Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিনোদন

বলিউডি মোড়কে সৎ প্রচেষ্টার অপমৃত্যু

মানুষের স্মৃতি ক্ষণস্থায়ী। তা সত্ত্বেও রোহিত ভেমুলার কথা অনেকেরই এখনও মনে রয়েছে। ২০১৬ সালে হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে এই দলিত ছাত্রের আত্মহত্যা, তাঁর লিখে যাওয়া শেষ চিঠি ভোলার নয়। যা বারবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, শুধুমাত্র দলিত হওয়ার কারণে দিনের পর দিন প্রবল হেনস্তা ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়, তার তুলনায় মৃত্যুকে আলিঙ্গন করা অনেক সহজ।

বলিউডি মোড়কে সৎ প্রচেষ্টার অপমৃত্যু
  • ৪ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সিনেমার সমালোচনা:  ধড়ক ২

Advertisement

সিদ্ধান্ত চতুর্বেদী • তৃপ্তি দিমরি 

 

মানুষের স্মৃতি ক্ষণস্থায়ী। তা সত্ত্বেও রোহিত ভেমুলার কথা অনেকেরই এখনও মনে রয়েছে। ২০১৬ সালে হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে এই দলিত ছাত্রের আত্মহত্যা, তাঁর লিখে যাওয়া শেষ চিঠি ভোলার নয়। যা বারবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, শুধুমাত্র দলিত হওয়ার কারণে দিনের পর দিন প্রবল হেনস্তা ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়, তার তুলনায় মৃত্যুকে আলিঙ্গন করা অনেক সহজ।
সাজিয়া ইকবালের ছবি ‘ধড়ক ২’ তে প্রিয়াঙ্ক তিওয়ারি নামক এক দলিত ছাত্রের আত্মহত্যা রোহিতের কথাই মনে করিয়ে দেবে। এই মৃত্যুগুলি আত্মহত্যা নয়— সমাজের উঁচুস্তরের মানুষের দ্বারা পরিকল্পিত খুন। তাই সমাজের উঁচুস্তর থেকে আসা বিধি ত্রিপাঠী (তৃপ্তি দিমরি) যখন নিপীড়িত স্তর থেকে আসা নীলেশ আহিরওয়ারের (সিদ্ধান্ত চতুর্বেদী) প্রেমে পড়ে তখন বিধির পরিবার ‘প্রগতিশীল’ হওয়া সত্ত্বেও প্রমাদ গানে। কারণ সমাজের সামনে মানসম্মান চুলোয় যাবে। নীলেশ অবশ্য জীবনে বারবার হেনস্তার সম্মুখীন হতে হতে ক্লান্ত। মিথ্যা চুরির অপবাদে পুলিস যখন তাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছিল, তার মা প্রতিবাদ করায় তাকে চড় মারা হয়। আইনের এই চরম অবমাননায় নীলেশের মা ঠিক করে ছেলেকে উকিল তৈরি করবে। পরিকল্পনা মতো ছেলে ভর্তি হয় কলেজে। সেখানে শিক্ষক থেকে ক্লাসের অন্য ছেলেরা তাকে পদে পদে বুঝিয়ে দেয়, শুধুমাত্র ‘সংরক্ষণ’-এর কারণে সে এখানে পৌঁছতে পেরেছে। বিধির সঙ্গে প্রেম মানে আরও লাঞ্ছনার শিকার হবে সে। প্রবল মারধর, গায়ের উপর প্রস্রাব, মুখে কালি লেপে দেওয়া— সবই হয়। নীলেশ বিধিকে বোঝানোর চেষ্টা করেও পারে না যে, তাদের মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে।
২০১৮ সালের ‘ধড়ক’-এর সিক্যুয়েল এই ছবিকে বলা যায় না। বরং একে ফ্র্যাঞ্চাইজি বললে বোধহয় ঠিক হয়। তবে ছবি হিসেবে ‘ধড়ক ২’ এগিয়ে। এবারেও রিমেক। যদিও এবারের মূল ছবি ২০১৮ সালে মারি সেল্ভারাজ পরিচালিত তামিল ছবি ‘পারিয়েরুম পেরুমাল’। মূল ছবির প্রতি সৎ থাকার চেষ্টা করেছেন পরিচালক। তাঁর এবং রাহুল বাদওয়েলকারের লেখা চিত্রনাট্যে নায়িকার চরিত্রটি বরং মূল ছবির চরিত্রের চেয়ে অনেক বেশি প্রগতিশীল। নিজের লড়াই সে নিজে লড়তে জানে, দরকারে প্রতিবাদ করে। তবে ধর্মা প্রোডাকশনের ব্যানারে তৈরি এই ছবি ‘বলিউডি মোড়ক’ ছাড়তে পারেনি। তাই কঠোর বাস্তবের চেহারা গোটা গল্পজুড়ে বললেও, শেষের কিছুটা অংশ দানা বাঁধেনি। 
নীলেশের চরিত্রে সিদ্ধান্ত মন দিয়ে কাজ করেছেন। তৃপ্তির কাজও বেশ ভালো। ছোট চরিত্রে সৌরভ সচদেবার অভিনয় শিরদাঁড়ায় ঠান্ডা স্রোত বইয়ে দেওয়ার মতো। ভারত স্বাধীন হয়েছে, ৭৯ বছর। তবু কয়েকশো বছর ধরে জাত-পাত নিয়ে সমাজের মনের ময়লা আজও একইরকম। সে কেবল প্রগতিশীলতার মুখোশ পরে থাকে। তাকে নাড়া দিতে এই ধরনের গল্প বড়পর্দায় বারবার ফিরে আসা প্রয়োজন। 
দেবত্রী ঘোষ

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ