Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাইকের সামনের নম্বরপ্লেট ভাঙা, পিছনে কাদা, চারু মার্কেটের জিমে গুলির নেপথ্যে পাকা মাথার প্ল্যানিং!

চারু মার্কেট এলাকার দেশপ্রাণ শাসমল রোডে  জিমের মধ্যে গুলিকাণ্ডে অভিযুক্তদের ব্যবহার করা দুটি বাইকের নম্বর প্লেট অত্যন্ত অস্পষ্ট

বাইকের সামনের নম্বরপ্লেট ভাঙা, পিছনে কাদা, চারু মার্কেটের জিমে গুলির নেপথ্যে পাকা মাথার প্ল্যানিং!
  • ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চারু মার্কেট এলাকার দেশপ্রাণ শাসমল রোডে  জিমের মধ্যে গুলিকাণ্ডে অভিযুক্তদের ব্যবহার করা দুটি বাইকের নম্বর প্লেট অত্যন্ত অস্পষ্ট। পিছনে থাকা প্লেটে আবার কাদা মাটি লাগানো ছিল। বাইক দুটিও ছিল লজঝড়ে। তদন্তকারীরা যাতে বাইক দুটিকে চিহ্নিত করতে না পারেন, তার জন্য পরিকল্পনা করেই এটা করা হয়েছে, তা স্পষ্ট তদন্তকারীদের কাছে। এমনকী ঘটনার আগে যে দুই দুষ্কৃতী সংশ্লিষ্ট জিমে রেকি করে গিয়েছিল, তাও জানা যাচ্ছে। কিন্তু কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের এখনও চিহ্নিত করা যায়নি। এক্ষেত্রে তদন্তকারীদের নজরে একটি ঘরোয়া ‘মজলিশ’। সেই মজলিশে যেমন ওই জিমের মালিক হাজির ছিলেন, তেমনই সেখানে উপস্থিত ছিল দক্ষিণ কলকাতার এক কুখ্যাত দুষ্কৃতীও। সেখানে কোনও বিবাদ-বচসার জেরে এই গুলি চালানোর ঘটনা কি না, সেটাই জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। এই শ্যুটআউটের নেপথ্যে জেলবন্দি কোনও দুষ্কৃতীর পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা জানতে শহরের এক কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারেও যাচ্ছেন তদন্তকারীরা। 

Advertisement

রবিবার বেলা সাড়ে বারোটা নাগাদ দেশপ্রাণ শাসমল রোডের ওই জিমে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। এরইসঙ্গে জিমের মালিক জয় এস কামদারকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলেও, তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।  হামলাকারীরা যে মোটর বাইকে চেপে ঘটনাস্থল ছাড়ে, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে তার ছবি বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা দেখেছেন, দুটি বাইকেই সামনের নম্বরপ্লেট অর্ধেক ভাঙা। পিছনের প্লেটে কাদা, ডিজেল লেপা। তদন্তকারীদের সন্দেহ, চোরাই বাইক নিয়ে দুষ্কৃতী এসেছিল। যাতে নম্বর দেখে বাইকটি শনাক্ত করা না যায়।  
তদন্তে উঠে আসছে, ওই জিমের মালিক দক্ষিণ কলকাতার একাধিক জায়গায় প্রোমোটিংও করছেন। প্রোমোটিংয়ের ব্যবসা করতে গিয়ে ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে বেশ কিছু দুষ্কৃতীর পরিচয় হয়েছিল, শত্রুতাও হয় কয়েকজনের সঙ্গে। দিন চারেক আগে ওই ব্যবসায়ী একটি মজলিশের আয়োজন করেছিলেন। সেখানে রাজনৈতিক জগতের এক নামজাদা ব্যক্তির সঙ্গে দক্ষিণ কলকাতার এক দুষ্কৃতীও হাজির ছিল। পুলিশের দাবি, অনুষ্ঠান শেষে মজলিশও বসে। যদিও জয়বাবু পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, কোনও পার্টি বা মজলিশ হয়নি। অনুষ্ঠানস্থলে কোনও গোলমালও হয়নি। আর দক্ষিণ কলকাতার ওই দুষ্কৃতীর সঙ্গে তাঁর কোনও সখ্য নেই। তবে তদন্তকারীরা বুঝতে পারছেন, জিমের মালিককে ভয় দেখানোই ছিল দুষ্কৃতীদের মূল লক্ষ্য। যদি খুনেরই টার্গেট থাকত, তাহলে হাতের কাছে পেয়ে ছেড়ে দিত না। এদিকে রাজ্যে অস্ত্র ঢোকার ঘটনা বৃদ্ধি নিয়ে সিপি মনোজ ভর্মা এদিন বলেন, গোয়েন্দা দফতর এবং এসটিএফকে সতর্ক করা হয়েছে। বিহার ও ঝাড়খণ্ডে যে সমস্ত জায়গায় বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি হচ্ছে, সেখানকার পুলিশের সঙ্গে কথা বলে. যৌথ তল্লাশির জন্য বলা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ