নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুলিশের বেঁধে দেওয়া চূড়ান্ত সময়সীমা পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু এখনও কলকাতার সিংহভাগ ক্লাব দুর্গাপুজোর অনুদানের ‘ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট’ (ইউসি) বা খরচের হিসেব থানায় কাছে জমা দেয়নি বলে খবর। ৩ নভেম্বর লালবাজারের এক অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট থেকে এই তথ্য জানা গিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবছর দুর্গাপুজোর জন্য রাজ্যের ৪০ হাজারের বেশি বরোয়ারি পুজো কমিটিকে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। গত বছর এই অনুদানের পরিমান ছিল ৮৫ হাজার টাকা। রাজ্য সরকারের অনুদান দেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন মেনে বিচারপতি সুজয় পাল ও স্মিতা দাস দে’র ডিভিশন বেঞ্চ ওই জনস্বার্থ মামলায় শর্ত দিয়েছিল, গত বছর যেসব ক্লাব পুজো অনুদানের হিসেব জমা দেয়নি, তারা এবার অনুদান পাবে না। দ্বিতীয়ত, পুজোর ছুটি শেষে হাইকোর্ট খোলার এক মাসের মধ্যে ইউসি বা টাকা খরচ সংক্রান্ত রিপোর্ট রাজ্যকে জমা দিতে হবে।
রাজ্যের ৪০ হাজার বরোয়ারি পুজো কমিটির মধ্যে কলকাতা পুলিশের এলাকায় রয়েছে ২৮৭৬টি। লালবাজারের রিপোর্ট বলছে, চলতি বছরে কলকাতা পুলিশ মোট ২৯৫৯টি চেক বিলি করেছিল। এর মধ্যে আবাসনের পুজোও রয়েছে। কিন্তু ৩ নভেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৯৩৭টি কমিটি সেই হিসেব জমা দিয়েছে। অর্থাৎ এখনও ২০২২টি ক্ষেত্রে অনুদানের হিসেবে জমা পড়েনি। শতাংশের হিসেবে বললে, ৬৮.৩৪ শতাংশ পুজো কমিটিই এখনও হিসেব পেশ করেনি।
লালবাজার এবার কলকাতায় ‘ইউটিলাইজেসন সার্টিফিকেট’ জমা দেওয়ার শেষ দিন রেখেছিল ২ নভেম্বর। কলকাতা পুলিশের ১০টি ডিভিশনের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা সেন্ট্রাল ডিভিশন, ভাঙড়, পোর্ট এবং সাউথ ইস্ট ডিভিশনের। ৩ নভেম্বর পর্যন্ত এই চারটি ডিভিশনে একটিও ইউসি জমা পড়েনি। এনিয়ে অবশ্য কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি কলকাতা পুলিশের কোনও কর্তা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতার এক থানার ওসি জানাচ্ছেন, ‘ফি-বছর পুজোর আগে থানা থেকে চেক সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে কমিটিগুলির আগ্রহ তুঙ্গে থাকে। কিন্তু হিসেব দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের বারবার তাগাদা দিতে হয়।’ কেউ কেউ মনে করছেন, শর্ত লঙ্ঘন নিয়ে ফের মামলা হলে বিপাকে পড়তে পারে নিয়ম না মানা পুজো কমিটিগুলি। পুজো আয়োজক হরিদেবপুর বিবেকানন্দ পার্ক অ্যাথলেটিক ক্লাবের তন্ময় দত্ত বলছিলেন, ‘এই সময়সীমা আরও একটু বাড়ানো উচিত। কারণ, কলকাতাতে এখন জগদ্ধাত্রী পুজো পর্যন্ত উৎসবের রেশ চলে। তাই হিসেব জমা দিতে দেরি হচ্ছে।’



