Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সংগ্রহে রয়েছে কিশোরের ভিটের মাটি, গোটা বাড়ি যেন মিউজিয়াম, গায়কের স্মৃতি আগলে হাওড়ার সুপ্রিয়

যত্ন করে সাজানো কিশোর কুমারের কালজয়ী সব অ্যালবামের পোস্টার, ব্যানার। আছে বিভিন্ন ভাষার রেকর্ড, সিডি, ক্যাসেট।

সংগ্রহে রয়েছে কিশোরের ভিটের  মাটি, গোটা বাড়ি যেন মিউজিয়াম, গায়কের স্মৃতি আগলে হাওড়ার সুপ্রিয়
  • ৫ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: যত্ন করে সাজানো কিশোর কুমারের কালজয়ী সব অ্যালবামের পোস্টার, ব্যানার। আছে বিভিন্ন ভাষার রেকর্ড, সিডি, ক্যাসেট। বলা যেতে পারে পুরো বাড়িটাই যেন কিশোর কুমারের স্মৃতি ধরে রাখার ছোটখাট একটি মিউজিয়াম। পঞ্চাশ বছর ধরে কিশোর কুমারের স্মৃতি আগলে রেখেছেন সুপ্রিয় ভট্টাচার্য নামে এক ব্যক্তি। তাঁকে পরিচিতরা বাপিদা বলে ডাকেন। হাওড়ার চিনাপুকুর প্রিয়নাথ ঘোষ লেনের বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সি মানুষটি। তাঁকে শুধু কিশোর কুমারের ভক্ত বললে কম বলা হয়। 

Advertisement

কিশোরের জন্মদিবসে প্রতিবছর সুপ্রিয়বাবুর বাড়ি সঙ্গীতসন্ধ্যার আসর বসে। গান, স্মৃতিচারণ হয় ‘সঙ্গীতে আভাস’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে। ছোটবেলা থেকে আজ পর্যন্ত কিশোর কুমারকে ঘিরে থাকা অজস্র স্মৃতি। সে ঝাঁপি খুলে বসেন সুপ্রিয়বাবু। স্কুলজীবন থেকেই কিশোরের গানের প্রতি তাঁর ভীষণ টান। তখন থেকেই রেকর্ড সংগ্রহ শুরু। তারপর গানের ক্যাসেট, সিডি জোগাড়। বই, ম্যাগাজিন, ব্যানার, পোস্টার সংগ্রহ। গানের অনুষ্ঠানে সামনে থেকে সঙ্গীত সম্রাট কিশোর কুমারকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল। এরপর ক্যাসেট রেকর্ডিংয়ের ব্যবসা শুরু করেছিলেন। নয়ের দশকে ব্যবসা রমরমা চেহারা নেয়। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য ক্যাসেট থেকে সিডিতে ট্রান্সফার করেন গান। এরপর কম্পিউটার আসার পর ধীরে বন্ধ হয়ে যায় রেকর্ডিংয়ের ব্যবসা। কিন্তু কিশোরপ্রীতি মোটেও কমেনি সুপ্রিয়র। ট্রাঙ্কে রেখে দিয়েছেন কিশোরের গানের অধিকাংশ রেকর্ড। হিন্দি-বাংলা শুধু নয়, কিশোর কণ্ঠে অন্যান্য ভাষায় গাওয়া গানের রেকর্ডিংও আছে। এছাড়াও আছে দম দেওয়া কলের গান, চোঙা ছাড়া রেকর্ডিং বাক্স, ৭৮ রেকর্ডের গ্রামোফোন। সুপ্রিয়বাবু বলেন, ‘ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর পর ইন্দিরা প্রিয়দর্শিনী নামে একটি গান গেয়েছিলেন কিশোর কুমার। সেটি খুব দুষ্প্রাপ্য রেকর্ডিং। তা সংগ্রহ করার বহু চেষ্টা করেছিলাম। পাইনি।’
কিশোর কুমারের মৃত্যুর পর তাঁর মধ্যপ্রদেশের খান্ডোয়ার ভিটেবাড়ি থেকে মাটি সংগ্রহ করে এনেছিলেন সুপ্রিয়। যে শ্মশানে শেষকৃত্য হয়েছিল সেখানকার মাটিও নিয়ে এসেছিলেন। খান্ডোয়া আক্ষরিক অর্থেই সুপ্রিয়বাবুর কাছে তীর্থক্ষেত্র। তিনি বলেন, ‘বহুবার গিয়েছি খান্ডোয়ায়। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কিশোরকুমারের বাড়ির অবস্থা বেহাল। কতদিন বাড়ি টিঁকবে জানা নেই। কেউ উদ্যোগ নিল না।’ তিনি জানান, ইন্দোর খ্রিস্টান কলেজে পড়াশোনা করার সময় ক্যান্টিনে বসে লিখেছিলেন ‘পাঁচ রুপিয়া বারা আনা’ গান। আজও একই রকম রয়েছে খান্ডোয়ার সেই জিলিপির দোকানটি যেখানে বসে দিনের পর দিন আড্ডা মেরেছেন কিশোর। তাঁর বাড়ি, কলেজ ইত্যাদি জায়গা ঘুরে নিজের মতো ডকুমেন্টেশন করেছেন সুপ্রিয়বাবু। আজীবন সেগুলো আগলে রেখে দিতে চান।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ