নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ঠিক কতগুলি বুথ থাকবে, তা নির্ধারণ থেকে শুরু করে গোটা এসআইআর প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করতে আজ শুক্রবার বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন। সকাল ১১টা থেকে ভার্চুয়ালি ওই বৈঠকে যোগ দেবে কমিশনের ফুল বেঞ্চ। মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিকের দপ্তরের কর্তারা ছাড়াও ওই বৈঠকে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক বা ডিইওদের উপস্থিত থকেতে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
কমিশনের জারি করা নিয়ম মোতাবেক কোনো বুথে ১২০০-র বেশি ভোটার থাকবে না। কমিশনের ওই নির্দেশিকা অনুযায়ী এসআইআর শুরু হওয়ার আগের হিসেব অনুযায়ী ঠিক ছিল রাজ্যে প্রায় ১৪ হাজার বুথ বাড়তে চলেছে। কিন্তু এসআইআরের খসড়া তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম। ঝাড়াই বাছাইয়ের পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে আরো কয়েক লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়বে। পাশাপাশি তালিকায় যুক্ত হবেন কয়েক লক্ষ নতুন ভোটার। যাবতীয় হিসেব খতিয়ে দেখে বুথের পুনর্বিন্যাস হবে বলে জানা যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে ঠিক রাজ্যে কত সংখ্যক বুথে নির্বাচন হবে বৈঠকে তার প্রাথমিক হিসেবনিকেশ হবে বলে জানা যাচ্ছে।
এর আগে কমিশনের নির্দেশ ছিল আবাসনগুলিতে বুথ তৈরির জন্য জেলা প্রশাসনগুলিকে সমীক্ষার কাজ শেষ করতে হবে। সেই কাজ সময়মতো শেষ না-হওয়ায় জেলা প্রশাসনগুলির উপর রীতিমতো উষ্মা প্রকাশ করে ফের নির্দেশিকা জারি করেছিল কমিশন। সেইমতো আবাসনে বুথ তৈরির প্রস্তাবও জমা পড়েছে। বৈঠকে গোটা বিষয় নিয়েই আলোচনা হবে বলে খবর।
এছাড়া বৈঠকে গোটা এসআইআর প্রক্রিয়াও পর্যালোচনা করা হবে বলে জানা যাচ্ছে। কমিশন সূত্রের খবর, কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী ১৩টি গ্রহণযোগ্য নথির বাইরেও একাধিক নথি জমা পড়েছে। একাধিক জেলায় তা পর্যবেক্ষকদের নজরে এসেছে। কেন নির্দেশিকার বাইরে নথি জমা নেওয়া হল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইতিমধ্যেই কমিশনে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন পর্যবেক্ষকরা। কমিশন যাবতীয় রিপোর্ট খতিয়ে দেখেছে বলে সূত্রের খবর। এসব ক্ষেত্রে ইআরওদের জবাবদিহি করতে হতে পারে বলেও জানা যাচ্ছে। বৈঠকে সে বিষয়েও কমিশন বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করতে পারে বলে খবর। এছাড়া যাবতীয় কাজ শেষ করে ২৮ তারিখের মধ্যেই যাতে নির্ভুল চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা যায় বৈঠকে সেই বার্তাও দিতে চলেছেন জ্ঞানেশ কুমাররা।
এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর রাজ্য সরকার নির্বাচন কমিশনকে ৮,৫০৫ জন বি গ্রেড আধিকারিক দিলেও এখনো পর্যন্ত ৬৩০০ জন কাজে যোগদান করেছেন বলে খবর। তাঁদের মধ্যে ৪০০ জন এইআরও হিসেবে আগে থেকেই নিযুক্ত রয়েছেন। এই ব্যাপারে সমস্ত জেলাকে রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। কিন্তু এদিন আলিপুরদুয়ারের তরফে যে রিপোর্ট জমা পড়েছে তা নিয়ে ধন্ধ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।