অম্বরীশ চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: চোয়াল নড়ছে অনবরত। মুখে চিউইংগাম। গ্যালারির দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে ডাগ-আউটে বসে পড়লেন ডন কার্লো। ফুটবলের মক্কায় কার্লো আনসেলোত্তির রাজ্যপাট। অভিজ্ঞ কোচ বরাবরই আবেগহীন। মাথায় বরফ চাপিয়ে কোচিং করেন। বিশ্বকাপে প্রবল চাপেও মেজাজ হারাননি। শনিবারের যুবভারতীতে ইতালিয়ান কোচের বডি ল্যাঙ্গুয়েজে প্রবল আত্মবিশ্বাস। তাতে অহমিকা নেই। কার্লো আনসেলোত্তি বললেন, ‘হতাশ হওয়ার কিছু নেই। ভারতীয় ফুটবল প্রবল সম্ভাবনাময়। সঠিক পরিকল্পনা থাকলে অবশ্যই এগোনো সম্ভব।’ ফেডারেশন কর্তারা কী অভিজ্ঞ কোচের কথা শুনতে পেলেন?
ফিফা র্যাংকিংয়ে ব্রাজিলের চেয়ে ১৩২ ধাপ পিছিয়ে ভারত। আনোয়ারদের হারানোর কিছুই ছিল না। ব্লু টাইগার্সের জার্সিতে সমানতালে চেঁচিয়ে গেল গ্যালারিও। যুবভারতীর আবেগকে কুর্নিশ জানাতে ভুললেন না ভিনিসিয়াস, মার্কুইনহোসরা। ম্যাচ শেষে যুবভারতীর গ্যালারির উদ্দেশে হাততালি দিয়ে ধন্যবাদ জানালেন তাঁরা। মুড দেখে ব্রাজিল কোচও মুগ্ধ। ফুটবল দুনিয়া গুলে খেয়েছেন আনসেলোত্তি। তবে কলকাতা অন্যতম স্পেশাল। ডন কার্লোর ছোট্ট মন্তব্য, ‘এই শহরের আবেগই আলাদা। ভারতীয় ফুটবলারদের লড়াইকে কুর্নিশ জানাই।’ একটু থেমে তাঁর সংযোজন, ‘মাঠ ও পরিবেশ সত্যিই অসাধারণ। আন্তরিকতার তুলনা নেই।’ ব্রাজিল কোচের প্রশংসা যুবভারতীর মুকুটে রঙিন পালক হয়ে রইল। সেলেকাও ব্রিগেডের ছায়াসঙ্গী ব্রাজিলিয়ান মিডিয়াও মুগ্ধ। বলে গেলেন, কলকাতা সফর চিরকালের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
ব্রাজিল কেমন খেলল? এস্তেভাও, ভিনিসিয়াস, এনড্রিক সমৃদ্ধ আক্রমণভাগ সামলানো বেশ কঠিন। বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর দলকে নতুনভাবে সেট করার চেষ্টায় আনসেলোত্তি। স্কোয়াডে একগাদা নতুন মুখ। সিস্টেমের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সময় লাগবেই। তবে সবার আগে জেতার অভ্যাস তৈরি করা জরুরি। প্রতিটি ফ্রেন্ডলি ম্যাচকেই তাই সমান গুরুত্ব দিচ্ছে ব্রাজিলের টিম ম্যানেজমেন্ট। ২০৩০ পর্যন্ত কার্লো আনসেলোত্তির সঙ্গে চুক্তি রয়েছে ব্রাজিল ফুটবল সংস্থার। আপাতত পরের কোপা আমেরিকাই পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রধান টার্গেট। এক্ষেত্রে অভিজ্ঞ কোচের মন্তব্য, ‘জুনিয়রদের বড়ো সুযোগ নিজেদের প্রমান করার। আশা করি ওরা হতাশ করবে না।’