শিশির ঘোষ: এশিয়ার সবচেয়ে পুরানো টুর্নামেন্ট ডুরান্ড কাপ। আর বিশ্বের তৃতীয়। আমাদের সময় দিল্লিতে জাঁকজমকভাবে আয়োজিত হত এই ঐতিহ্যশালী টুর্নামেন্ট। রাষ্ট্রপতি উপস্থিত থাকতেন ফাইনালে। তবে গত এক দশকে সেই গরিমা অনেকটাই হারিয়েছে। জনপ্রিয়তা বাড়াতে দিল্লি থেকে ডুরান্ড কাপকে কলকাতায় নিয়ে আসেন সেনাকর্তারা। আর প্রতি বছরই গ্রুপ পর্বে ডার্বি! তবে এই একটি ম্যাচ দিয়ে কি সত্যিই ডুরান্ড কাপের মতো টুর্নামেন্টের গরিমা ফেরানো সম্ভব? আমার তো মনে হয় না। কারণ, বর্তমানে ভারতীয় ফুটবলের যে বেহাল দশা, তাতে আইএসএলের সিংহভাগ দলই এই প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে। কলকাতার তিন প্রধান হয়তো কিছুটা বাধ্য হয়েই ডুরান্ড কাপে অংশ নিচ্ছে। সুযোগ থাকলে তারাও সরে দাঁড়াত।
একটা সময় এই টুর্নামেন্টের গুরুত্বই আলাদা ছিল। ম্যাচ জিততে ইস্ট বেঙ্গল-মোহন বাগানের কালঘাম ছুটে যেত। আর এখন কারা খেলছে! স্রেফ সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যে যাকে পারছে, এই ঐতিহ্যশালী টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ করে দিচ্ছে আয়োজকরা। ব্যাঙের ছাতার মতো এরা ফি বছর গজাচ্ছে, টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করছে, আবার হারিয়ে যাচ্ছে। আগামী বছর আবার নতুন কোনো দলকে ধরে আনা হচ্ছে। এতে টুর্নামেন্টের মান ক্রমশ পড়ছে। ফল, প্রায় প্রতি ম্যাচেই স্কোরলাইন ৬-০, ৮-০’তে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে। রীতিমতো হাস্যকর পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে। সেই জায়গায় টুর্নামেন্টটাকে দু’টি ভাগে ভাগ করলে অনেক বেশি কার্যকরী হবে। ঠিক যেমনটা এফএ কাপ কিংবা লিগ কাপে দেখি আমরা। শুরুতে ছোটো দলগুলি নিয়ে গ্রুপ পর্বের খেলা আয়োজন করা হোক। তারপর নক-আউট পর্ব থেকে ইস্ট বেঙ্গল, মোহন বাগান, নর্থ ইস্টের মতো দলগুলি সরাসরি খেলুক। এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মানও বাড়বে। ফিরবে জৌলুস।
একটা সময় ভারতীয় ফুটবলে একাধিক টুর্নামেন্ট আয়োজিত হত। তবে ফেডারেশন কর্তাদের ব্যর্থতায় সেগুলি প্রায় সবই বন্ধ হয়েছে। সেনাবাহিনীর হাত ধরে কোনোরকমে টিকে রয়েছে ডুরান্ড কাপটা। এরপর এটাও যদি এই হাল হয়, তাহলে আগমী কয়েক বছরে তা বন্ধ হয়ে সময় লাগবে না। তাই আমার মতে, ফেডারেশন ও সেনাকর্তাদের যৌথভাবে বসে টুর্নামেন্টের জৌলুস বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া উচিত। মনে রাখতে হবে, এই টুর্নামেন্টকে ধরেই ভারতীয় ফুটবলে ত্রিমুকুট জয়ের গৌরব অর্জন করেছে ইস্ট বেঙ্গল, মোহন বাগান। তাই ডুরান্ড কাপকে এভাবে অবহেলা না করাই ভালো।