Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

দেশের আর্থিক পরিস্থিতি খুবই খারাপ, মানল কেন্দ্র

ভারতের আর্থিক পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে জানাল কেন্দ্র। মূল্যবৃদ্ধির চাপ বেড়েছে, বিদেশি সংস্থাগুলি বাজার থেকে ২৩.৬ বিলিয়ন ডলার প্রত্যাহার করেছে। বিস্তারিত পড়ুন।

দেশের আর্থিক পরিস্থিতি খুবই খারাপ, মানল কেন্দ্র
  • ৫ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি; মোকাবিলা করার সব ধরনের চেষ্টা করলেও ভারতের আর্থিক পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সরকার নিজে পরিকাঠামো ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করলেও আশানুরূপ বেসরকারি বিনিয়োগ হচ্ছে না। চলতি জুন মাসের শেষে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ আসার সমস্যা মিটে গেলেও আগামী বছরের গোড়া পর্যন্ত চলবে সমস্যা। পরিস্থিতি সহজে স্বাভাবিক হবে না। বৃহস্পতিবার অর্থ সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এমনই উদ্বেগজনক অবস্থার কথা জানাল সরকার। 

Advertisement

বৈঠকের বিষয় ছিল—‘দেশের আর্থিক অবস্থা’। অর্থনীতি বিষয়ক দপ্তরের আধিকারিকদের পাশাপাশি পরিস্থিতি ব্যাখা করতে ডাকা হয়েছিল সরকারের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরনকে। বিজেপি সাংসদ ভর্তৃহরি মেহতাবের সভাপতিত্বে বসেছিল বৈঠক। সেখানেই পশ্চিম-এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জের, হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা মালবাহী জাহাজ, পেট্রপণ্যের জোগানে ঘাটতি, টাকার দামে পতন, ভারত ছেড়ে আমেরিকায় এফডিএ চলে যাওয়ার মতো নানা বিষয় উঠে আসে। 
সূত্রের খবর, কমিটির সদস্যদের প্রশ্নের মুখে সরকার জানিয়েছে, মূল্যবৃদ্ধির জেরে চাপ বাড়ছে। খুচরো বাজারে মুদ্রাস্ফীতি গত এপ্রিলে সাড়ে তিন শতাংশ বাড়লেও পাইকারিতে মাত্রা ছাড়িয়েছে। হয়েছে ৮.৩ শতাংশ। যা গত ৪২ মাসের মধ্যে সর্বাধিক। ‘এল নিনো’র কারণে খাদ্য সামগ্রীর দাম ভবিষ্যতে আরো বাড়তে পারে বলেও কমিটিকে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রকের আমলারা। 
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোদি সরকার চেষ্টার ত্রুটি রাখছে না বলে বৈঠকে দাবি করা হয়েছে। সূত্রের খবর, অর্থনীতি বিষয়ক দপ্তরের পক্ষে কমিটিকে ‘দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি’ শীর্ষক ১৮ পাতার একটি নোট জমা করা হয়েছে। সরকারের সামনে এই মুহূর্তে কী কী চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং তা মোকাবিলায় কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার বিবরণও দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, বিশ্ব অর্থনীতি বর্তমানে এক দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে চলছে। পশ্চিম-এশিয়ার সংঘাতের জেরে জ্বালানির দাম বেড়েছে। সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। হরমুজ প্রণালীর সমস্যার জেরে অন্য জায়গা থেকে জ্বালানি তেল আমদানি করা হচ্ছে। ভারত বর্তমানে প্রায় ৪০টি দেশ থেকে তেল কিনছে। মোট আমদানির ৭০ শতাংশ হরমুজ প্রণালীর বাইরে থেকে আনা হচ্ছে। আগে যা হত ৫৫ শতাংশ। তবে মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে বলে আর্থিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। পশ্চিম-এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভারতের বাজার থেকে ২৩.৬ বিলিয়ন ডলার প্রত্যাহার করে নিয়েছে বিদেশি সংস্থাগুলি। মার্কিন ডলারের তুলনায় টাকার দাম গত কয়েক মাসে ৪.৯ শতাংশ পড়েছে। ফলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন বলেই জানিয়েছে সরকার। বৈঠকের বিষয়ে কমিটির চেয়ারম্যান ভর্তৃহরি মেহতাব বলেন, ‘পরিস্থিতি গুরুতর। তবে সরকার চেষ্টা করছে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ