Bartaman Logo
৭ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

টাকা দিচ্ছে না কেন্দ্র, সরব সিপিএম প্রার্থী রামজীবন , খণ্ডঘোষে প্রচার-যুদ্ধে ব্যাকফুটে বিজেপি

দিনমজুরের কাজ করেন খণ্ডঘোষের সিপিএম প্রার্থী রামজীবন রায়। তাই ১০০ দিনের কাজের গুরুত্ব তিনি ভালই বোঝেন।

টাকা দিচ্ছে না কেন্দ্র, সরব সিপিএম প্রার্থী রামজীবন , খণ্ডঘোষে প্রচার-যুদ্ধে ব্যাকফুটে বিজেপি
  • ১ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:০৪

সুখেন্দু পাল, খণ্ডঘোষ: দিনমজুরের কাজ করেন খণ্ডঘোষের সিপিএম প্রার্থী রামজীবন রায়। তাই ১০০ দিনের কাজের গুরুত্ব তিনি ভালই বোঝেন। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এই প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় গ্রামের বহু প্রান্তিক পরিবার সমস্যায় পড়েছে। রামজীবনবাবু সেই সমস্যার কথাই প্রচারে বেশি করে তুলে ধরছেন। বেরুগ্রামের বাড়িতে বসে তিনি বলেন, বিজেপি গরিব মানুষের কথা ভাবে না। এভাবে এই প্রকল্পের কাজ বন্ধ করা উচিত হয়নি। ওরা প্রান্তিক পরিবারগুলিকে সমস্যায় ফেলতে চেয়েছে। এর জবাব বিজেপি নেতাদের দিতে হবে। তবে, মানুষ জবাব দেবে ইভিএমে। 

Advertisement

খণ্ডঘোষে অবশ্য বিজেপিকে সেভাবে প্রচারে দেখা যাচ্ছে না। কেশবপুর হোক কিংবা পাঠানপাড়া, কোথাও তাদের দেওয়াল লিখন বা পতাকা দেখা যাচ্ছে না। তবে, তৃণমূলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সিপিএমের দেওয়াল লিখন দেখা যাচ্ছে। তৃণমূল প্রার্থী প্রতিদিনই গ্রামে ঘুরে ঘুরে প্রচার করছেন। সিপিএম প্রার্থী বাড়িতে যাচ্ছেন। কিন্তু বিজেপির মধ্যে এখনো সেই ‘জোশ’ দেখা যাচ্ছে না বলে দাবি স্থানীয়দের। 
তাঁএবার খণ্ডঘোষ বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট বেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। তৃণমূলের একাংশ এখনো প্রচারে নামেনি। প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পরই খণ্ডঘোষের ব্লক তৃণমূল সভাপতি অপার্থিব ইসলাম বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তিনি প্রচারে নামবেন না বলে সেদিন জানিয়ে দেন। মঙ্গলবার পার্টি অফিসে বসে তিনি বলেন, আমি আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছি। পাশে বসে থাকা পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের জনস্বার্থ দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায়ও তাতে সম্মতি জানান। যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ভোট হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে। সব বিধানসভা কেন্দ্রে তিনিই প্রার্থী সেকথা তৃণমূল সুপ্রিমো নিজেই ঘোষণা করেছেন। তৃণমূল প্রার্থী নবীনচন্দ্র বাগ বলেন, মানুষ আমাদের সঙ্গে রয়েছে। উন্নয়নমূলক কাজ দেখেই মানুষ ভোট দেবে। 
খণ্ডঘোষ বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে গলসি-২ ব্লকের সাতটি পঞ্চায়েত রয়েছে। বাকি ১০টি পঞ্চায়েত খণ্ডঘোষ ব্লকের মধ্যে। গত লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে তৃণমূল সব পঞ্চায়েত এলাকাতেই এগিয়ে রয়েছে। গলসির সাতটি পঞ্চায়েত এলাকায় মার্জিন কিছুটা কম ছিল। ওই ব্লকের তৃণমূলের ব্লক সভাপতি শৈলন্দ্র সাঁই অবশ্য বলেন, এবার মার্জিন আরও বাড়বে। 
এলাকার রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, বামেরা প্রান্তিক পরিবারের যুবককে প্রার্থী করে মাস্ট্রারস্ট্রোক দিয়েছেন। সহজেই তিনি গ্রামে পৌঁছে আমজনতার কথা বলতে পারছেন। তাঁদের সমস্যার কথা শুনছেন। সিপিএম প্রার্থী আরও বলেন, আমাদের দলের যাঁরা বিজেপিতে গিয়েছিল, তাঁরা ফিরে আসছেন। যুবক-যুবতীদের মধ্যে ভাল সাড়া পাচ্ছি। বিজেপি প্রার্থী গৌতম ধাড়া বলেন, খণ্ডঘোষের সঙ্গে আমার বহুদিনের সম্পর্ক। এই এলাকার মানুষ পরিচিত। প্রচার শুরু করে দিয়েছি। প্রতিটি গ্রামে গিয়ে এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলব। এই এলাকা কৃষির উপর নির্ভরশীল। অথচ চাষিরা ধান ও আলুর দাম পাচ্ছেন না। তাঁরা সমস্যায় রয়েছেন। এর প্রতিফলন ইভিএমে দেখা যাবে।  বর্ধমানের খণ্ডঘোষে সিপিএম প্রার্থী রামজীবন রায়ের প্রচার।

সম্পর্কিত সংবাদ