Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাবার পদবিতে ‘ডবল এস’, রিসিভ কপিতে বাদ মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড

এসআইআরের নামে চরম হয়রানির অভিযোগ। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে জলপাইগুড়িতে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করলেন এক যুবক।

বাবার পদবিতে ‘ডবল এস’, রিসিভ কপিতে বাদ মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড
  • ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি ও সংবাদদাতা, দিনহাটা: এসআইআরের নামে চরম হয়রানির অভিযোগ। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে জলপাইগুড়িতে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করলেন এক যুবক। শহরের পান্ডাপাড়ার ১৫৫ নম্বর বুথের বাসিন্দা শুভজিৎ দাসের অভিযোগ, তাঁর কাছে থাকা ভোটার কার্ডে বাবার নামের পদবিতে দাস বানানে একটা ‘এস’ রয়েছে। কিন্তু কমিশনের পোর্টালে দেখাচ্ছে, তাঁর বাবার নামের পদবিতে দাস বানানে দু’টো ‘এস’। আর এ কারণে তাঁকে লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির নোটিস দিয়ে শুনানিতে ডেকে মানসিকভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে।

Advertisement

বেসরকারি সংস্থার কর্মী শুভজিতের বক্তব্য, আমার কাছে থাকা ভোটার কার্ডে পদবিতে যে বানান রয়েছে, সেটাই সঠিক। সেক্ষেত্রে কমিশনের অ্যাপে যদি কোনও ভুল হয়ে থাকে, তার দায় তাদের। এজন্য কাজ বন্ধ করে আমাকে কেন শুনানিতে আসতে হবে? আমি এসপি’র কাছে কমিশনের বিরুদ্ধে হেনস্তা ও হয়রানির লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। পেশায় প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক বিএলও অভিজিৎ সাহার বক্তব্য, পদবির বানানে গোলমাল থাকায় শুনানিতে ডাকা হয়েছে। আশা করি, উপযুক্ত নথি দেখালে সমস্যা মিটে যাবে।

এদিকে, হয়রানির অভিযোগ তুলে এদিন জলপাইগুড়ি সদর বিডিও অফিস চত্বরে হাউহাউ করে কেঁদে ফেলেন সত্তর বছরের এক বৃদ্ধা। গড়ালবাড়ির সরকারপাড়ার ১৮৯ নম্বর বুথের বাসিন্দা প্রিয়বালা রায় কয়েক বছর আগে জটিল রোগ থেকে সেরে উঠেছেন। লাঠিতে ভর দিয়ে কোনওমতে চলাফেরা করেন। চিকিৎসা করাতে গিয়ে কোচবিহারের কাশিয়াবাড়িতে একচিলতে জমি বিক্রি করতে হয়েছে। এখন গড়ালবাড়িতে খাসজমিতে থাকেন। বছর চল্লিশের এক ছেলে থাকলেও তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন। নোটিস পেয়ে বাড়ি থেকে অনেকটা দূরে বিডিও অফিসে একাই আসতে হয় তাঁকে। ১৪ জানুয়ারি একবার শুনানিতে হাজির হয়েছিলেন। নথিপত্র জমা দিলেও সন্তুষ্ট হতে পারেননি আধিকারিকরা। শনিবার ফের জলপাইগুড়ি সদর বিডিও অফিসে আসেন আরও নথিপত্র নিয়ে। বলেন, এসআইআর হওয়ায় খোঁজখবর করে জানতে পারি, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আমার নাম নেই। আমি ভিক্ষা করে খাই। যেদিন শুনানিতে আসছি, সেদিন বাড়ি ফিরে খাওয়ার মতো কিছু থাকছে না।

এদিকে, শুনানি চলাকালীন মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড জমা নেওয়ার পর তার রিসিভ না দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে শনিবার চাঞ্চল্য ছড়ায় দিনহাটা-১ ব্লক অফিসে। অভিযোগ, এক সুপারভাইজার ইচ্ছাকৃতভাবে রিসিভ কপিতে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডের উল্লেখ কেটে দিচ্ছেন। এদিন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিক ভুল স্বীকার করেন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না বলে আশ্বাস দেন।

ভোটার আলিমুল মিয়াঁ জানান, তাঁর স্ত্রীর নামে হিয়ারিংয়ের নোটিস এসেছে। মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড সহ প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি জমা দেন। কিন্তু রিসিভ কপি হাতে পেয়ে দেখেন, অ্যাডমিট কার্ডের জায়গাটি কেটে দেওয়া হয়েছে। পরে সুপারভাইজারের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি ভুল স্বীকার করেন এবং ওই জায়গায় টিক চিহ্ন দেন। তবে অফিসে জমা নথিতে বিষয়টি ঠিকভাবে নথিভুক্ত হয়েছে কি না তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায় বলে জানান আলিমুল। সুপারভাইজার জীবন পাল বলেন, বিষয়টি ভুলবশত হয়েছে। ভবিষ্যতে আর এই ধরনের সমস্যা হবে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ