Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বালি তুলে বিক্রির জেরে যত্রতত্র পাড় ভাঙছে, বদলে যাচ্ছে গঙ্গার প্রবাহপথ, স্বতঃপ্রণোদিত মামলা বরানগর থানার

গঙ্গা থেকে বালি তুলে চলছে রমরমা ব্যবসা। কয়েক দশক ধরে চলা কুঠিঘাটের এই বেআইনি কারবারে রাশ টানতে উদ্যোগী হল বরানগর থানা।

বালি তুলে বিক্রির জেরে যত্রতত্র পাড় ভাঙছে, বদলে যাচ্ছে গঙ্গার প্রবাহপথ, স্বতঃপ্রণোদিত মামলা বরানগর থানার
  • ২২ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: গঙ্গা থেকে বালি তুলে চলছে রমরমা ব্যবসা। কয়েক দশক ধরে চলা কুঠিঘাটের এই বেআইনি কারবারে রাশ টানতে উদ্যোগী হল বরানগর থানা। এই ব্যবসায় যুক্ত তিনটি নির্মাণ সামগ্রী বিক্রি সংস্থার কর্ণধারের বিরুদ্ধে গঙ্গা থেকে বালি চুরি সহ একাধিক ধারায় সুয়োমুটো মামলা দায়ের করা হয়েছে। বলা হয়েছে, দেদার বালি চুরির ফলে গঙ্গার পাড় ভাঙন, যত্রতত্র বালি জমার সমস্যা ভয়ঙ্করভাবে দেখা দিয়েছে। কমিশনারেটের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কোনও অন্যায় বরদাস্ত করা হবে না। বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে পুলিস নিজে থেকেও পদক্ষেপ করবে।

Advertisement

বরানগর কুঠিঘাট গঙ্গা পাড়ে বেআইনি বালির কারবার ৪০ বছরের বেশি পুরনো। গঙ্গা থেকে বালি তুলে তা পাড়ে জমা করে বিক্রি করা হতো। বরানগর ছাড়াও আশপাশের এলাকায় ওই বালি ও পলি নিচু জমি ভরাটের কাজে ব্যবহার করা হতো। এই বেআইনি কারবার নিয়ে জুলাই মাসে পুলিস তদন্ত শুরু করে। বালি কারাবারিদের থানায় ডেকে পাঠিয়ে তাঁদের কাছ থেকে পুলিস প্রয়োজনীয় অনুমতির নথি চেয়েছিল। তাঁরা কিছু মানি রিসিপট ও কার্গো ভেসেল লাইসেন্সের কাগজপত্র দেখিয়ে বালি তোলার অনুমতি রয়েছে বলে দাবি করেছিল। তদন্তকারী অফিসার বরানগর পুরসভার কাছে এই তিন নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহ সংস্থার বিষয়ে তথ্য জানতে চেয়েছিলেন। পুরসভা চিঠি দিয়ে জানায়, এই তিন সংস্থা পুরসভার থেকে বিল্ডিং মেটিরিয়াল সাপ্লায়ার হিসেবে ট্রেড লাইসেন্স নিয়েছে। একইভাবে শ্যামাপ্রসাদ মুখ্যার্জি পোর্ট ট্রাস্টকেও চিঠি দিয়ে এই তিন সংস্থার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তাদের বালি তোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে কি না, তাও জানতে চাওয়া হয়।
 পোর্টের তরফে লিখিত চিঠি দিয়ে বলা হয়, কোনও ব্যক্তি বা কোম্পানিকে হুগলি নদী (গঙ্গা) থেকে পলি তোলার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে সরকারি কোনও প্রকল্পে জমি ভরাটের জন্য পোর্ট অনুমতি দেয়। সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইন ও এসওপি রয়েছে। পোর্টের টেকনিক্যাল গাইডেন্স ছাড়া অবৈধভাবে পলি বা বালি তোলার জন্য বিপজ্জনক ভাবে পাড় ভাঙছে, কোথাও আবার পলি জমছে। নদীর প্রবাহপথ পরিবর্তিত হচ্ছে।
এফআইআরে তদন্তকারী অফিসার আরও লিখেছেন, এইসব রিপোর্ট থেকে পরিষ্কার, শ্রমিক ও বোট ভাড়া করে গঙ্গা থেকে বালি ও পলি চুরি করে তা সাধারণ মানুষকে বিক্রি করা হচ্ছে। তিন সংস্থার চার কর্ণধারের নামে তিনটি ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এই চার কর্ণধারের মধ্যে এক মহিলাও রয়েছেন। তাঁদের তিন জনের বাড়ি বরানগরের পি কে সাহা লেন ও এক জনের বাড়ি হরকুমার ঠাকুর স্ট্যান্ডে। সূত্রের খবর, অভিযুক্তরা বাম জমানায় শাসক দলের ছত্রছায়ায় এই অবৈধ ব্যবসা রমরমিয়ে করেছেন। ক্ষমতার পালাবাদল হতেই বিপুল উৎকোচ ও মাসোহারার বিনিময়ে ফের শাসক শিবির ছত্রছায়া লাভ করেছে। পুরসভার সিআইসি (স্বাস্থ্য) রামকৃষ্ণ পাল, পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান দিলীপ নারায়ণ বসুকে ফোন করা হলেও তাঁরা কোনও বক্তব্য দিতে রাজি হননি। এই বিষয়ে স্থানীয় কাউন্সিলার নিবেদিতা বসাক বলেন, আইন আইনের পথে চলবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ