নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এসআইআরে বাদ পড়া ভোটারদের জন্য নতুন ব্যবস্থা নয়, তাঁরা ফর্ম ৬ পূরণ করে নাম তোলার আবেদন করতে পারবেন পারবেন। মঙ্গলবার জানিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)। কমিশনের বক্তব্য, এসআইআরের পর কমিশনের প্রকাশ করা খসড়া তালিকায় যাঁদের নাম বাদ পড়েছিল তাঁরা এবার ফর্ম ৬ পূরণ করে ভোটার তালিকায় আবার নতুন করে নাম তোলার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে কোনো বাদ পড়া ভোটারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছে কমিশন। তবে এই আশ্বাসের পরও বাদ পড়াদের আশঙ্কা কাটছে না। অনেকেই ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন। এবার নতুন করে নাম তুলতে চেয়ে ফর্ম ৬ জমা দিতে গেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়তে হতে পারে বলে ভয় পাচ্ছেন তাঁরা। তবে কমিশন বলছে, আগে ভোটার থাকা সত্ত্বেও ফর্ম ৬ জমা দিয়ে নিজেকে ‘নতুন’ ভোটার হিসাবে ঘোষণা করলে সেটি ‘মিথ্যা ঘোষণা’ বলে গণ্য হবে না। কমিশন আরও জানিয়েছে, কোনো ভোটার যদি আইন মেনে ফর্ম ৬ জমা দেন, তবে শুধুমাত্র আগে তাঁর নাম ভোটার তালিকায় ছিল—এই কারণে কোনো নির্বাচনি নিবন্ধন আধিকারিক (ইআরও) সংশ্লিষ্ট ওই ভোটারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবেন না। এই ব্যাপারে যাবতীয় ধন্দ এড়াতে দেশের সব রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নির্বাচনি আধিকারিকদের প্রচারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৩১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়ে জেনেশুনে ভুয়ো কিংবা মিথ্যা ঘোষণা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সেক্ষেত্রে একবছর পর্যন্ত কারাদণ্ড কিংবা জরিমানা বা উভয়ই হতে পারে। এই ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। মহারাষ্ট্রের এক মামলায় সুপ্রিম কোর্ট মৌখিকভাবে আশ্বাস দিয়েছিল— নাম বাদ পড়াদের কেউ ফর্ম ৬ জমা দিলে, শুধুমাত্র সেই কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হবে না। এবার বিজ্ঞপ্তি বিষয়টি স্পষ্ট করল কমিশন।
এদিকে, ট্রাইবুনালের বিচারপতিদের জন্য নয়া ফরমান জারি করেছে কমিশন। এর আগে বলা হয়েছিল, কোনো আবেদন নিষ্পত্তির পর চূড়ান্ত নির্দেশনামা আপলোড করতে গেলে বিচারপতিদের আধার অথেনটিকেশন করতে হবে। সেটি প্রত্যাহার করার দাবির সঙ্গে একরাশ ক্ষোভ জানিয়ে কমিশনে দুবার চিঠি দিয়েছেন বিচারপতিরা। আর এবার কমিশন জানিয়েছে, প্যান কার্ড এবং সরকারের দেওয়া আইডি কার্ড ব্যবহার করে নির্দিষ্ট পোর্টালে ঢুকতে পারবেন বিচাপিতিরা। কিন্তু তাতেও আপত্তি জানিয়েছেন ট্রাইবুনালের বিচারপতিদের একাংশ। তাঁদের প্রশ্ন , সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই ট্রাইবুনাল গঠিত হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি তাঁদের নিয়োগ করেছেন। তাহলে কেন প্যান কার্ড এবং সরকারের দেওয়া আইডি কার্ড ব্যবহার করে নির্দিষ্ট পোর্টালে লগ ইন করতে হবে! স্বাভাবিকভাবেই তাই ট্রাইবুনালে জমা পড়া আবেদনগুলির নিষ্পত্তি নিয়ে নতুন করে জাটিলতা তৈরি হয়েছে।



