Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

সম্প্রীতির আড়ালে যুদ্ধের দামামা সামির

ঝোড়ো হাওয়ায় মাঠের কভার তখনও উড়ে যায়নি। ক্লাব হাউসের সামনের সবুজ গালিচায় অপেক্ষারত ছিলেন ফিন অ্যালেন ও টিম সেইফার্ট।

সম্প্রীতির আড়ালে যুদ্ধের দামামা সামির
  • ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সৌরাংশু দেবনাথ, কলকাতা: ঝোড়ো হাওয়ায় মাঠের কভার তখনও উড়ে যায়নি। ক্লাব হাউসের সামনের সবুজ গালিচায় অপেক্ষারত ছিলেন ফিন অ্যালেন ও টিম সেইফার্ট। কিছুক্ষণ পরে হাজির অ্যাওয়ে টিমের স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইসর কেন উইলিয়ামসন। নেটে ব্যাটিং শেষে যোগ দিলেন রাচীন রবীন্দ্র। এসে জুটলেন নাইট বোলিং কোচ টিম সাউদিও। চার বেগুনি জার্সির মধ্যমণি লাল জার্সি। ইডেনে পাঁচ কিউয়ির মিলনমেলায় জন্মাল রংবাহারি ফ্রেম।  

Advertisement

লখনউ-কলকাতা সম্প্রীতির এমন টুকরো-টাকরা ছবি নেহাত কম নয়। এই তো মহম্মদ সামি কাঁধে হাত দিয়ে গল্পে মগ্ন উমরান মালিকের সঙ্গে। লখনউয়ের বোলিং কোচ ভরত অরুণ এসে হাত মেলালেন নাইট শিবিরে। টিমবাসকে দাঁড় করিয়ে রেখে ড্রেসিং-রুমের সামনে বিপক্ষের অজি সাপোর্ট স্টাফের সঙ্গে গল্পে মশগুল দেখাল ক্যামেরন গ্রিনকে। নাইট কোচ অভিষেক নায়ার তো  বিপক্ষের পরিচিত একজনের কানই মুলে দিলেন মজা করে। কে বলবে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে দ্বৈরথে উত্তাল হবে গ্যালারি? এমনিতেই মালিকানা সূত্রে মোহন বাগানের মতো এলএসজি’রও আলাদা আবেগ রয়েছে এই শহরের।
সম্প্রীতির ইতিউতি ফ্রেমগুলোর আড়ালেই অবশ্য বাজছে রণং দেহি দামামা। সামির শরীরি ভাষায় তা স্পষ্ট। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিএবি’র অনুষ্ঠানে ‘হোম অ্যাডভান্টেজ’ নিয়ে চিন মিউজিক শুনিয়েছিলেন। বুধবার মাঠে এসেই সটান হাজির পিচ দেখতে। কিউরেটর সুজন মুখার্জির সামনে উচ্ছ্বাস গোপন রাখলেন না। সার্টিফিকেট দেওয়ার সুরে বললেন, ‘আচ্ছা উইকেট।’ সামির পছন্দ হয়েছে মানে নাইটদের কাছে বিষয়টা চিন্তার। বিশেষ করে ৩৫ বছর বয়সির মধ্যে এখনও শেখার খিদে অফুরন্ত। সানরাইজার্স ম্যাচের দিন চারেক আগে বোলিং কোচের সঙ্গে বিশেষ একটা ডেলিভারি আয়ত্তে আনার জন্য খাটতে শুরু করেন। আর ম্যাচে ঠিক সেভাবেই ফেরান অভিষেক শর্মাকে। গল্প মনে হলেও সত্যি। লখনউ তাই সামি বলতে গদগদ। 
নেটে ব্যাট হাতে সঙ্কল্পবদ্ধ দেখাল ঋষভ পন্থকেও। হাঁটু গেড়ে বসে পিচ পরীক্ষার পর জাস্টিন ল্যাঙ্গার, টম মুডির সঙ্গে লম্বা আলোচনা সারলেন লখনউ ক্যাপ্টেন। তারপর ঝমঝমিয়ে বৃষ্টির মধ্যেই সামির সঙ্গে ফিয়াট গাড়িতে চেপে বেরিয়ে গেলেন। যেন ফালতু সময় নষ্ট না করে হোটেলে ফিরেই সেরা অস্ত্রের সঙ্গে স্ট্র্যাটেজি নিয়ে বসবেন! নাইট শিবিরেও ধরা পড়ল বাড়তি তাগিদ। ফিন অ্যালেন, রিঙ্কু সিং, পাওয়েল দফায় দফায় ওড়ানোর নেশায় মাতলেন। সুনীল নারিনও বল হাতে ছন্দে। তবে যাঁর বোলিংয়ের দিকে সবার নজর, সেই গ্রিন শুধুমাত্র ব্যাটিং করলেন। পাওয়ার কোচ আন্দ্রে রাসেল বরং দীর্ঘক্ষণ বল করলেন, ভাঙলেন স্টাম্পও। কার বুদ্ধিতে যে রাসেলকে কোচ আর গ্রিনকে ক্যারিবিয়ানের বিকল্প ভাবা হল!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ