নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সুব্রত ভট্টাচার্য, ভাস্কর গাঙ্গুলি, গৌতম সরকার, কম্পটন দত্ত— তালিকা বেশ লম্বা। যুবভারতীতে ফুটবলের মহোৎসবে ব্রাত্য প্রাক্তনদের একাংশই। কেউ অভিমানী, কেউ বা ফুঁসছেন ক্ষোভে। দেশ কিংবা ক্লাবের জার্সিতে বহু ঘাম, রক্ত ঝরিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু শনিবার সন্ধ্যায় ফুটবলের মক্কা ভুলেই গেল তাঁদের! হতাশ সুব্রত বললেন, ‘কেউ আমন্ত্রণ জানায়নি। মাঠে যাওয়ার প্রশ্নই নেই। ফুটবল খেলে হয়তো ভুল করেছি আমরা। নিজেকে ছোটো মনে হচ্ছে।’ মুঠোফোনে কম্পটন দত্ত জানালেন, ‘জাতীয় দলের প্রাক্তনী হিসাবে লজ্জা বোধ হচ্ছে। অথচ আগ বাড়িয়ে টিকিট দেওয়ার জন্য ফেডারেশন কর্তারা ফোন করেছিলেন। আমরা তো টিকিট লোভী নই।’
কিন্তু এই হাল কেন? ঘটা করে প্রাক্তনদের আমন্ত্রণের সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল ফেডারেশন। আইএফএ’কে তালিকা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়। সূত্রের খবর, বঙ্গ ফুটবল সংস্থা সেই লিস্ট পাঠিয়েও দিয়েছিল ফেডারেশনে। কিন্তু টিকিট পৌঁছায়নি বাবলু, ভাস্করদের হাতে। ময়দানি অভিজ্ঞমহলের ধারণা, এটা সিস্টেমের গলদ। অনলাইনে টিকিট পাঠানো হয় প্রাক্তনদের কাছে। নির্দিষ্ট অ্যাপ ডাউনলোড করলেই তা পাওয়ার কথা। কিন্তু শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততায় সেই তথ্য পৌঁছায়নি প্রাক্তনদের কাছে। অনেকেই সেভাবে প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ নন। কেউ অসুস্থ। এইভাবে টিকিট ডাউনলোড করে মাঠে আসা তাঁদের পক্ষে অসম্ভব। তাঁদের সম্মান জানিয়ে খামবন্দি টিকিট বাড়িতে পৌঁছে দিলে মহাভারত অশুদ্ধ হত না। তাছাড়া কার পার্কিংও বড়ো সমস্যা। ১৯৮২ এশিয়াডে ভারতীয় দলের অধিনায়ক ভাস্করের পায়ের সমস্যা দীর্ঘদিনের। গাড়ি ছাড়া স্টেডিয়ামে আসা সমস্যার। ভাস্কর বললেন, ‘টিকিট পাঠানো হয়েছে সেটাই তো কেউ জানায়নি। ‘কার পার্ক’ তো অনেক দূরের কথা।’ ক্ষুব্ধ গৌতম সরকার বলেই দিলেন, ‘টিকিট দেওয়ার প্রায়োজন মনে করেনি ফেডারেশন। এই অপমানই হয়তো প্রাপ্য ছিল। দেশের হয়ে কম লড়াই করিনি। সমর্থকরা আজও তা মনে রেখেছেন। কিন্তু ফেডারেশন কর্তারা নয়।’