতের পুনর্দীক্ষা
একটী বিবাহিতা মহিলা স্বামী সহ কোনও খ্যাতিমান সদগুরুর শিষ্যত্ব গ্রহণ করিয়াছিলেন। তিনি এমন কতকগুলি উপদেশ পাইয়াছিলেন, যাহার কার্য্যকারিতা ও পরিহার্য্যতা সম্পর্কে উপদেশ পাইবার আর কোনো উপায় নাই। কারণ, গুরুদেব দীর্ঘকাল মরদেহ ত্যাগ করিয়া স্বধামে প্রস্থান করিয়াছেন। মহিলাটী বলিলেন যে, তিনি নিজ স্বামীর অনুমতি লইয়াই শ্রীশ্রীবাবামণির নিকটে কতকগুলি বিষয় জানিয়া নিতে আসিয়াছেন। শ্রীশ্রীবাবামণির কৃপা হইলেই তিনি সব প্রকাশ করিয়া বলিবেন। প্রয়োজন হইলে তিনি স্বামী সহ বাবামণির কাছে নূতন করিয়া দীক্ষাও নিতে প্রস্তুত আছেন। কথাবার্ত্তা একান্তে হইবে।
শ্রীশ্রীবাবামণি বলিলেন,—একান্তে আমি কখনো কোনো মহিলার সহিত কথা বলি না। সুতরাং তুমি তোমার বক্তব্য কাগজে লিখে জানালে নিশ্চয়ই চলতে পারে। কিন্তু আমি পূর্ব্বদীক্ষিত কাউকে পুনরায় দীক্ষা দিতে আগ্রহী নহি।
মহিলাটী বলিলেন যে, তিনি কাগজে সব বৃত্তান্ত লিখিয়া আনিয়াছেন এবং জানিতে চাহিলেন যে, পূর্ব্বদীক্ষিতকে পুনরায় দীক্ষা দিলে দোষ কি?
শ্রীশ্রীবাবামণি বলিলেন,—একজন একটা পথে কিছুকাল চলার পরে তাকে আবার নূতন আর একটা পথে চলার নির্দ্দেশ দেওয়ার ভিতরে ভাব-ভঙ্গের সম্ভাবনা থাকে এবং গুরুতর দায়িত্বও আছে। যে যেখানে যে ভাবের দীক্ষা পেয়েছে, তাকে সেই ভাবে সেই পথে চলতে উৎসাহ দান করাই প্রত্যেক গুরুর কর্ত্তব্য। এই জন্যই আমি পূর্ব্বদীক্ষিতকে পুনরায় দীক্ষা দিতে অনাগ্রহী। একটা পথ ছেড়ে যারা আবার নূতন পথে চলতে শুরু করে, তাদের অনেকে হয় পথে বারংবার থেমে যায়, নয় তো দুটা পথকে মিলিয়ে একটা জট পাকিয়ে বসে। একাধারে হিন্দু এবং মুসলমান বা একাধারে মুসলমান ও খ্রীষ্টান বা একাধারে খ্রীষ্টান ও ইহুদী থাকা যেমন শক্ত ব্যাপার, একাধারে বৈষ্ণব এবং শাক্ত বা একাধারে শাক্ত এবং ব্রাহ্ম থাকাও তেমন শক্ত ব্যাপার। দ্বিধা-দ্বন্দ্বের তোড়ে প’ড়ে অনেক সময়ে দুটো পথের প্রত্যেকটাকেই সমভাবে অবহেলা করে। যাই কর মা, একটা পথেই থাকতে হবে। অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে শ্রীশ্রীবাবামণি বলিলেন,—বিকেল বেলা স্বামী সহ এসো। সব প্রয়োজনীয় কথা ব’লে দেব।
শ্রীশ্রী স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসদেবের উপদেশ-বাণী (২১ খণ্ড) থেকে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ