Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিশেষ ক্রোড়পত্র

স্বপ্ন

সামনে প্রায় ঘাড়ের উপরেই ঝকঝক করছে বরফঢাকা পাহাড়ের চূড়া, যেন সবুজ উপত্যকাটার মাথায় রোদ ঝলমল আকাশছোঁয়া রুপোলি মুকুট একখানা

স্বপ্ন
  • ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুচিস্মিতা দেব

Advertisement

সামনে প্রায় ঘাড়ের উপরেই ঝকঝক করছে বরফঢাকা পাহাড়ের চূড়া, যেন সবুজ উপত্যকাটার মাথায় রোদ ঝলমল আকাশছোঁয়া রুপোলি মুকুট একখানা। মুগ্ধ বিস্ময়ে দেখছিল ঋতু। ঠান্ডা হাওয়ায় উড়ছে তার রেশমি চুল। ঋতু খুব লম্বা নয়, তবে পাতলা শরীরটা দেখায় বেশ দীর্ঘ। জগিং প্যান্ট, মোটা জ্যাকেটে আপাদমস্তক ঢাকা। পাহাড়ের পটভূমিকায় পরিপূর্ণ ঋতুকে দেখছিল চেয়ারে বসা শতদ্রু। খুব খুশি দেখাচ্ছে বউটাকে তার। এবার তিন মাস পর দেখা। শতদ্রু আর ঋতুর বিয়ে হয়েছে দুই বছর। তারা এখনও একসঙ্গে থাকে না। ঋতুর বাস মুম্বইয়ে। সাত বছর আগে চাকরি ছেড়ে কলকাতা থেকে মুম্বইয়ে যায় ঋতু। কলকাতায় একটি নামজাদা অ্যাড কোম্পানিতে শতদ্রু ছিল তার সহকর্মী। শতদ্রু এখন কলকাতায় ডিজাইনের হেড। ঋতু মুম্বইয়ে বছর তিন আগে তার নিজস্ব অ্যাড এজেন্সি খুলেছে। প্রচুর স্ট্রাগল তার, অনেক অ্যাম্বিশন। নয় কেন? সত্যিই ঋতু ট্যালেন্টেড। একদিন ওই বরফের চূড়াটার মতোই সে আকাশ ছোঁবে। দিনরাত এক করে তাই খাটছে। ওরলিতে একটা বাংলোবাড়ির সমুদ্রঘেঁষা আউট হাউসটুকু ভাড়া নিয়ে মাথা গুঁজে কষ্ট করে থাকে। জোয়ারের সময় সমুদ্রের জল সেই ঘরে উঁকি মারে। শতদ্রুর বাবা অত স্বপ্ন-টপ্ন নেই। এত কষ্ট সে করতেও পারবে না। সে চাকরি আর কলকাতা নিয়ে বিন্দাস আছে। মাস গেলে মোটা মাইনে... তবে সে ঋতুর উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে ফুল সাপোর্ট করে। 
 নেপালি বউটি লনের টেবিলে ব্রেকফাস্ট সাজিয়ে দিয়েছে। সামনে খেলছে বছর তিনেকের একটা গাবদু-গুবদু বাচ্চা আর লোমেঢাকা ছটফটে কালো ছোট্টো কুকুর টমি। আদিগন্ত ঢেউখেলানো পাহাড়ের পটভূমিতে এই ছোট্ট কাঠের বাড়িটা, রঙিন ফুলের ঝাড় আর এই হাসিখুশি বাচ্চাটা... ঋতুর চোখ ক্যামেরার ফ্রেমে যেন ছবি কম্পোজ করতে করতে ঘুরে শতদ্রুকে দেখে। 
 ‘খেয়ে যা, ঠান্ডা হয়ে যাবে’। ডাকে শতদ্রু। ঋতু চেয়ারে বসেছে। খাচ্ছে। এখন তার চোখ বাচ্চাটার দিকে, যার নাম সুরজ। সুরজ ফিকফিক হাসছে, লনে গোলগোল ঘুরছে... তার পিছনে অনুসরণকারী উত্তেজিত টমির ঘেউ-ঘেউ আনন্দধ্বনি। সুরজ এই হোম স্টের পরিচারক রামের ছেলে। মা মায়া রান্না বিভাগের হেড। বাচ্চাটি মিষ্টি, নজরকাড়া। ঋতুরা মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করছিল সুরজের কাণ্ডকারখানা।     বাচ্চাটি মাঝে-মধ্যে থামছে তাদের দিকে তাকাচ্ছে পিটপিটিয়ে। সুরজ প্রথম দিকে ঋতুদের একেবারেই পাত্তা দেয়নি। দেবার কথাও নয়। অতিথিদের এড়িয়ে চলতেই শেখানো হয়েছে তাকে আর টমিকে। ঋতুর সুরজকে দেখেই ভীষণ ভাব করার বাসনা জেগেছিল তাই ক’টা চকোলেট ঘুষে কিছুটা বরফ গলিয়েছে। 
 শতদ্রু এবার হাতছানি দিয়ে ডাকতেই সুরজ তাকায়, কিন্তু আসে না।
 ‘ব্যাটা ঘুষখোর! খালি হাত দেখে এ মুখো হচ্ছে না’
 ‘এই শতো! হচ্ছেটা কী? একটা দুধের ছানাকে ব্যাটা ঘুষখোর বলছিস? বড্ড মিষ্টি বাচ্চাটা!’
 ‘তোরও অমন একটা ছানা অনায়াসে হতে পারে’ হেসে সামান্য গাঢ়স্বরেই বলে ফেলে শতদ্রু। চমকে যায় ঋতু। কথাটা আত্মস্থ করতে সময় নেয়। হতে পারে? কে জানে। এতদূর সে ভাবেইনি কখনো। বিয়ে করারই সাহস হচ্ছিল না। তার ভবঘুরে জীবন কোনো পুরুষমানুষই মানবে না, এমনই ভাবত। শতদ্রুর মতো ছেলে হাতে গোনা যায়। কলকাতা অফিসে শতদ্রুর সঙ্গে প্রেম ছিল না সেই অর্থে। এক সঙ্গে কাজ করত। ভালোলাগা ছিল। এক দিন কাজের ফাঁকে আচমকাই চুমু খেয়েছিল শতদ্রু। চমকালেও বাধা দেয়নি ঋতু। তারপর ঋতু মুম্বইয়ে গেলে শতদ্রু দুঃখ পেয়েছিল। ফোনেই কথাবার্তা... ঋতু কলকাতায় এলে এখানে ওখানে আড্ডা... তবে কাজপাগল মেয়েটাকে উৎসাহই দিত। এভাবেই চলছিল। বছর তিন আগে কলকাতায় এক বন্ধুর বিয়েতে দেখা ও দু’জনে এক টেবিলে মুখোমুখি।
 ‘কী রে, বিয়ে করবি না?’ কথায় কথায় খুঁচিয়েছিল শতদ্রু।
 ‘টাইম নেই বস। এত স্ট্রাগল, মুম্বইতে এক মিলিমিটার জমি কেউ বিনা যুদ্ধে ছাড়ে না, তার উপর আমি মেয়ে। ক্রোড়পতি বাপ নেই, গডফাদার নেই, ডাকসাইটে সুন্দরী নই। নেহাৎ চ্যালেঞ্জ নিয়ে লড়ে যাচ্ছি।’ 
 শতদ্রু লড়াকু মেয়েটির জেদ দেখছিল। আগেও কি দেখেনি? এই জেদই কি টানেনি তাকে? হঠাৎই  বিয়েবাড়ির আলো, চারপাশের লোকজন সব ভোজবাজির মতো কুয়াশায় ঢেকে গেল আর শতদ্রু স্থির চোখে তাকিয়ে বলেছিল, ‘আমাকে বিয়ে করবি?’
 মুখের হা বন্ধ হয়নি ঋতুর, দৃষ্টি বিস্ফারিত। সামলে নিয়েছিল দ্রুতই, মাথা নেড়েছিল অবিশ্বাসে, ‘ব্যাড জোক বস!’
 ‘বিয়ে করবি কি না বল?’ একই দৃঢ়তায় বলেছিল শতদ্রু।
 অবাক ঋতু এক দৃষ্টে শতদ্রুকে জরিপ করছে, ‘আর ইউ সিরিয়াস?’
 শতদ্রু নার্ভাসনেস গোপন করেনি। কাঁপা হাত রেখেছিল ঋতুর হাতে।   
 ‘তোকে নিয়ে কখনো ঠাট্টা করেছি? বিয়েটা কি ঠাট্টার ব্যাপার? আমাদের বয়সও কম হয়নি। বিয়ের বয়স তো প্রায় পার।’
 ‘কিন্তু আ-আমি তো মুম্বই ছাড়তে পারব না,’ অসহায় ভাবে বলেছিল ঋতু।
‘জানি তো। নো প্রবলেম! দেখি, আমি যদি... না হলে, থাকব দু’জনে আলাদা শহরে। আজকাল লং ডিসট্যান্স সম্পর্ক প্রচুর! তাহলে কি, বিবি কবুল?’
 ধীরে ধীরে হাসি ফুটেছিল ঋতুর মুখে, ‘কবে থেকে এসব মতলব মাথায় খেলছে শুনি?’
 দুষ্টু হাসল শতদ্রুও। তর্জনীটা ঠোঁটে ছোঁয়ালো, ‘সেই দিন থেকে। ওদিন সরি বলেছিলাম বটে, আসলে সরি হইনি’... ব্যস। বিয়ে হল কিন্তু একত্রবাস হয়নি। বিয়ের পরেই জাম্বো প্রমোশনে ভাইস প্রেসিডেন্ট হলে চাকরি ছাড়া মুশকিল হয়ে গেল শতদ্রুর। তাই আপাতত দূরেই থাকা। সুযোগ পেলে একত্রে বেড়ানো। এটুকুই সংসারসুখ আপাতত। এই যেমন এখন।
 ঋতু তার জ্যাকেটের খাপ খুঁজে একটা চকোলেট বের করে মৃদু তালে দোলাচ্ছে এখন। সুরজ ঘায়েল হয়ে  পায়ে পায়ে এগিয়ে এলে তাকে খপ করে ধরে কোলে তুলে নেয় ঋতু। সুরজ কিঞ্চিৎ হকচকিয়ে গেলেও নেমে যায় না। দেখা গেল, আদর বস্তুটির সে কদর করছে। করবে না কেন? সদাব্যস্ত হতক্লান্ত বাপমায়ের সুরজকে নিয়ে আদিখ্যেতার উৎসাহ কোথায়? সুতরাং নরম কোলে উষ্ণ সুগন্ধি আলিঙ্গন তার বেশ আরামদায়ক মনে হল। সে এক মনে চকোলেট আহারে মন দিল।
 শতদ্রুর কাছে ঋতুর এমন মাদার মেরি অবতার অভিনব। বেশ দেখাচ্ছে বউটাকে।
 ‘তোকে বেশ মা-মা লাগছে কিন্তু।’
 ‘যাঃ! বাজে বকিস না তো,’ ঝটকা মেরে বলল বটে তবে বাচ্চাটার দুধ-দুধ গন্ধে কেমন ঘোরের আবেশ জাগছে ঋতুর। একটু ভেবে বললে, ‘মন্দ হয় না রে। চল... সব ছেড়েছুড়ে আবার তোর অফিসে ফিরে আসি। একটা বাচ্চা বুঝলি, দুটো চাইবি না কিন্তু...।’
 শতদ্রু হাত বাড়িয়ে ঋতুর চুলে হাত বোলায়। ‘দুটো বাচ্চা হলে ভালো জানিস। একটা বাচ্চা লোনলি হয়। জেদিও হয়।’
 ‘আমার মতো?’
 ‘তোর মতো দুটো মেয়ে চাই আমি।’
 ‘এ মা! ছেলে হবে না?’ দু’জনে এখন মনে মনে সংসার রচনায় মগ্ন হয়। শতদ্রুর তিন কামরার ফ্ল্যাটে দু’টি বাচ্চা খেলছে। দিন শেষে তারা স্বামী-স্ত্রী কফি নিয়ে মুখোমুখি। হয়তো টমির মতো একটা কুকুরও ঢুকে পড়বে সুখের ছবিটিকে পরিপূর্ণতা দিতে। এই সময়ে ফোন বাজে, ভিডিও কলে ঋতুর মা সুলগ্না। ঋতু ফোনটা সামনে ধরে।
 ‘ও মা! এটা আবার কে?’
 ‘ইনি সুরজবাবু। কী কিউট!’
 সুরজ সুলগ্নার দিকে চেয়ে হাসছে। শতদ্রু ফিচলেমি করে, ‘তোমার মেয়ে রিহার্সাল দিচ্ছে। বলা কি যায়? 

আমরা হয়তো কলকাতায় সংসার পাতব।’ 
 সুলগ্না দেখে ঋতুর লজ্জারুণ মুখ। আহা, কী সুন্দর দেখাচ্ছে ওদের তিনজনকে। ঋতুর কি সত্যিই এমন  সুমতি হবে? মেয়ের বিয়ের আশা তো ছেড়েই দিয়েছিল সুলগ্না! বিয়ে যখন করেছে, বাচ্চাও হতেই পারে। ঈশ্বর সহায় হলে মেয়েটা স্বামী-সন্তান নিয়ে কলকাতায় সুখে সংসার করছে সেই স্বপ্নও হয়তো সত্যি হবে এক দিন! ওদের আনন্দঘন মুহূর্তকে বিঘ্নিত করা ঠিক হবে না ভেবে সুলগ্না চটপট ফোন কেটে দেয়। 
 এখানে নটাতেই গভীর রাত। নিঝুম। বাইরে তাপমাত্রা শূন্যের নীচেই হবে। এই নির্জনতার জন্যই তো আসা। লেপের তলে বেশ জম্পেশ করে সবে শুয়েছে দু’জন, বেজে ওঠে ফোন। মুম্বই অফিস থেকে সাহিল তিরোধকর। এর উপরেই কাজের দায়িত্ব সঁপে এসেছে তাই প্রমাদ গোনে ঋতু। কথোপকথনের ভঙ্গিতেই বোঝে শতদ্রু, কেস গুবলেট। ফোন কেটে অন্ধকার মুখ ঋতুর, ‘ক্লায়েন্ট ভয়ানক ঝামেলা করছে। ওরা সামলাতে পারছে না।’
 ‘মানে?’
 ‘আমাদের হয়তো কালই ফিরতে হবে।’
 ‘কাম অন। পরশুই তো ফিরছি, একটা দিন সাহিল ম্যানেজ করতে পারবে না?’
 ‘বড়ো প্রজেক্ট শতো, ডেডলাইন এসে গেছে।
 মেজর চেঞ্জ চাইছে ক্লায়েন্ট। দেখি অনলাইনে কী করা যায়!’
 ঋতু টেবিলে বসে ল্যাপটপ অন করে। চলে মিটিং, বাদানুবাদ, অনুরোধ, নির্দেশনামা। রাত গড়ায়। শতদ্রু দেখে ল্যাপটপের আলোয় ভিনগ্রহের মানবীর মতো দূরের বাসিন্দা যেন ঋতু। কঠিন, একমুখী, নিবিষ্ট। এই পাহাড়ি উপত্যকা থেকে সে ক্রমশ দূরে ভেসে যাচ্ছে। দীর্ঘশ্বাস ফেলে পাশ ফিরে চোখ বোজে শতদ্রু।
 সকালে ঘুম ভাঙলে শতদ্রু দেখেছিল ঋতুর প্যাকিং সারা। তৈরি হতে হতে ঋতু জানিয়েছিল সে আপ্রাণ চেষ্টা করেছে কিন্তু ফল হয়নি। আসলে এই সময়ে ভেকেশনে আসার সিদ্ধান্তটাই ভুল ছিল। অথচ আরও একটা দিনের বুকিং রয়েছে। বিমানের টিকিটও একসঙ্গে হচ্ছে না। শুধু শুধু এতগুলো পয়সার শ্রাদ্ধ। শতদ্রু তাই থেকে গেল। প্রথমে শতদ্রুর রাগ আর দুঃখ দুটোই হয়েছিল। ক্রমশ রাগটাকে শতদ্রু যুক্তি দিয়ে বশ করেছিল, মনকে বুঝিয়েছিল এবং হাসিমুখেই ঋতুকে সি-অফ করেছিল। 
 ট্যাক্সিটা এখন পাহাড় ডিঙিয়ে ঘুরে ঘুরে নামছে। ঋতুর মাথা জুড়ে এখন শুধু ক্লায়েন্টের মুশকিল আসানের চাবিকাঠির মরিয়া খোঁজ। সুলগ্নার ফোন এলে ধরল অন্যমনস্ক ভাবে। 
 ‘আমি এয়ারপোর্টে যাচ্ছি মা।’
 ‘সেকি? আজ কেন?’
 ‘একা যাচ্ছি। কাজ এসে গেছে।’ 
 হঠাৎই সুলগ্নার ধৈর্যচ্যুতি ঘটে, তিক্তকণ্ঠে চেঁচিয়ে ওঠে, ‘কাজ কাজ কাজ! পুরুষমানুষ নাকি রে তুই? বর-বাচ্চা-সংসার কিছুই কি তোকে টানে না?’
 স্তম্ভিত ঋতু। খানিকক্ষণ চুপ। তারপর নিজেকে সামলে কেটে কেটে কঠিন গলায় বলে, ‘কেন মা, সারাজীবন তুমিই তো আফশোস করেছ যে সংসার ঠেলতে ঠেলতে তোমার হাঁড়ির হাল? শুনে তোমার জন্য খুব কষ্ট হত! তুমি পরের জন্মে পুরুষ হয়ে জন্মাতে চাইতে। চাকরি, নিজের উপার্জন... ইচ্ছেমতো খরচ করবে, যেখানে খুশি যাবে, স্বাধীন জীবন... তুমি চাইতে কি না?’
 সুলগ্না থমকে গিয়েছে। সত্যিই সংসারের জাঁতাকলে পিষ্ট হতে হতে, আজ্ঞাবহ জীবন টানতে টানতে বলেছে হয়তো! তাদের আমলে মেয়েদের এমন আফশোস ছিল... ক’টা মেয়ে চাকরি করত তখন? ইচ্ছেমতো পথচলার স্বপ্ন বুকে লুকানো থাকত! সুলগ্না বুঝি মেয়ের সামনে আফশোস করেছে? নিশ্চয়ই করেছে। না হলে ঋতু জানল কেমন করে? সুলগ্না এবার ইতস্তত করে বলে, ‘চাইতাম ঠিকই। চাকরি, উপার্জন... তাই বলে জীবন রসাতলে গেছেও ভাবিনি। তোদের নিয়ে ভালোই কেটেছে দিন।’
 ‘মা, তোমার আফশোস, অপূর্ণ স্বপ্ন কিন্তু আমার ভিতরে গভীরভাবে ঢুকে গেছিল! ছোট্ট থেকে ভেবেছি ছেলেদের মতো জীবনকে চ্যালেঞ্জ করব, কোনো বাধাই মানব না। স্কাই ইজ দ্য লিমিট!’
 সত্যিই তো! ঋতুর আকাশছোঁয়ার কঠিন লড়াই সুলগ্নাদের সমর্থনেই তো সম্ভব হয়েছে? ঋতুর সাফল্যে গর্বিত সুলগ্নারা। আজ মেয়েকে এভাবে বকাবকি করা শোভা পায় না। ফোন ছাড়ে অপ্রস্তুত সুলগ্না।
 রোদের তেজে বাষ্পীভূত বরফের সাদা মেঘ পাহাড়ের চূড়াটাকে এখন ঢেকে ফেলছে। চূড়াটা কাল সকালে নতুন উদ্যমে আবার আত্মপ্রকাশ করবে। ঋতুর মাথায় এখন ক্লায়েন্টকে বশ করার নানা কৌশল খেলছে। এই মুহূর্তে উত্তেজনায় টানটান ঋতুকে টানছে তার ছোট্ট অফিসের কনফারেন্স টেবিল। বিমানের ডানায় ভর করে আলোয় আলো আকাশ ছুঁয়েছে ঋতু... পিছনে পড়ে রইল শতদ্রু আর পাহাড়ি উপত্যকা... একটা শিশুর স্বপ্ন... ঝিনুকের বুকে মুক্তোর মতো নরম গোলাপি স্বপ্নটা ঘুমিয়ে রইল বুকের গহিনে... থাকবেই... স্বপ্ন ছাড়া জীবন হয় না। শুধু স্বপ্নরা প্রজন্মান্তরে বুঝি উলটেপালটে যায়।  

অঙ্কন: সুব্রত মাজী

সম্পর্কিত সংবাদ