Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কৃষ্ণনগরে পড়ে থাকা ‘সৃষ্টিশ্রী’ বিল্ডিংকেই হোল্ডিং সেন্টারে বদল, বাড়তে পারে সংখ্যা

কৃষ্ণনগরের সৃষ্টিশ্রী ভবনকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের হোল্ডিং সেন্টার হিসেবে রূপান্তরিত করা হয়েছে। প্রশাসনের উদ্যোগে আরও সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা। বিস্তারিত পড়ুন।

কৃষ্ণনগরে পড়ে থাকা ‘সৃষ্টিশ্রী’ বিল্ডিংকেই হোল্ডিং সেন্টারে বদল, বাড়তে পারে সংখ্যা
  • ৩ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: দীর্ঘদিন ধরে কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা কৃষ্ণনগরের ‘সৃষ্টিশ্রী’ ভবন এবার নতুন ভাবে ব্যবহৃত হতে চলেছে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের অস্থায়ীভাবে রাখার জন্য ভবনটিকেই হোল্ডিং সেন্টার হিসেবে গড়ে তুলেছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা বাড়লে জেলায় আরও হোল্ডিং সেন্টার তৈরির বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

Advertisement

কৃষ্ণনগরের পিডব্লুডি মোড় সংলগ্ন জাতীয় সড়কের ধারে অবস্থিত রাজ্য সরকারের নির্মিত বিশাল ‘সৃষ্টিশ্রী’ ভবন বহুদিন ধরেই অব্যবহৃত অবস্থায় পড়েছিল। ভবন চত্বর আগাছা ও পার্থেনিয়ামে ভরে গেলেও সরকারি কাজে তেমন ব্যবহার হচ্ছিল না। অথচ দু’তলা এই ভবনে রয়েছে ৩০টিরও বেশি কক্ষ, একাধিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘর এবং পর্যাপ্ত পরিকাঠামো। জানা গিয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলা উদ্যোক্তা ও সমবায় ভিত্তিক ব্যবসার প্রসারের উদ্দেশ্যে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে এই ভবন তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু, যে উদ্দেশ্য নিয়ে এটি তৈরি করা হয়েছিল তা সফল হয়নি। একসময় একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর হাতেই এই ভবনের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হলেও পরবর্তীকালে তা আবার ফিরিয়ে নেওয়া হয়। তারপর থেকেই অধিকাংশ ঘর ফাঁকা অবস্থায় পড়ে ছিল।
এবার সেই অব্যবহৃত সরকারি সম্পদকেই কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্তকরণ ও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভবনটিকে হোল্ডিং সেন্টারে রূপান্তরিত করা হয়েছে। যদিও এখনো পর্যন্ত কোনো অনুপ্রবেশকারীকে সেখানে রাখা হয়নি, তবে প্রয়োজন হলে তাঁদের এই ভবনেই রাখা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। প্রশাসনের একাংশের দাবি, এখানে রাখা ব্যক্তিদের জন্য খাবার, চিকিৎসা, ওষুধ, নিরাপত্তা-সহ সমস্ত প্রয়োজনীয় পরিষেবার ব্যবস্থা থাকবে। তদন্ত ও পরিচয় যাচাইয়ের কাজ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হবে। পরবর্তীতে সমস্ত আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁদের বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে। তারপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই নদীয়ার ভীমপুরে তৈরি অস্থায়ী হোল্ডিং সেন্টারে এক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে পুলিশি নিরাপত্তায় রাখা হয়েছিল। গত রবিবার তাঁকে বিএসএফের মাধ্যমে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার কাজ আরও জোরদার হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, ‘কোনো বাড়িতে যদি পরিবারে একাধিক সদস্য অনুপ্রবেশকারী হিসেবে প্রমাণিত হন তাহলে সেই বাড়িটিকেও হোল্ডিং সেন্টার করা যায়। আপাততো সৃষ্টিশ্রী বিল্ডিংকেই হোল্ডিং সেন্টার করা হয়েছে। প্রয়োজনে তা বাড়ানো যেতে পারে।’ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিকবার ‘ডিটেক্ট, ডিলিট ও ডিপোর্ট’ নীতির কথা উল্লেখ করেছেন। সেই প্রেক্ষাপটেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরির নির্দেশ জারি হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি। প্রশাসনের দাবি, প্রয়োজনে জেলার অন্যত্রও একই ধরনের পরিকাঠামো তৈরি করা হতে পারে।  সৃষ্টিশ্রী বিল্ডিংয়েই হোল্ডিং সেন্টার।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ