নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: তিন মাস পর খুলছে জঙ্গল। সঙ্গে পুজো দোরগোড়ায়। ফলে জঙ্গল খুললেই ডুয়ার্সে ঢল নামবে পর্যটকদের। স্বাভাবিকভাবেই বনকর্মীদের মধ্যে এখন ব্যস্ততা তুঙ্গে। গোরুমারায় বেড়াতে এসে পর্যটকদের যাতে বন্যপ্রাণী দর্শন মিস না হয়, সেই লক্ষ্যে চলছে ওয়াচ টাওয়ার মেরামত। তাতে পড়ছে রঙের প্রলেপ। পড়ন্ত বিকেলে হাতি-গন্ডার জঙ্গলের ভিতরে যেখানে জল খেতে আসে, সেসব জলাশয় চত্বর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার কাজ শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে বন্যপ্রাণীদের জন্য তৈরি হচ্ছে সল্ট-পিট। হাতি-গন্ডার নুন খেতে এলে ওয়াচ টাওয়ার থেকে পর্যটকরা যাতে ভালোভাবে তাদের দেখতে পান, এমন জায়গাতেই বানানো হচ্ছে সল্ট-পিট। গোরুমারায় পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ, কালীপুর থেকে মেদলা ওয়াচ টাওয়ার পর্যন্ত মোষের গাড়িতে চড়ে যাওয়া। জঙ্গল খুললেই যাতে পর্যটকরা মোষের গাড়িতে চড়তে পারেন, চলছে তারও তোড়জোড়। রামসাইয়ে শুরু হয়েছে মোষের গাড়ি মেরামত। হচ্ছে রং। সংস্কার হচ্ছে কার সাফারির রাস্তা। বর্ষায় সাফারি রুটে অনেক জায়গাতেই ঘাস, আগাছা জন্মেছে। সেসব কেটে সাফ করার কাজ চলছে জোরকদমে।
গোরুমারার ডিএফও দ্বিজপ্রতিম সেন বলেন, তিন মাস বন্ধ থাকার পর ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য জঙ্গল খুলে যাচ্ছে। তারপরই পুজো। ফলে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে আমরা তৈরি। জঙ্গলে ওয়াচ টাওয়ার মেরামত থেকে রং, সাফারির রাস্তা, জঙ্গলে বন্যপ্রাণীদের জল খাওয়া, স্নানের জলাশয় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা, সল্ট পিট তৈরি সবটাই হচ্ছে। আশা করি, পুজোর মরশুমে যাঁরা গোরুমারায় বেড়াতে আসবেন, তাঁরা খুব ভালোভাবে বন্যপ্রাণীর দর্শন পাবেন।
গোরুমারায় শতাধিক হাতি তো আছেই, পূর্ণবয়স্ক গন্ডারের সংখ্যা ৬১টি। জঙ্গল বন্ধ থাকাকালীন দু’টি গন্ডার শাবকের জন্ম হয়েছে। মেদলায় সন্তান প্রসব করেছে কুনকি হাতি রামি। পিলখানাতেই কন্যাসন্তানের সঙ্গে দেখা মিলবে তার। সেখানেই পর্যটকদের সঙ্গে পরিচয় হবে বনদপ্তরের বাকি কুনকি আমনা, অরণ্য, রাজা ও ডায়নার সঙ্গে। এছাড়া চারপাশে বাইসন, হরিণ, ময়ূর অগুনতি। ধূপঝোরাতেও রয়েছে আলাদা একটি পিলখানা। ফলে গোরুমারায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের বন্যপ্রাণ দেখে মন ভরে যাবে বলে মনে করছেন বনকর্তারা।
রামসাইয়ের মোষের গাড়ির চালক সোনাতু রায়, চন্দন রায় ও সুজয় রায় বলেন, কালীপুর ইকো কটেজ থেকে মেদলা ওয়ার টাওয়ার পর্যন্ত প্রায় এক কিমি জঙ্গলপথে পর্যটকদের মোষের গাড়িতে নিয়ে যাই আমরা। আগে ১০টি মোষের গাড়ি থাকলেও এখন ছ’টি চলছে। আসা-যাওয়ার ভাড়া মাথাপিছু ৬০ টাকা। জিপসি থেকে নেমে মোষের গাড়িতে চেপে ওয়াচ টাওয়ারে যাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করতে না চাওয়ায় পর্যটকদের অনেকেই মেদলায় সাফারি করতে পছন্দ করেন। আমাদেরও দু’টো পয়সা রোজগার হয়। সেকারণে জঙ্গল খোলার একসপ্তাহ আগে থেকেই মোষের গাড়ি মেরামত শুরু করে দিয়েছি। পুজোয় এখানে প্রচুর পর্যটক আসবেন বলে আমাদের আশা। নিজস্ব চিত্র।