নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট (আইএসআই) গঠন ও পরিচালন ব্যবস্থায় আমূল বদল আনতে সংসদের চলতি অধিবেশনেই বিল আনতে চাইছে সরকার। এই বিলের কপি এমপিদের ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। জনমত সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বিলটির খসড়া কয়েকমাস আগেই কেন্দ্র প্রকাশ করে। তাতে বিতর্কও তৈরি হয়। বিশেষ করে আইএসআই মহলে। শিক্ষক, ছাত্র, গবেষক থেকে শুরু করে কর্মী আধিকারিকরা একযোগে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। শুরু হয় প্রতিবাদ আন্দোলন। তা সত্ত্বেও মোদি সরকারের মনোভাব পালটায়নি।
১৯৩১ সালে বরানগরে এই সংস্থার গোড়াপত্তন করেন বিশিষ্ট সংখ্যাতত্ত্ববিদ প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশ। সেই থেকে সংস্থাটি চলছে ‘সোসাইটি’ হিসাবে। ১৯৫৯ সালে কেন্দ্র আইএসআই আইন তৈরি করলেও সংস্থার সোসাইটি চরিত্র অটুট থাকে। অন্যদিকে, মোদি সরকার একেবারে নতুন বিল এনে সেই ‘সোসাইটি’ চরিত্রই তুলে দিয়ে সংস্থাটি ‘কর্পোরেট’ মডেলে চালাতে মরিয়া। প্রস্তাবিত নয়া ব্যবস্থায় ডিরেক্টরকে বলা হবে ‘সিইও’! আইএসআই পরিচালন কর্তৃপক্ষ হল কাউন্সিল। ৩৩ সদস্যের কাউন্সিলে কেন্দ্রীয় সরকার মনোনীত প্রতিনিধিরা থাকেন। পাশাপাশি থাকেন আইএসআইয়ের সদস্য, কর্মী, অধ্যাপক প্রভৃতির ভোটে নির্বাচিত ব্যক্তিরা। সেই ব্যবস্থা তুলে দিয়ে নতুন আইনে কেন্দ্রীয় সরকার মনোনীত বোর্ড অব গর্ভনরস আইএসআই পরিচালনা করবে।
প্রথম থেকেই আইএসআইয়ের সদর দপ্তর বরানগরে। দিল্লি, বেঙ্গালুরু, চেন্নাই, তেজপুর প্রভৃতি জায়গায় আইএসআইয়ের শাখাগুলি এখান থেকেই নিয়ন্ত্রিত হয়। আইএসআইয়ের প্রবীণ অধ্যাপক অরিজিৎ বিষ্ণু জানান, সংস্থার সদর দপ্তর বরানগরেই থাকবে যে নতুন আইনের কোথাও তা স্পষ্ট করা নেই। আইএসআইয়ের বিভিন্ন সেন্টার থাকার কথা বলা হয়েছে। সেন্টারগুলি হবে ‘স্বশাসিত’। সেগুলিতে পৃথক ডিরেক্টর, ম্যানেজমেন্ট কাউন্সিল প্রভৃতি থাকবে। বিদেশে নিজস্ব উদ্যোগে বা যৌথভাবে শাখাও খুলতে পারবে নবরূপের আইএসআই। পি সি মহলানবিশ প্রতিষ্ঠিত আইএসআই শেষপর্যন্ত একটি সেন্টারে পরিণত হবে কি না সেটাই আশঙ্কার ব্যাপার।
আইএসআইয়ের অধ্যাপকদের আরও একটি বড়ো আশঙ্কা হল, নতুন আইন কার্যকর হলে গরিব ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের এখানে পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে যাবে। এখন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর বিভিন্ন কোর্সে যাঁরা ভরতি হন তাঁদের কোনো টিউশন ফি দিতে হয় না। এমনকি তাঁদের মাসে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত স্কলারশিপ বা ছাত্রবৃত্তি দেওয়া হয়। অন্যদিকে আইআইটি, এনআইটি-সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়তে প্রতি সেমেস্টারে লক্ষাধিক টাকা খরচ করতে হয়! নতুন আইনে পড়ুয়াদের কাছ থেকে ফি আদায়-সহ বিভিন্ন খাতে অর্থ উপার্জনের সংস্থান রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি হবেন সংস্থার ভিজিটর। কেন্দ্রীয় সরকারের পরামর্শে বোর্ড অব গভর্নরসের চেয়ারপার্সন তিনিই নিয়োগ করবেন। এই বোর্ডে তিনজন কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিক থাকবেন। চারজন সংখ্যাতত্ত্ববিদকে মনোনীত করবেন চেয়ারপার্সন। আইএসআইয়ের ডিরেক্টর-সহ সংস্থার মোট চারজন অধ্যাপক বোর্ডে থাকবেন।