নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: বলাগড়ের ভোট ময়দানে এবার মুখোমুখি দুই প্রাক্তন সহকর্মী। একদা তাঁরা ছিলেন একই দলে, তৃণমূলে। একজন তৃণমূলের রঞ্জন ধাড়া। অন্যজন বিজেপি প্রার্থী সুমনা সরকার। বর্তমানে রঞ্জনবাবু হুগলি জেলা পরিষদের সভাধিপতি। ২০১৮ সালে পঞ্চায়েত ভোটের পর সুমনা সরকার হয়েছিলেন ওই জেলা পরিষদেরই সহ সভাপতি। বলাগড়ের ভূগোলে মিশে আছে গঙ্গা ভাঙন। বহুচর্চিত সেই দুর্যোগের প্রভাবে স্থানীয় রাজনীতিও ‘ভাঙন’ কবলিত। তার জেরেই এবার ভোটের ময়দানে পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন রঞ্জন ও সুমনা।
এই লড়াইয়ে আছেন আরও একজন। সিপিএমের শিক্ষক প্রার্থী বিকাশ গোলদার। রাজনীতিতে আনকোরা না হলেও বিধানসভার মতো মঞ্চে বিকাশবাবু নবীন। মজা হচ্ছে, বিকাশবাবুর মতোই শিক্ষকতায় যুক্ত আছেন রঞ্জন ধাড়া। সেই নিরিখে এবারের ভোটযুদ্ধে দুই শিক্ষকের প্রতিদ্বন্দ্বিতাও দেখবে বলাগড়। ফলে, বহুমুখী লড়াইয়ের রণাঙ্গন বলাগড়ে প্রার্থীদের নিজস্ব সমীকরণ ইতিমধ্যেই ভিন্ন মাত্রা জুড়ে দিয়েছে।
সুমনা বলেন, রঞ্জনদা আমার প্রাক্তন সহকর্মী। আমি যখন জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি ছিলাম, তখন তিনি ছিলেন জেলা পরিষদ সদস্য। নাগরিক উন্নয়নে তৃণমূলের পরিকল্পনার অভাব, স্বচ্ছতা না থাকার কারণেই আমি দল ছেড়েছি। বিজেপি নেতৃত্ব আমার উপরে ভরসা রেখেছেন। এই নির্বাচনে মানুষের মন জয় করে সেই ভরসার প্রতিদান দিতে চাই। পুরানো পরিচয় অস্বীকার করছেন না রঞ্জনবাবুও। এতে তাঁর সুবিধাই হবে বলে দাবি করেছেন তিনি। তৃণমূল প্রার্থী বলেন, তৃণমূলই তাঁকে পরিচিতি দিয়েছে, সুযোগ করে দিয়েছে। সেই দল ও দলীয় কর্মীদের সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র ইতিহাস আমরা মনে রাখব। অতীতের কোনো দায় নেই বামপ্রার্থী বিকাশের। বলাগড় এখনও তৃণমূলের জেতা আসন। তা নিয়েও বিশেষ ভাবিত নন বিকাশবাবু। তিনি বলেন, এই লড়াই শিক্ষক বনাম শিক্ষকের নয়। নীতি ও আদর্শের লড়াই। আমাদের লড়াই তৃণমূলের সঙ্গেই। সেখানে আমরা নীতির প্রশ্নের জনতার দরবারে যাব।
প্রার্থীদের পরিচিতরা বলেন, রঞ্জন ও বিকাশের মধ্যে শিক্ষকতার যোগ ছাড়াও অন্য একটি মিল আছে। দু’জনেই মাটির মানুষ। অন্যদিকে, প্রাক্তন সহকর্মী রঞ্জন ও সুমনা কার্যত উলটো চরিত্রের মানুষ। রঞ্জনবাবু যেখানে সাদামাটা, সেখানে সুমনা বর্ণময়। রঞ্জনের বিরোধী খুঁজে পাওয়া কঠিন। সেখানে সাবেক দলের মতো বর্তমানে বিজেপিতেও সুমনাকে ঘিরে গোষ্ঠী রাজনীতি মাথাচাড়া দিয়েছে। সব মিলিয়ে প্রাক্তন সহকর্মী ও শিক্ষক-শিক্ষক লড়াইকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রং ধরতে শুরু করেছে গাঙ্গেয় ঘূর্ণি বাতাসে।