সংবাদদাতা, কালনা: ১৯৪৭ সাল। স্বাধীনতার আনন্দে উচ্ছ্বসিত দেশবাসী। সেই সময়ই দুর্গতিনাশিনী দেবীদুর্গার আরাধনায় মেতে ওঠেন নাদনঘাট থানার সমুদ্রগড় নতুনপাড়া। এলাকার সেই প্রাচীনতম নতুনপাড়া বারোয়ারি দুর্গাপুজো এবার ৭৮তম বর্ষে পড়ল। পুজোর বাজেট লক্ষাধিক টাকা। এবারও সেই উন্মাদনায় মাততে চলেছে পুরো গ্রাম। শুরু হয়ে গিয়েছে প্রস্তুতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই সময় নাদনঘাট থানার নসরৎপুর নতুনপাড়ার ৩৩টি পরিবার মিলে ঠিক করেন দুর্গাপুজো করবেন। কিন্তু অর্থ জোগাড় হবে কীভাবে! মা দুর্গার নাম নিতেই বেরিয়ে এল উপায়। ঘরে ঘরে গোলা ভর্তি ধান, ঘর ভর্তি পাট। সকলে সাধ্যমতো ধান, পাট তুলে দেন দুর্গাপুজো কমিটির হাতে। তা বিক্রি করেই ধুমধামের সঙ্গে নতুনপাড়া বারোয়ারি কমিটির নামে পুজো শুরু হয়। আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি কমিটিকে। গড়ে ওঠে মনসার থান, কালী মন্দির। একের পর এক দান আসতে থাকে বারোয়ারিতে। পুকুর, জমি সহ নানা স্থায়ী সম্পদে ভরে ওঠে। এক সময়ের খরের চালা ঘর ভেঙে আজ স্থায়ী দুর্গামন্দির গড়ে উঠেছে। এই সরকার আসার পর মন্দিরের সামনে গড়ে উঠেছে বিশ্রামাগার। বারোয়ারির পক্ষ থেকে দান করা জমিতে গড়ে উঠেছে নতুনপাড়া অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয় ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। প্রবীণ গোবিন্দ কোলে, কৃষ্ণচন্দ্র ঘোষ, রতন মণ্ডলদের হাতে গড়ে ওঠে এই বারোয়ারি। বর্তমানে এই কমিটির সম্পাদক তাপস ঘোষ, সভাপতি ভুবনেশ্বর ঘোষ, কোষাধ্যক্ষ পুলক নায়েকদের আন্তরিকতায় এগিয়ে চলেছে। পুজো দেখতে হাজার হাজার দর্শনার্থীরা ভিড় করেন। পুজোর ক’দিন নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সপ্তমীর দিন মহাভোজ, দরিদ্রদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ সহ মণ্ডপ তলায় থাকবে বাল্যবিবাহ রোধ সহ সাপের কামড়, ডেঙ্গু প্রভৃতি সচেতনতা সহ সরকারি প্রকল্পের প্রচার। বারোয়ারিতলায় রয়েছে প্রতিষ্ঠাতা ৩৩টি পরিবারের স্মৃতি ফলক।
পুজো কমিটির সদস্য মথুরা দাস, দেবাশিস ঘোষ বলেন, পুজোয় সাধ্যমতো সকলে এগিয়ে আসেন। এলাকার বিধায়ক তথা মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ নানাভাবে আমাদের সহযোগিতা করেন। এরজন্য আমরা তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ।-নিজস্ব চিত্র