Bartaman Logo
৮ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রথ ঘিরে থাকে জগৎপ্রভুর ৯৬ জোড়া চোখ, জোরকদমে ৬৩০ বছরের উৎসবের প্রস্তুতি মাহেশে

মাহেশের ৬৩০ বছরের রথযাত্রার প্রস্তুতি চলছে। ১২৫ টন ওজনের রথে ৯৬ জোড়া চোখের ঐতিহ্য। বিস্তারিত পড়ুন।

রথ ঘিরে থাকে জগৎপ্রভুর ৯৬ জোড়া চোখ, জোরকদমে ৬৩০ বছরের উৎসবের প্রস্তুতি মাহেশে
  • ৮ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: জগৎপতি জগন্নাথ রথযাত্রার সময় শুধু বসে থাকেন না, তাঁর ৯৬ জোড়া চোখ ঘিরে রাখে আস্ত রথকে। ছয় শতাব্দী পার করা হুগলির মাহেশের রথ ঘিরে এটাই জনশ্রুতি। 

Advertisement

১৬ জুলাই রথযাত্রা। মাহেশের ১২৫ টন ওজনের বিলেতে নির্মিত লোহার রথ এখন সাজিয়ে তোলার কাজ চলছে। একইসঙ্গে আঁকা হচ্ছে চোখ। এক দু’টি নয়, ৯৬ জোড়া চোখে মাসির বাড়ির যাত্রাপথে নজর রাখেন জগৎপতি। কবে, কেন এমন বিশ্বাসের জন্ম হয়েছিল সে কথা লেখা নেই। ৬৩০ বছরে পা দিতে চলা রথযাত্রা শুরুর দিন থেকেই রথের শরীরজুড়ে জগৎপতির চোখ বিরাজমান, এমনই দাবি সেবায়েতদের।
জগৎপতির চোখ শুধু নয়, রথের গায়ে কাঠের উপর আঁকা হয় একাধিক লীলার ছবিও। ঐতিহ্যবাহী নির্দিষ্ট ধারা মেনে তা আঁকা হয়। সামগ্রিকভাবে রথকে এসবই করে তোলে মনোমুগ্ধকর। বর্তমানে হুগলির মাহেশের রথ সাজানোর পর্বে দেবলীলা ফুটিয়ে তোলার কাজ চলছে। এ কাজ নিয়ে উৎসাহপ্রকাশ করেছেন মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরের নবীন সেবায়েত পিয়াল অধিকারী। তিনি বলেন, ‘পূর্বজদের কাছে শুনেছি রথযাত্রা শুরুর দিন থেকেই রথের গায়ে জগৎপতির চোখ আঁকা হত। ৯৬ জোড়া চোখ রথকে ঘিরে থাকত। সময়ের সঙ্গে কাঠের রথ লোহার হয়েছে। বিলেতে তা তৈরি হয়েছিল। এখন সেই লোহার রথেই জগৎপ্রভু মাসির বাড়ি যান এবং ফিরে আসেন। লোহার শরীরে জগৎপ্রভুর চোখ আঁকা হয়। সঙ্গে কারুকার্যখচিত কাঠের পাটাতন বসানো হয়। আর দেবলীলার ছবি আঁকা হয়। রথের প্রথমতল থেকে সর্বোচ্চতল নানা লীলায় সজ্জিত।’ বহুদিন ধরে মাহেশের রথযাত্রার সাক্ষী শ্রীরামপুরের সমাজকর্মী সমীর সাহা। তিনি বলেন, ‘রথ তার শরীরজুড়ে ধরে রেখেছে ঐতিহ্য, ইতিহাসের ধূলোমাটি। প্রতিবছর সেসবই আরও একবার ফিরে দেখার সুযোগ হয়।’
১২৯২ বঙ্গাব্দে বিলেতের মার্টিন বার্ন সংস্থা তৈরি করেছিল মাহেশের রথ। প্রায় ৫০ ফুট উচ্চতা আর ৩ টন ওজনের পুরোদস্তুর লোহার তৈরি র঩থেই সে বছর থেকে সওয়ার জগৎপতি। রথ বদলালেও বদলায়নি রীতি। তাই আজও জগৎপ্রভুর চোখ ঘিরে রাখে রথকে। ত্রিতল রথের এক্কেবারে শেষের তথা নীচের তলা সাজানো হয় চৈতন্যলীলার চিত্র দিয়ে। দ্বিতীয়তলে থাকে কৃষ্ণলীলার নানা আখ্যান। তৃতীয়তলে রামলীলার ছবি। লোহার রথের ঘোড়াও লৌহনির্মিত। একজোড়া ঘোড়ার একটি নীলাভ অন্যটি সাদা। ঘোড়াদেরও রংয়ের কাহিনি জানা যায় না। শুধু ইতিহাসে থাকা স্মৃতি উসকে দিয়ে প্রতিবছর বিপুল আওয়াজ তুলে জগৎপ্রভুর রথ আধুনিক পিচঢালা রাস্তায় নেমে আসে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ