• সংগীত ছাড়া যেন শীতের কলকাতা অসম্পূর্ণ। সুর-তালের বৈচিত্র্য এই আমেজকে আরও উপভোগ্য করে তোলে। সম্প্রতি আইটিসি সংগীত রিসার্চ অ্যাকাডেমি আয়োজিত তিনদিনের শাস্ত্রীয় সংগীত সম্মেলনে তারই সাক্ষী থাকলেন শহরবাসী। এবারের সম্মেলন শুরু হয় প্রাঞ্জল ঘটকের বাঁশি দিয়ে। এরপর কণ্ঠসংগীত পরিবেশন করেন বেগম পারভিন সুলতানা। পুরিয়া ধানেশ্রী আর মালুহা মান্ড গেয়ে শোনান। শেষে রাগ মালকোষ, ঠুমরী ও ভজন গেয়ে শোনান ব্রজেশ্বর মুখোপাধ্যায়।
রাগ ললিতা গৌরী দিয়ে দ্বিতীয় দিনের সূচনা করেন আগ্ৰা ঘরানার বিশিষ্ট শিল্পী শুভ্রা গুহ। এরপর সেতারে রাগ শ্যাম কল্যাণ বাজিয়ে শোনান কল্যাণ মজুমদার। রূপক ও তিনতালে বন্দিশ পরিবেশন করেন তরুণ শিল্পী। কল্যাণের পর দক্ষিণী রাগ সংগীত পরিবেশন করে সকলের মন জয় করে নেন রঞ্জনী-গায়ত্রী। রাগ গোরখ কল্যাণ আর মারোয়া রাগে ঠুমরী পরিবেশন করেন পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী। আলাপ থেকে তানকারি- মুহূর্তের মধ্যে এক মোহময় আবহ তৈরি করেন পাতিয়ালা ঘরানার বর্ষীয়ান শিল্পী। পণ্ডিত সুরেশ তালওয়ালকরের মৃদঙ্গ সংকীর্তন অনবদ্য। শিল্পীর সঙ্গে ছিলেন তরুণ প্রজন্মের একঝাঁক শিল্পী।
দেবর্ষি ভট্টাচার্যের অনুষ্ঠান বেশ ভালো লেগেছে। কৌশি কানাড়া আর মীরার ভজন পেশ করেন শিল্পী। এরপরেই রাগ বাগেশ্রী পরিবেশন করেন মেহতাব আলি নিয়াজি, ইয়াদনেশ রায়কর ও এস আকাশ। সেতার, বাঁশি আর বেহালার জুটি সত্যিই অসাধারণ। শিল্পীদের যোগ্য সঙ্গত দেন সাই গিরিধর ও ঈশান ঘোষ। ধ্রুপদে রাগ ললিত গেয়ে শোনান পণ্ডিত উদয় ভাওয়ালকর। সবশেষে রাগ রামকেলি, গুর্জরি টোড়ি ও ভৈরবীতে দাদরা পেশ করেন জয়পুর অত্রাউলি ঘরানার অন্যতম শিল্পী অশ্বিনী ভিডে দেশপান্ডে। গুরু-শিষ্য পরম্পরা ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নয়ন ও ঈশান ঘোষের যৌথ তবলা লহরা যেন তারই অন্যতম নিদর্শন। এছাড়াও কণ্ঠসংগীতে মেহের পরালিকর, কস্তুরী জোশি ও ওমকার দাদারকরের পরিবেশন প্রশংসনীয়।
সায়নদীপ ঘোষ