Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ঝাঁ-চকচকে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েই ১২টি বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের তুরুপের তাস

বদলে যাওয়া যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিশ্বমানের পরিকাঠামোর অন্যতম উদাহরণ কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে।

ঝাঁ-চকচকে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েই ১২টি বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের তুরুপের তাস
  • ৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: বদলে যাওয়া যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিশ্বমানের পরিকাঠামোর অন্যতম উদাহরণ কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে। গত মার্চের প্রথম সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন করেন। তারপর ক্রমশ এই রাস্তার উপর গাড়ির চাপ বাড়ছে। প্রায় ৩ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা খরচে তৈরি এই ঝাঁ-চকচকে সড়কই এবারের ভোটে তৃণমূলের তুরুপের তাস। চতুর্থবার ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে জনকল্যাণ ও কর্মসংস্থানের অন্যতম বড়ো উদাহরণ হিসাবে এই কাজ তুলে ধরছে ঘাসফুল শিবির। পালটা বিরোধীদের হাতিয়ার শহরের পরিকাঠামো ঘাটতি, দুর্নীতি, অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও জল জমার সমস্যা। 

Advertisement

কলকাতার সঙ্গে কল্যাণী সহ সমগ্র উত্তরবঙ্গের যোগাযোগে আক্ষরিক অর্থেই বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে। বেলঘরিয়া থেকে বড়ো জাগুলিয়া,  ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিমি রাস্তা অতিক্রম করা যাচ্ছে মাত্র ৪০ মিনিটে। এই রাস্তা ধরে কল্যাণী, বহরমপুর তো বটেই, উত্তরবঙ্গে পৌঁছানো এখন আরও সহজ হয়েছে। বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে জংশন থেকে কাঁচরাপাড়ার কাঁপা মোড় হয়ে বড়ো জাগুলিয়া পর্যন্ত যেতে একটিও ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়াতে হচ্ছে না। কারণ, যানজট এড়াতে চার ও ছয় লেনের এই রাস্তায় একাধিক আন্ডারপাস ও ফ্লাইওভার গড়া হয়েছে। সেই সঙ্গে বারাসাতের মতো ব্যস্ত শহরের যানজট এড়িয়ে সহজেই নদীয়া, বর্ধমান, হাওড়া, হুগলির নানা জায়গা থেকে ঈশ্বর গুপ্ত সেতু হয়ে কম সময়ে কলকাতায় পৌঁছানো যাবে। ফলে এই প্রকল্প দক্ষিণবঙ্গের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি নতুন ‘সার্কিট’ তৈরি করেছে। একইভাবে, উত্তর শহরতলির সঙ্গে কলকাতার যোগাযোগের জন্য সড়কপথে মানুষের মূল ভরসা ছিল বি টি রোড। ঘিঞ্জি বি টি রোডের বদলে এখন যানজটহীন কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েকে বেছে নিচ্ছেন অনেকে। শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থা নয়, রাস্তার দু’দিকের জমি এখন কার্যত সোনার থেকেও দামি! বড়ো বড়ো শিল্প প্রতিষ্ঠানের ওয়ারহাউস, স্কুল, মেডিকেল কলেজ, হোটেল—এরকম নানা পরিকাঠামো তৈরি হচ্ছে। বাড়ছে কর্মসংস্থানের সুযোগ। 
বারাকপুর মহকুমার ১২টি বিধানসভা (উত্তর দমদম, পানিহাটি, খড়দহ, বারাকপুর ইত্যাদি) এলাকার উপর এই এক্সপ্রেসওয়ের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব পড়েছে। তাই প্রতিটি কেন্দ্রেই এই উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরছে তৃণমূল। সমাজমাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে এক্সপ্রেসওয়ের ড্রোন ভিউ। যদিও বিজেপির উত্তর শহরতলি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি চণ্ডীচরণ রায় বলেন, ‘কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে তৈরির অর্থ দিয়েছে কেন্দ্র। শুধুমাত্র নীল-সাদা রং করে নিজেদের কৃতিত্ব দাবি করছে তৃণমূল। এখনও রাস্তার কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। নিমতা এলাকায় জমি জট রয়েই গিয়েছে। তাছাড়া রাস্তার পাশের জমি বিক্রির সিন্ডিকেটের মাথা হয়েছেন তৃণমূলের নেতারা। মানুষ সব কিছু দেখছে।’ সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য তথা বরানগরের বাম প্রার্থী সায়নদীপ মিত্র বলেন, ‘কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের পরিকল্পনা ও একাংশের নির্মাণ বাম আমলেই হয়েছিল। তৃণমূল স্রেফ জমি বেচার সিন্ডিকেট ও অবৈধ নির্মাণ করছে। রাস্তার দু’দিকে নিকাশির পরিকল্পনা নেই। তাই জলে ভাসছে বিভিন্ন এলাকা। মানুষ ক্ষোভে ফুঁসছে।’ তৃণমূলের দমদম-বারাকপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তথা সাংসদ পার্থ ভৌমিক বলেন, ‘কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে শুধুমাত্র যাতায়াতে বিপ্লব এনেছে তা নয়, কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। এই রাস্তাকে ঘিরে নতুন বিনিয়োগের জোয়ার আসছে।’ বিরোধীদের কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রের আর্থিক বঞ্চনা ও জমি জট কাটিয়ে এই রাস্তার কাজ যে  বাস্তবে সম্পূর্ণ হতে পারে, এই ধারণাই ওদের ছিল না। এখন মুখ লুকোতে ভিত্তিহীন অভিযোগ ছাড়া ওদের সামনে বিকল্প কোনো রাস্তা নেই।’ 

সম্পর্কিত সংবাদ