Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

২ তৃণমূল প্রার্থী সহ ২৯ জনকে দাগি তকমা কমিশনের, ক্ষোভ, বিজেপি পরাজয় মেনে নিয়েছে, দাবি মহুয়ার

জেলায় দাগি তকমা দেওয়া হয়েছে ২৯ জনকে। কমিশনের ‘ট্রাবল মেকার’-এর সেই তালিকায় রয়েছে দুজন তৃণমূল প্রার্থী, নীচুতলার বহু প্রথম সারির ভোট ম্যানেজার‌

২ তৃণমূল প্রার্থী সহ ২৯ জনকে দাগি তকমা কমিশনের, ক্ষোভ, বিজেপি পরাজয় মেনে নিয়েছে, দাবি মহুয়ার
  • ২২ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: জেলায় দাগি তকমা দেওয়া হয়েছে ২৯ জনকে। কমিশনের ‘ট্রাবল মেকার’-এর সেই তালিকায় রয়েছে দুজন তৃণমূল প্রার্থী, নীচুতলার বহু প্রথম সারির ভোট ম্যানেজার‌। কিন্তু সেই ট্রাবল মেকারদের তালিকায় বিজেপির কারও নাম নেই। নির্বাচনের আগেই বেছে বেছে তৃণমূল নেতাদের ‘গৃহবন্দি’ করে রাখার পিছনে বিজেপির চক্রান্ত দেখছে ঘাসফুল শিবির। এমনকী তাঁদের গ্রেপ্তারের আশঙ্কাও করা হচ্ছে। এই নিয়ে সরব হয়েছেন কৃষ্ণনগর লোকসভার তৃণমূলের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি বলেন, ‘এর থেকেই প্রমাণ হয় যে, বিজেপি নিজের পরাজয় ধরে নিয়েছে। তাই এসব করে আমাদের দলের প্রার্থী ও কর্মীদের গৃহবন্দি করার চক্রান্ত করতে হচ্ছে। মানুষের ভোটে তৃণমূল জিতবে এবং বিজেপি বাংলা ছাড়া হবে।’ 

Advertisement

নির্বাচন কমিশনের দাগিদের তালিকায় রয়েছেন চাপড়া বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী জেবের শেখ এবং চাকদহ বিধানসভায় তৃণমূল প্রার্থী শুভঙ্কর সিংহ (জিশু)। যদিও নির্বাচন কমিশনের পোর্টালে তাঁরা নিজের হলফনামায় জানিয়েছেন যে, উভয়ের নামে একটি করে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের দাবি, চাপড়াতে এমন আরও অনেক দুষ্কৃতী রয়েছে যাঁরা এতদিন শাসকদলের সঙ্গে যুক্ত ছিল, কিন্তু বর্তমানে ‘গদ্দার-শিবিরে’ নাম লিখিয়েছে। এনিয়ে জেবের শেখ বলেন, এটা বিজেপির চক্রান্ত। 
আগামী ১৫০ ঘণ্টার মধ্যে বিজেপির সিরিয়াস অ্যাকশন প্ল্যান রয়েছে বলে দাবি করে ডেরেক ও ব্রায়েন জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে সিবিআই, ইডি এবং এনআইএ প্রধানদের বৈঠক ডেকে ওই অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে। 
জানা গিয়েছে, করিমপুর বিধানসভার আজিজুর রহমান মল্লিক রয়েছেন এই তালিকায়। তিনি করিমপুর-২ ব্লকের প্রাক্তন সভাপতি এবং পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তিনি পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ। এছাড়াও করিমপুরের প্রাক্তন অঞ্চল সভাপতি আবু বাক্কার সিদ্দিকি এবং করিমপুর-২ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি মিঠু শেখকে দাগি তকমা দেওয়া হয়েছে।‌ আবার কালীগঞ্জ বিধানসভার দেবগ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের বর্তমান অঞ্চল সভাপতি মহিউদ্দিন শেখ সহ দুজনের নাম রয়েছে এই তালিকায়। এছাড়াও নাকাশিপাড়া ব্লকের হরনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি জুব্বার শেখ, ধনঞ্জয়পুরের অঞ্চল সভাপতি জাহাঙ্গির শেখ, বিক্রমপুর পঞ্চায়েতের অঞ্চল সভাপতি রাকিবুল মণ্ডল, বিল্বগ্রাম পঞ্চায়েতের অঞ্চল সভাপতি আজাদ আলি শেখ এবং ধর্মদা পঞ্চায়েতের অঞ্চল সভাপতি শ্যামল ভট্টাচার্যের নাম এই তালিকা রয়েছে। পাশাপাশি কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভার ৪ জন, শান্তিপুর বিধানসভার তৃণমূল নেতা মনোজ সরকার, রানাঘাট উত্তর পশ্চিম বিধানসভার একজন, রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভার একজন, কৃষ্ণগঞ্জের বিধানসভার দুজন এবং কল্যাণী বিধানসভার দুজনের নাম দাগিদের তালিকায় রয়েছে। এমনকী রানাঘাট উত্তর পূর্ব বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী বর্ণালী দে’র স্বামী তথা রানাঘাট পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান আনন্দ দে’র নামও তালিকাতে রয়েছে। 
চাকদহ বিধানসভায় তৃণমূল প্রার্থীর শুভঙ্কর সিংহ বাদেও  রানাঘাট সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক সাধন বিশ্বাস, প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন শহর সভাপতি দীপক চক্রবর্তী সহ চারজনকে ট্রাবল মেকারের তালিকায় রাখা হয়েছে। এমনকী হরিণঘাটার তৃণমূলের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা চঞ্চল দেবনাথও দাগিদের তালিকায় রয়েছেন। তিনি আবার হরিণঘাটা বিধানসভার নির্বাচনি কমিটির তৃণমূলের চেয়ারম্যান এবং কল্যাণী মহকুমার অন্তর্গত তিন বিধানসভার কোঅর্ডিনেটার‌। এনিয়ে চঞ্চলবাবু বলেন, বিজেপির আর কোনো জনসমর্থন নেই। মানুষ ওদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তাই এইসব করেছে। এমনকী হরিণঘাটা বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী রাজীব বিশ্বাসের ইলেকশন এজেন্ট উত্তম সাহার নামও রয়েছে। 
রানাঘাট লোকসভার সাংসদ জগন্নাথ সরকার বলেন, তৃণমূল মানেই দুষ্কৃতীদের দল। সরকারের মদতেই তারা তৈরি হয়েছে। আর যে যত বড় মস্তান হবে, তাঁরা তৃণমূলে তত বড় পদ পায়। তাই এই দাগিদের তালিকায় তৃণমূল নেতাদের নাম থাকবে সেটাই স্বাভাবিক।  

সম্পর্কিত সংবাদ