নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী ২০২৬-২৭ খরিফ মরশুমে সরকারি উদ্যোগে চাষিদের কাছ থেকে ধান কেনার প্রক্রিয়া কিছুটা দেরিতে ডিসেম্বর মাস থেকে শুরু করতে চাইছে খাদ্যদপ্তর। এতদিন ১ নভেম্বর থেকে নতুন মরশুমে ধান কেনা শুরু করত রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ম অনুযায়ী অবশ্য অক্টোবর থেকে নতুন খরিফ মরশুম শুরু হয়ে যায়। তবে নভেম্বরে শুরু হলেও ওই মাসে ধান কেনার পরিমাণ খুব কম থাকত। অধিকাংশ বছরে নভেম্বরে কেনার যে কম লক্ষ্যমাত্রাও থাকত সেটাই পূরণ করা যেত না। কারণ তখন নতুন ধান উঠত না। ডিসেম্বরে নতুন ধান ওঠার পর কেনার প্রক্রিয়ায় গতি আসত। খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া নভেম্বর মাস থেকে ধান কেনার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যদিও সময়ের পরিবর্তন সংক্রান্ত কোনো নির্দেশিকা এখনো জারি করেনি খাদ্যদপ্তর। তবে সরকারি সূত্রের খবর, ডিসেম্বর মাসের মাঝমাঝি সময়ে এই প্রক্রিয়া এবার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
রাজ্য বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে, এবার কেন্দ্রীয় সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের (এমএসপি) থেকে প্রতি কুইন্টালে অতিরিক্ত আরও ২০০ টাকা দিয়ে চাষিদের কাছ থেকে ধান কেনা হবে। ফলে এবার সরকারের কাছে ধান বেচে একজন চাষি এবারের ২,৩৬৯ টাকার জায়গায় ২,৬৪১ টাকা পাবেন। স্বাভাবিকভাবে দাম অনেকটা বেশি পাওয়ার কারণে সরকারের কাছে ধান বিক্রিতে এবার চাষিরা আরও উৎসাহী হবেন।
খাদ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই বলেছেন, পূর্বতন জমানায় ধানক্রয় প্রক্রিয়ায় প্রচুর অনিয়ম হয়েছে। সেসব বন্ধ করে প্রকৃত চাষির কাছ থেকে ধান কেনা হবে। তাঁর অভিযোগ, ধান বিক্রির জন্য সরকারি পোর্টালে নাম নথিভুক্ত ব্যবস্থা আগে গভীর রাতে চালু করা হত। কিছু বিশেষ লোকজনকে সুবিধা করে দিতেই করা হত এসব। চাষির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ‘ভাড়া’ করে সরকারের কাছে ধান বেচে ফায়দা লুটত ফড়েরা। এবার এসব চলবে না। ওয়েস্ট বেঙ্গল রাইস মিল ওনারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল মালেক জানান, ধানক্রয়ে স্বচ্ছতা ফেরাতে খাদ্যমন্ত্রীর উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এদিকে চলতি ২০২৫-২৬ খরিফ মরশুমে আগস্টের শেষ সপ্তাহেও স্টেট পুলে রাইস মিলগুলির কাছে রাজ্য সরকারের প্রায় পৌনে ৩ লক্ষ টন চাল বকেয়া আছে। মিলগুলিকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে পুরো চাল সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।