Bartaman Logo
২৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পালাবদল হতেই রং বদল! তৃণমূলের পতাকা সরিয়ে অটো-টোটো গেরুয়াময়

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল নিশ্চিত হতেই বদলে যেতে শুরু করেছে চারপাশ। সোমবার ফলাফলের ‘ট্রেন্ড’ স্পষ্ট হওয়ার সময় থেকে রাস্তাঘাটে নানারকম পরিবর্তন চোখে পড়ছে।

পালাবদল হতেই রং বদল! তৃণমূলের পতাকা সরিয়ে অটো-টোটো গেরুয়াময়
  • ৬ মে, ২০২৬ ১৪:০৫
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল নিশ্চিত হতেই বদলে যেতে শুরু করেছে চারপাশ। সোমবার ফলাফলের ‘ট্রেন্ড’ স্পষ্ট হওয়ার সময় থেকে রাস্তাঘাটে নানারকম পরিবর্তন চোখে পড়ছে। সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে অটো, টোটো, চালকদের ইউনিয়নেয়র রং বদল। অটো, টোটো, চালকদের ইউনিয়ন থেকে হকার্স ইউনিয়ন—যেসব জায়গায় এতদিন একচ্ছত্রভাবে তৃণমূলের পতাকা, ব্যানার লাগানো থাকত, সেখানে বিজেপির দলীয় পতাকা ও গেরুয়া ঝান্ডা উড়তে দেখা যাচ্ছে। বারাসত, হাবড়া, অশোকনগর, মধ্যমগ্রাম, দেগঙ্গা—সর্বত্রই কমবেশি একই চিত্র। এই পরিবর্তনের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ। স্থানীয় স্তরে খোঁজ নিয়ে জানা যাচ্ছে, আম জনতার এই অংশের তৃণমূল থেকে সরে আসার পিছনে অন্যতম কারণ হল ‘তোলাবাজি’। অটো ও টোটোচালকদের একাংশ জানাচ্ছে, ইউনিয়নের নামে নিয়মিত অর্থ দিতে হত। তাছাড়া স্ট্যান্ডে দাঁড়ানো, নির্দিষ্ট রুটে চলাচল, এমনকি নতুন গাড়ি নামানোর ক্ষেত্রেও আলাদা করে টাকা গুনতে হয়েছে বহুবার। এভাবে টাকা তোলা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ জমা হচ্ছিল তাঁদের মধ্যে। কিন্তু ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসেনি। হকারদের অভিযোগও একই রকম। বাজারে বসার জায়গা নিশ্চিত করতে বা প্রশাসনিক জটিলতা এড়াতে নিয়মিত ‘তোলা’ দিতে হয়েছে তাঁদের।

Advertisement

এসব ব্যবস্থাপনা ছোটো ব্যবসায়ীদের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করছিল। ভোটের ফল ঘোষণা হতেই সেই চাপা ক্ষোভ প্রকাশে চলে আসে। সোমবার দুপুরের পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় দ্রুত রংবদল হয়ে যায়। বারাসতের একাধিক অটোস্ট্যান্ডে তৃণমূলের পতাকা নামিয়ে গেরুয়া পতাকা তোলা হয়। হাবড়া ও অশোকনগরে চালকদের একাংশ গেরুয়া রঙের পোশাক পরে নিজেদের অবস্থান জানান দেন। মধ্যমগ্রাম এবং দেগঙ্গায় হকার্স ইউনিয়নে পতাকা বদলে ফেলা হয়। অটো, টোটো থেকে শুরু করে বাস বা পণ্য পরিবহণের ছোটো-বড়ো গাড়িতে বেঁধে দেওয়া হয় পদ্ম-পতাকা।  
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনকে শুধুমাত্র ফলাফলের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসাবে দেখলে ভুল হবে। এমনিতেই অটো, টোটো,  হকার্স ইউনিয়নের মতো সংগঠনগুলি ক্ষমতায় থাকা দলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলে। কিন্তু এটাও সত্যি যে  নীচুতলায় জমে থাকা ব্যাপক অসন্তোষ পুঞ্জীভূত হয়ে ভোটবাক্সে জমা হলে ক্ষমতার হাতবদল হয়। এবার সেটাই হয়েছে। 
আরও একটি দিকও এখানে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনীতির বিশেষজ্ঞরা। এই ইউনিয়নগুলি কেবল পেশাভিত্তিক সংগঠন নয়, বরং স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অন্যতম হাতিয়ার। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ থাকে অটোচালক, টোটোচালক ও হকারদের। ফলে এই স্তরে প্রভাব বিস্তার মানে জনমত গঠনের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা। তাই এই স্তরে বিজেপির দ্রুত জায়গা করে নেওয়া যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে তারা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ